কালিগঞ্জে পুত্রের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে পিতার মামলা!


প্রকাশিত : January 20, 2013 ||

নিয়াজ কওছার তুহিন: ব্যাংক থেকে উঠানো ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে পুত্র ও নাতি। কালিগঞ্জ থানায় এমনই অভিযোগ করেছে বৃদ্ধ পিতা। পুলিশ মামলা নিলেও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার কিংবা ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করতে পারেনি।
থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের মৃত খতিব গাজীর ছেলে বাবর আলী গাজী (৭০) তার সমুদয় সম্পত্তি ৪ ছেলে ও ৭ মেয়ের মাঝে বণ্টন করে দেন। এরপরও সন্তানরা তার ভরণপোষণ না করে উল্টো অমানবিক আচরণ করতে থাকে। বাধ্য হয়ে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলার কুশলিয়া গ্রামে বসবাস করছিলেন। এদিকে বাবর আলী তার ছোট ছেলে রিপনের অংশের ৪২ শতক জমি বিক্রি করে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ইসলামী ব্যাংক কালিগঞ্জ শাখায় ২২৯৯৪ নং একাউন্টে জমা রাখেন। তিনি এর লভ্যাংশ দিয়ে চিকিৎসার খরচ চালাচ্ছিলেন। টাকা জমা রাখার বিষয় জানতো বাবর আলী গাজীর ছেলে আজমীর হোসেন (২৫) এবং নাতি আশরাফুল ইসলাম (২০)। তারা ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা দু’জন সহজ-সরল বাবর আলী গাজীকে বেশী লাভ পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিবর্তে পোস্ট অফিসে ওই টাকা রাখার পরামর্শ দেয়। সরল বিশ্বাসে অসুস্থ বাবর আলী গত ২১ নভেম্বর ভ্যান যোগে ছেলে আজমির হোসেন ও নাতি আশরাফুল ইসলামের সাথে ইসলামী ব্যাংক কালিগঞ্জ শাখায় আসেন। তিনি টাকা উঠানোর জন্য ৬ লাখ টাকার চেক লিখে আজমির হোসেনের কাছে দেন। কিন্তু একাউন্টে কিছু টাকা কম থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক ফেরত দেন। পরবর্তীতে ওই চেকটি নিজের কাছে রেখে অপর একটি চেকে পিতার কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে আজমীর। টাকা নিয়ে পোস্ট অফিসে যাওয়ার সময় অসুস্থ বাবর আলীর নিকট থেকে সব টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায় তার ছেলে আজমির হোসেন ও নাতি আশরাফুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে টাকা ফেরত না পেয়ে অসহায় বাবর আলী কালিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা মিললেও আজমির ও আশরাফুল টাকা ফেরত দেয়ার শর্তে থানা থেকে সময় নিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এর পাশাপাশি বৃদ্ধ পিতাকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য নানা ভাবে হুমকি দিতে থাকে। তাছাড়া স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ২ লাখ টাকা কমিশন চুক্তিতে মামলা রেকর্ড বন্ধ করার জন্য প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। এদিকে দীর্ঘ দিনেও টাকা ফেরত না দেয়ায় অবশেষে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ মাসুদ গত ১৮/০১/১৩ তারিখে কালিগঞ্জ থানায় মামলা রেকর্ড করেছেন (মামলা নম্বর : ২৫)।