গা’ঢাকা দিয়েছে নারানজোলের শিশু নির্যাতনকারি আবু বক্কার


প্রকাশিত : January 21, 2013 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নারানজোল গ্রামের শিশু নির্যাতনকারী আবু বক্কর পালিয়েছে। সে ওই গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আটকের উদ্দেশ্যে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এছাড়া সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এলাকার কথিত মাতবররা।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক জুলফিকার আলী জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর ভোরে বাড়ির পাশের মসজিদে আরবি পড়তে যায় একই এলাকার সাত বছরের একটি শিশু। পড়া শেষে সবাই চলে আসলেও তাকে মসজিদ ঝাড়– দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আটকে রাখে ওই শিক্ষক। এক পর্যায়ে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য মাতব্বরদের অপতৎপরতা শুরু হয়। বিচার শালিসের মাধ্যমে মিটিয়ে দেওয়ার নামে সময়ক্ষেপণ এবং দেনদরবার চলতে থাকে। হুমকি ধামকি আর মুখ খুললে দেখে নেওয়ার জন্য নানাভাবে শাসাতে থাকে নির্যাতিত পরিবারকে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গ্রাম্য মাতবররা শিশু নির্যাতনকারির পক্ষ নিয়ে নির্যাতিত পরিবারকে চাপের মুখে রাখার এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় পুলিশকে ম্যানেজ করার নামে স্থানীয় মাতবর এবং আলিপুরের আরেক মাতবরের মাধ্যমে শুরু হয় অবৈধ অর্থের হলি খেলা।
অভিযোগ রয়েছে, আলিপুরের মাতবরের মাধ্যমে সদর থানার এসআই আকরাম হোসেনের মধ্যস্থতায় পুলিশকে ম্যানেজ করে মামলা থেকে নিবৃত রাখার চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে জেলার গণমাধ্যম কর্মীরা তৎপর হয়ে উঠলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে গত ১৫ জানুয়ারি রাতে সদর থানার এসআই জুলফিকার ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জকে জানালে ওই রাতেই মামলা রেকর্ড করে ফোনে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
আলোচিত শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই জুলফিকার জানান, মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই শিশু নির্যাতনকারি আবু বক্কর গা ঢাকা দিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে দাবি করে তিনি বলেন, নির্যাতিত পরিবার নিরাপত্তার সাথে বসবাস করছে। আসামির সন্ধান পেলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, আনুমানিক ৫/৬ বছর পূর্বে আবু বক্করের বিরুদ্ধে আরও একটি নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। একটি ঘটনায় মামলাও হয়। এ মামলায় এলাকার দুই মাতবর বিনা কারণে জেল খেটে বাড়ি ফিরেছে।