জেলায় পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটে জিম্মি ক্রেতা সাধারণ, তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে খুচরা বিক্রেতারা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২২, ২০১৩ ||

আব্দুস সামাদ: সোমবারও জেলার ১৪টি পেট্রোল পাম্পে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালিত হয়েছে। এই সুযোগে খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতাদের জিম্মি করে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। রোববার পাম্প মালিকেরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলন করে কমিশন বৃদ্ধিসহ ৮ দফা দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেন পাম্প মালিকেরা।
পাম্প মালিক ঐক্য পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে ট্যাঙ্কলরির ভাড়া বৃদ্ধি, চালকদের বিশেষ বিবেচনায়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ান, চালকদের প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম পরিশোধ সাপেক্ষে পাঁচ লাখ টাকার দুর্ঘটনা বীমা চালু, পেট্রোল পাম্প স্থাপনে বিপিসির নীতিমালা সংশোধন, চট্টগ্রাম, ফতুল্লা, দৌলতপুর, চাঁদপুর ও সিলেটে টার্মিনাল নির্মাণ এবং ঢাকা গোদনাইলে পদ্মা ও মেঘনার টার্মিনাল সংস্কার, জ্বালানি তেলের ভেজাল রোধে বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ, বিএসটিআইর টলারেন্স মাত্রা যৌক্তিক হারে নির্ধারণ এবং শ্রমিক নেতা মীর মোকসেদ ও আমির হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার অন্যতম।
সরকার গত ৩ জানুয়ারি চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ থেকে সাত টাকা বাড়ানোর পর বিতরণ কোম্পানিগুলোর কমিশনও তিন থেকে পাঁচ পয়াসা বাড়ানো হয়। পেট্রোলের দাম ৯৬.১০ পয়সা, ডিজেল ৬৮.১০ পয়সা ও অকটেন ৯৯.১০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ডিজেল বিক্রির কমিশন ৩ দশমিক ৪০ এবং পেট্রোল ও অকটেনের কমিশন ৪ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে আসছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে তারা ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেট্রোলে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অকটেনে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে কমিশন পান।
পাম্প মালিকরা জানান, কমিশনসহ অন্যান্য দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। তারা আরো জানান, জেলায় ১৪টি পাম্পে প্রতিদিন গড়ে ২৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৬০ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হয়। কিন্তু জেলার পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন না পেয়ে বিপাকে পড়েছে মোটর সাইকেল, বাস-ট্রাকসহ জ্বালানি তেল নির্ভর সকল যানবাহন। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা রকসি সিনেমা হলের বিপরীতে খুচরা পেট্রোল ক্রয়ের সময় মোটর সাইকেল মালিক আব্দুস সালাম জানান, ধর্মঘটের সুযোগে খুচরা বিক্রেতারা পেট্রোল লিটার প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করছে। প্রয়োজনের তাগিদে আমরা বেশি টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছি। অন্যান্য তেলের দামও বৃদ্ধি করে বিক্রয় করছে খুচরা বিক্রেতারা।