সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা : বাস্তবতা, উদ্যোগ ও স্থায়িত্বশীলতা বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপ অনুষ্ঠিত


প্রকাশিত : January 23, 2013 ||

আব্দুস সামাদ: প্রতিবছর নদী ও খাল খননে মোটা অংকের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তদারকি না থাকায় অর্থের সঠিক ব্যবহার হয় না। তাই মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। তদারকি বাড়াতে হবে। যে সব স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে মাছ চাষ করলে অর্থনৈতিকভাবেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সাতক্ষীরার মানুষকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে এবং এই জনপদের কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ‘সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা : বাস্তবতা, উদ্যোগ ও স্থায়িত্বশীলতা’ বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা আরো বলেন, নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল জনসাধারণের মাধ্যমে মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। ১৯২৭ সালের ম্যাপের মাধ্যমে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে তা উদ্ধার করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত স্লুইচ গেট তুলে নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে।
বক্তারা বলেন, প্রকৃত দেশ প্রেমিক যারা, তারা কখনো নদী খাল দখল করতে পারে না। দখল হওয়া নদী ভূমিদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে এবং যারা এই ধরনের দখল কাজের সাথে জড়িত তারে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো, সরকারি কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, নদী খাল বন্দোবস্ত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিরা, যারা এই কাজের সাথে জড়িত তাদের কর্মকাণ্ড জনগণের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সকল রাজনৈকিত নেতাদের এক জোট হয়ে কাজ করতে হবে। জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রগতি, অক্সফাম, নারী কনসোর্টিয়াম, ইউকে এইড, ইসলামিক রিলিফ, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, কেয়ার, স্বদেশ, সলিডারিটি ইন্টারন্যাশনাল এবং একশন এইড সম্মিলিতভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি এমএ জব্বার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোলায়মান আলী ও জেলা জাতীয় পর্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন।
বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর নিজেস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যনার্জি, দৈনিক পত্রদূত’র সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি আনিসুর রহিম, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর সুকুমার দাস, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহানাজ পারভীন মিলি, জেলা ন্যাপের সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান, জেলা বাসদের সংগঠক নিত্যানন্দ সরকার, জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি, জেলা সিপিবির সম্পাদক আবুল হোসেন, সুজনের জেলা সম্পাদক প্রভাষক ইদ্রিস আলী, জাসদ নেতা এড. আজাদ হোসেন বেলাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কাজেম আলী, ইসলামিক রিলিফের প্রকল্প কর্মকর্তা আলী হোসেন ও টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রগতি’র সম্পাদক আশেকই এলাহী।
এ সময় নদী দখল মুক্ত করে সরকারি দখলে আনা, কপোতাক্ষ নদী খনন করে মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে যুক্ত করে প্রবাহমান করা, শাখরা-কোমরপুর স্লুইচ গেট অপসারণ করে লাবণ্যবতী নদী হয়ে টিকেট এবং কলকাতার খাল-সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়র’র মধ্য দিয়ে খেজুরডাঙ্গির স্লুইচ গেট অপসারণ করে বেতনার সাথে যুক্ত করা, হাড়দ্দাহ স্লুইচ গেট অপসারণ করে ইছামতির প্রবাহ সাপমারা হয়ে পারুলিয়া ব্রিজের নিচ দিয়ে কামাল কাটি হয়ে মরিচ্চাপের সাথে যুক্ত করা, কালিগঞ্জের ইছামতি-আদি যমুনা-মাদার নদীর সংযোগ সচল করে সাগরে যুক্ত করা, কালিগঞ্জে ইছামতি-আদি যমুনা-মাদার নদী-কাকশিয়ালী নদী বাশতলার পাশ দিয়ে খোলপেটুয়া নদীর সাথে যুক্ত প্রবাহকে সচল করা, কালিগঞ্জ ইছামতি আদি যমুনা কাকশিয়ালী নদী চাম্পাফুলের পাশ দিয়ে বুধহাটা খাল হয়ে মরিচ্চাপের সাথে যুক্ত প্রবাহ বাধা মুক্ত করা, বেতনা-প্রাণসায়র-এল্লারচর হয়ে মরিচ্চাপ সংযুক্ত প্রবাহ সচল করা এবং নদীর জোয়ার ভাটার বাধা অপসারণ করা এবং যেখানে সম্ভব সেখানে একটির সাথে অন্যটির পূর্বের মত সংযোগ স্থাপন করাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন বক্তারা।