শ্যামনগরে সওজ’র সম্পত্তিতে বিদ্যুৎ গতিতে এগুচ্ছে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ, সওজ কর্তৃপক্ষের নিরবতায় সাধারণ মানুষ বিস্মিত


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৩ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় আট কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তিতে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। শুরুতে সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও বুধবার থেকে হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত বুলডোজারসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে টামিনাল নির্মাণের পর এত বড় জায়গায় কোন অংশ কাকে দখল দেয়া হবে সেসব অংকও ইতোমধ্যে কষে ফেলা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মঙ্গলবার দৈনিক পত্রদূত-এ সরকারি সম্পত্তিতে অবৈধভাবে টার্মিনাল নির্মাণের খবর ফলাও করে প্রচার করায় টার্মিনাল গড়ে তোলার কাজের সাথে জড়িতরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। ওই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে দিনভর খোঁজাখুজি করে এবং হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেয়।
উল্লেখ্য প্রায় চার দশক পূর্বে সওজ কর্তৃপক্ষ আঞ্চলিক অফিস নির্মাণের জন্য উপজেলা সদরের বাদঘাটা মৌজার প্রাণকেন্দ্রের প্রায় চৌদ্দ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করে। এসময় সওজ’র পক্ষ থেকে সেখানে পাকা ইমারত নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে এসে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি চাষাবাদের নামে সনকে ইজারা নেয়ার নামে ওই সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এক পর্যায়ে জনৈক পিয়ার আলী জাল দলিল প্রস্তুত করে দীর্ঘ সতের বছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করে। গত ২০০৭ সালের পনের ফেব্রুয়ারি দৈনিক পত্রদূত-এ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে প্রশাসন’র সহায়তায় সওজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করে।
কিন্তু অতি সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে অপতিত অবস্থায় থাকা প্রায় আট কোটি টাকার ঐ সম্পত্তির উপর। ওই চক্রটি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে সওজ’র ঐ জায়গাতে বাস টার্মিনাল গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহকাল পূর্বে থেকে জাপা দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সওজ’র সম্পত্তিতে টার্মিনাল গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। শুরুতে স্থানীয়রা অত্যন্ত জনবসতিপূর্ণ এবং চতুর্দিকে বালিকা ও শিশু শিক্ষা নিকেতন বেষ্ঠিত উক্ত জায়গায় টার্মিনাল না করার জন্য স্থানীয়রা সংসদ সদস্যের দারস্থ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মিয়াসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে টার্মিনাল নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
বুধবার সরজমিনে যেয়ে দেখা গেছে, সওজ’র প্রায় চৌদ্দ বিঘা জকিমতে গড়ে ওঠা শতাধিক খেজুর গাছ কেটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া বিলের মাঝ বরাবর মাটি কেটে ট্রাকে ভরে নিয়ে এসে সামনের খালের মধ্যে ফেলে তা ভরাট করা হচ্ছে। এছাড়া ইতোমধ্যে সুবিধাভোগী গ্রুপগুলোর অনেকেই সুবিধামত জায়গা দখল করে ছোটবড় স্থাপনা তৈরী করে মুদি দোকানসহ ছোট খাট গ্যারেজ তৈরী করেছে। কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বাস টার্মিনাল নির্মাণের সাথে জড়িতরা এতবড় জায়গা থেকে বিশ/বাইশ ফুট হিসেবে পজেশন বিক্রির রুপরেখা পর্যন্ত চূড়ান্ত করেছে।
এদিকে নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সানজানার মাতা নাসরীন বানু, খাদিজা আক্তার মাতা মোসলেমা বেগমসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলে, বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে বাস টার্মিনাল নির্মাণের এমন উদ্যোগ আত্মঘাতি। তারা অবিলম্বে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও এলাকাবাসীর স্বার্থে সেখান থেকে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ বন্ধের আহবান জানিয়ে সংসদ সদস্যসহ সওজ’র কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে বাদঘাটা গ্রামের কয়েকজন গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, তারা লোকালয়ের মধ্যে বাস টার্মিনাল নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছিলেন। কিন্তু উক্ত বিশাল সম্পত্তির কোন একটি অংশে তাদেরকে বসবাস করার মত জায়গা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্লিপ্ত করা হয়েছে। নকিপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সায়াদ, আসলাম হোসেন, সোহরাব আলী, মুজিবর রহমান, আবু বক্কারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ২০০৭ সালে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার হলেও সওজ কর্তৃপক্ষ তা রক্ষণাবেক্ষণে ন্যূনতম আন্তরিকতা দেখায়নি। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, বরং এ সময়ে তারা স্থানীয়দের কিছু নগদ টাকা কড়ি দিয়ে ওই জমি ভোগ দখলের আহবান জানিয়েছিল। যে কারণে আজ মহল বিশেষ অতি উৎসাহী হয়ে এবং সওজ কর্তৃপক্ষের কোন বাধা না পেয়ে সেখানে চার্মিনাল নির্মাণের কাজ দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট সেকশন অফিসার এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের জন্য ন্যূনতম পঞ্চাশ বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছে, তারা বর্তমানে সাতক্ষীরায় কর্মরত সেকশন অফিসারসহ বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজে সহায়তা প্রদানকারী সওজ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সওজ’র প্রধান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।