শ্যামনগরে সাংবাদিক সামিউল মনিরকে হত্যার চেষ্টা!


প্রকাশিত : মার্চ ১, ২০১৩ ||

পত্রদূত ডেস্ক: দৈনিক পত্রদূত’র শ্যামনগর প্রতিনিধি প্রভাষক সামিউল মনির সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটার দিকে এমএম প¬াজা সংলগ্ন উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনের রাস্তায় তিনি এ হামলার শিকার হন।
এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক সামিউল মনিরের ব্যবহৃত দুটি ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ভেঙ্গে ফেলে। এ ছাড়া সন্ত্রাসীরা সেখানে অবস্থানরত সামিউল মনিরের ব্যবহৃত ১৫০ সি.সি’র পালসার মটর সাইকেলটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা দ্রুত তাকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ভর্তি করে।
আহত সাংবাদিক সামিউল মনির জানান, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা শো-ডাউন শেষে এম এম প্ল¬াজার সামনে এসে দলীয় কার্যালয় চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ সময় সামিউল মনির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কুখ্যাত হাতুড়ি বাহিনীর প্রধান এবং বঙ্গবন্ধু তোরণ ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি মনিরুজ্জামান মুকুল তার পকেটে থাকা হাতুড়ি দিয়ে সামিউল মনিরের ঘাড়ে আঘাত করে। এ সময় তার সাথে থাকা সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ক্যামেরা ও একটি ভিডিও ক্যামেরা ও দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ছুড়ে মেরে ভেঙ্গে ফেলে। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা আব্দুর রব ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাই কামরুল হায়দার নান্টুসহ আরও কয়েকজন লোহার রড ও বন্দুকের বাট দিয়ে সামিউল মনিরের উপর এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা সামিউল মনিরের ব্যবহৃত পালসার মটর সাইকেলটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে গতকাল রাত নয়টায় (তের মিনিট) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল সমাবেশ করে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে অভিযুক্ত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের পক্ষে সমর্থন জানায়।
শ্যামনগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সামিউল মনির জানান, গতকাল দুপুরের পরপরই জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় ঘোষণা হয়। এ ঘটনার পর উপজেলা জামায়াতের নেতারা বংশীপুর, গোডাউন মোড়, সোনার মোড়, নওয়াঁেবকী, খানপুর, ভেটখালী ও কাশিমাড়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্তরে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এ সময় তারা এ ধরনের রায় প্রত্যাখ্যান করে পুনর্বিচার দাবি করে। এ দিকে এ রায় কে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা মিছিল করে।
সামিউল মনির আরও জানান, দুপুরে রায় ঘোষণার পরপরই এ রায় কে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে নওয়াবেঁকী বাজারে ক্ষুব্ধ সাঈদী সমর্থকরা আটুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করে এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে পুলিশ যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীদের সাথে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ পিছু হটলে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।
এদিকে একই সময়ে খানপুর ও বংশীপুরে ক্ষুব্ধ সাঈদী সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যান চলাচলে বাধা দিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পঁচিশ/ত্রিশটি মটর সাইকেল নিয়ে খানপুর থেকে বংশীপুর শো-ডাউন দিতে শুরু করে। এ সময় শো-ডাউনে অংশগ্রহণকারী প্রায় প্রতিটি মটর সাইকেল আরোহীর কাছে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বেশ কিছু বন্দুক বহন করতে দেখা যায়।