শ্যামনগরে হরতালে মানুষের মাঝে অজানা আতংক


প্রকাশিত : মার্চ ৪, ২০১৩ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: রোববার শ্যামনগরে জামায়াতের হরতালে স্বল্প কিংবা দূর পাল¬ার কোন যানবাহন চলাচল করেনি। হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্পটে জামায়াতের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মিছিল সমাবেশ করে। এ সময় মানুষের মধ্যে চরম আতংক দেখা দেয়।
এদিকে হরতালকে সফল করতে শ্যামনগর উপজেলার জাহাজঘাটা, খানপুর ও মুন্সিগঞ্জ সরদার গ্যারেজসহ মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছের গুড়ি ও বিদ্যুতের খুটি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। এর আগে গভীর রাত থেকে হরতাল সমর্থনকারীরা জাহাজঘাটা ও মৌতলা সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রাস্তায় কাঠ ও বিদ্যুতের খুটি ফেলে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সকালে সরজমিনে যেয়ে দেখা যায়. সূর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে শ্যামনগর-কালিগঞ্জ মহাসড়কের মৌতলা ও জাহাজঘাটা এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের শে¬াগান দিতে থাকে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান, আবুল কাশেম, মাজেদা বেগম, রোকসানা পারভীন, আবীর হোসেন, বাবু প্রমুখ।
এছাড়া সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার নওয়াবেঁকীতে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তিন দফা মিছিল সমাবেশ করে। তবে মিছিল সমাবেশ চলাকালে উত্তর দিকে প্রায় ত্রিশ পয়ত্রিশ জন পুলিশকে শিমুরেজা এমপি কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় নির্বিকারভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া দক্ষিণ দিক হতে শ্যামনগর থানা থেকে পুলিশের একাধিক টহল টিম জাহাজঘাটা এলাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেও বাধার মুখে নিরাপদ দূরত্বে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়। সেখানে শ্যামনগর থানার এসআই মহিদুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম আন্দোলনকারীদের নৈরাজ্য সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় নীলডুমুরস্থ বিজিবি সদস্যরা দুইটি গাড়ি নিয়ে জাহাজঘাটাসহ উপজেলার বিভিন্ন রুটে টহল অব্যাহত রাখে।
তবে সকাল থেকে শ্যামনগর সদরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও দুপুরের পরে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকতে দেখা যায়। এছাড়া হরতালের সমর্থনে কোন মিছিল বা প্রতিবাদ সমাবেশ করতে দেখা যায়নি।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ আহসান হাবিব জানান, হরতালকে ঘিরে কাউকে কোন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে।
এ বিষয়ে উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা দৌলতুজ্জামান খান জানান, হরতালকে ঘিরে শ্যামনগরে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আল¬াহর রহমতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।