শ্যামনগরে জীবনে বাঁচতে যুবলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : মার্চ ৫, ২০১৩ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: প্রতিপক্ষের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন সোহেল রানা ওরফে ছোটবাবু নামের এক তরুণ। তার আশংকা, একই রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে যেকোন সময়ে জীবনে মেরে ফেলতে পারে। প্রতিপক্ষ তাকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। যুবলীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে কয়েকদিন পরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্ভাব্য কাউন্সিলকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাকর অবস্থার মধ্যে তাকে খতম করে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি দাবি করেন।
গতকাল বেলা এগারটায় নুরনগর বাজার সংলগ্ন নিজ বাসভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সোহেল রানা এসব অভিযোগ করেন। সপ্তাহকাল পূর্বে সন্ত্রাসী হামলায় মারাত্মক আহত থাকার কারণে নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্যে বলেন, জেলা যুবলীগের নির্দেশে তিনি বর্তমানে নুরনগর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জেলার নির্দেশ মতে স্বল্প সময়ের মধ্যে কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্নের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। এমতাবস্থায় সামনের কাউন্সিলকে ঘিরে দু’টি পৃথক প্যানেল ইতোমধ্যে প্রচারণা শুরু করায় সংগঠনের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
যুবলীগ আহবায়ক সোহেল রানা বলেন, তিনি নিজে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেয়ায় তার প্রতিপক্ষ গ্রুপ বিষয়টিকে মেনে নিতে না পেরে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর বারটার দিকে আনোয়ার সাহাদাতের নেতৃত্বে শহিদুল্লাহ, আফজাল, চোরা ওরুনসহ আট/দশ সন্ত্রাসী তার কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় চাপাতি, রাম দা, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসী হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হলে সন্ত্রাসীরা তার দু’পায়ের রগ কেটে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে তার কর্মী বাহিনী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসী চক্র পালিয়ে যায়। যদিও জনতা রাজা নামের এক সন্ত্রাসীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে থানায় সোপর্দ করে। ঐ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আহত সোহেল রানা একটি মামলাও করেন।
হাত ও পায়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সোহেল রানা দাবি করে বলেন, তার দায়ের করা মামলার এক নম্বর আসামির মাকে বাদী করে ঘটনার দু’তিন দিন পরে তিনিসহ তার কর্মী সমর্থক ১৮ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে হয়রানির উদ্দেশ্যে। মাামলাটি আদালত উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিপক্ষ আনোয়ার সাহাদাৎ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এলাকার চিহ্নিত বোমাবাঁজ ও বোমা অরুন নামে সমধিক পরিচিত অরুন মন্ডলকে ম্যানেজ করেছে তারসহ তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলার প্রস্তুতি হিসেবে।
কিভাবে তিনি এমন তথ্য জানতে পারলেন জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, আনোয়ার সাহাদাৎসহ ঐসব সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এমন ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছে। ঘটনার দিন তিনি থানায় মামলা করলেও দু’তিন দিন পর তার বিরুদ্ধে আসামির মায়ের মামলা যে উদ্দেশ্যমূলক তা দিবালোকের মত পরিষ্কার উল্লেখ করে সোহেল রানা বলেন, প্রশাসন কিংবা দলীয় হাই কমান্ড হস্তক্ষেপ না করলে তার নিজেরেসহ তার অনুসারীদের জীবন যেকোন সময়ে বিপন্ন হতে পারে।