ফের সুন্দরবনে বাঘ শাবক পাচার মামলার আসামিরা


প্রকাশিত : মার্চ ৭, ২০১৩ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবন থেকে ৩টি বাঘ শাবক পাচার মামলার আসামিদের একটি তালিকা সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের কৈখালী স্টেশন অফিসে নোটিশ বোর্ডে টানানো রয়েছে। কিন্তু ঐ মামলার অন্যতম দুই আসামি আবার সুন্দরবনে প্রবেশ করেছে। বিধি বহির্ভূতভাবে তারা বারংবার বনে প্রবেশ করলেও বনবিভাগ তাদের কোনভাবেই আটকাতে পারছে না। এদিকে এমন ভয়ংকর ব্যক্তিরা কিভাবে সবসময় বনে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছে তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
উপজেলার সোরা গ্রামের আব্দুস সালামসহ অন্যরা জানান, বাঘ শাবক পাচারকারী আইয়ুব আলী ও রুহুল আমিন গত সোমবার রাত একটার দিকে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। তারা কাঁকড়া ধরার জন্য তাদেরই নিকটাত্মীয় আলতাফ হোসেনের নৌকা নিয়ে ভেটখালীর মাদার নদী দিয়ে কৈখালী স্টেশন এলাকা হয়ে বনে প্রবেশ করে। নৌকার মালিক আলতাফ হোসেন নিজেও আইয়ুব ও রুহুল আমিনের সঙ্গী হয়েছে বলে অপর একটি সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০১২ সালের ১৯ মে এই চক্রটি সুন্দরবনে ঢুকে মা বাঘকে হত্যার পর তার ৩টি শাবক ধরে এনে আন্তার্জাতিক পাচার চক্রের হাতে তুলে দেয়। পরে ১১ জুন তারিখে শ্যামলীর একটি বাসা থেকে শাবক ৩টি উদ্ধার করা হয়। এসময় আব্দুল কাদের নামের এক যুবককেও গ্রেপ্তার করে র্যাব।
সোরা গ্রামের মতলেব হোসেন, আজিবার রহমান ও টেংরাখালী সবেদ আলীসহ অন্যরা জানান, বাঘের বাচ্চা পাচারের মত ঘটনা ঘটিয়েও তারা এখনও দিব্যি বনে যাওয়াত করছে। বাঘ পাচারের সাথে জড়িতদের এমন আচরণে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল স্থানীয়রাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমন ঘটনা (বাঘ পাচার) ঘটিয়ে শুধুমাত্র উপর মহলের আশীর্বাদে এখন পর্যন্ত আইয়ুব গং বহাল তবিয়তে আছে এবং প্রতিনিয়ত বনে ঢুকে বাঘ ও হরিণ শিকারসহ নানান অপকর্ম করছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
স্থানীয়রা জানায়, গত জানুয়ারি মাসে আইয়ুব, রইস, মনিরুল ও তাদের অপর সহযোগী জহুর একইভাবে কাঁকড়া শিকারের নামে বনে যেয়ে ফাঁসি দিয়ে হরিণ শিকার করে এলাকায় এনে তিনশ টাকা কেজির দরে মাংস বিক্রি করে। এসময় বনবিভাগ বিষয়টি অবহিত হয়ে বিভিন্ন রুটে দু’দিন ধরে ওৎ পেতে থেকেও অবৈধভাবে বনে প্রবেশকারী বাঘ পাচারকারী আসামিদের আটকাতে পারেনি। সে সময় কৈখালী স্টেশন অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একাধিক রুট থাকায় তাদেরকে আটকানো সম্ভব হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক বছরেও বাঘ শাবক পাচার মামলায় চার্জশিট প্রদান করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ মহলসহ উর্ধ্বতন এক বনবিভাগীয় কর্মকর্তা এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় নানা অজুহাতে চার্জশিট প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুতর কোন অভিযোগ না আনার বিষয়টি ইতোমধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এদিকে বাঘ পাচারেরর ঘটনার সাথে জড়িতদের এভাবে নিয়মিত বনে প্রবেশের ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহীত না হওয়ায় এলাকাবাসীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বনবিভাগের প্রতি চরম আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
তবে মামলার তদন্ত অফিসার শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক হযরত আলী জানান, প্রায় দু’মাস আগে বিষয়টি ডিবিতে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি এখন ডিবি তদন্ত করছে। তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শহিদ বেশ কয়েকবার ভেটখালীসহ সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এবিষয়ে কৈখালী সেটশন অফিসার এসএস জামালউদ্দীন বলেন, আমরা ওই মামলার আসামিদের বনে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিনা। তবে মাঝেমধ্যে গোপনে তারা বনে ঢুকলেও আটকানোর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে যারা সাক্ষী হবে তাদের জবানবন্দী লিখিতভাবে নির্ধারণ করে রাখা হবে, যাতে পরবর্তীতে নুতন স্টেশন অফিসার এখানে যোগদানের পরও সাক্ষীরা স্বীকারোক্তি বদলাতে না পারে।