কালিঞ্চি থেকে হরিণের মাংস উদ্ধারের ঘটনায় কেউ আটক হয়নি, শিকারীচক্র বেপরোয়া


প্রকাশিত : মার্চ ৭, ২০১৩ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ক্রইম জোন হিসেবে পরিচিত কালিঞ্চি গ্রাম থেকে হরিণের মাংসসহ শিকার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ নানা উপকরণ উদ্ধারের ঘটনায় আজও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। বনবিভাগ বা পুলিশ বারবার আশ্বাসের বাণী শোনালেও ওই শিকারী চক্রের টিকিটি ছোঁয়া তো দূরের কথা, তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যায়নি।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, চক্রটির সদস্যরা গত ১৫ জানুয়ারি সুন্দরবনে ঢুকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তিনটি হরিণ শিকার করে এলাকায় ফিরে আসে। ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গোলযোগের এক পর্যায়ে ওই চক্রের এক সদস্যের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনবিভাগের কৈখালী স্টেশনের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এসময় স্টেশন অফিসার এসএম জামালউদ্দীন ও আমির মল্লিকের নেতৃত্বে বনকর্মীরা হরিণের মাংসসহ শিকারী চক্রের অন্যতম সদস্য রেজা শেখকে হাতেনাতে তার বাড়ি থেকে আটক করে। এসময় আটককৃত রেজার স্ত্রী, তার ভাই রাশেদ, আনছারসহ তার সহযোগীরা বনকর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা সেখানে উপস্থিত স্বল্প সংখ্যক বনকর্র্মীদের মারধর করে রেজাকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় শিকারী চক্রের সদস্যরা বনবিভাগের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের উপর গুলি বর্ষণেরও চেষ্টা করে। ঐ ঘটনায় হরিণ শিকারের অভিযোগে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতে একটি মামলা রুজু করার পর ১৯ জানুয়ারি কর্তব্য কাজে বাধার অভিযোগ এনে শ্যামনগর থানায় আরও একটি মামলা করা হয় শিকারীদের বিরুদ্ধে (যার নং ১৯)।
কিন্তু এ ঘটনার পর প্রায় দেড় মাস অতিক্রান্ত হলেও অদ্যাবধি ঐ মামলা দু’টির একজন আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি। স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করে অভিযোগ করেছে, রেজা শেখ, রাশেদ ও জহুরসহ ঐ শিকারী চক্রের অপরাপর সদস্যরা বায়না (অর্ডার) নিয়ে কিংবা হরিণের মাংসের ব্যবসার জন্য গোপনে বনে প্রবেশ করে প্রতিনিয়ত হরিণ শিকার করছে।
এ বিষয়ে কৈখালী স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সোর্স লাগানো হয়েছে। তারা বাড়িতে অবস্থান না করায় গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, কালিঞ্চি বেশ দুর্গম এলাকা। তবে কৌশলে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।