তিন দিনব্যাপী কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি হস্তান্তর মেলা উদ্বোধন


প্রকাশিত : মার্চ ৯, ২০১৩ ||

শহীদুল ইসলাম: তিন দিনব্যাপী কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি হস্তান্তর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড.মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেছেন, মানুষের আদি পেশা কৃষি। কৃষিই সমৃদ্ধি। দেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে। জলবায়ু পরির্বতনের কারণে সেই কৃষিই আজ হুমকির সম্মুখিন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আবাদি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে। কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে খাদ্য চাহিদা। বাড়তি জনসংখ্যা খাদ্য চাহিদা মেটাতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে চাষাবাদ করতে হবে। কৃষি প্রযুক্তিকে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আবাদি জমি হ্রাসরোধে ঘর-বাড়ি ও রাস্তাঘাট পরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করতে হবে। পরিকল্পিত পরিবার গড়তে হবে। জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করে অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করতে হবে। লবণাক্ত এলাকার প্রতি ইঞ্চি মাটি উৎপাদনের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য কৃষকদের পাশাপাশি কৃষিবিদদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করার আহবান জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর চত্বরে তিন দিনব্যাপী কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি হস্তান্তর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোলাইমান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল অদুদ, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. শিশির কুমার বিশ্বাস, বিনারপোতা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, কৃষিবিদ আজহার আলী, জিএম আব্দুল গফুর, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার রায়, কৃষক শহিদুল ইসলাম, কৃষাণী ফরিদা পারভিন প্রমুখ।
মেলায় ২৭টি স্টল স্থান পায়। স্টলগুলোর মধ্যে বিনেরপোতা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, হাবিব ট্রেডার্স, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, শ্যামনগরের হায়বাদপুর আইসিএন কৃষি ক্লাব ও কৃষি নারী সংগঠন, কোয়ালিটি সাইন্টিফিক হ্যাচারি ও ফিসারিজ, সাতক্ষীরা সীড হাউস, ইটাগাছা হরিদাসের বিচালি কাটা মেশিন, গাভির দুধ দোহন মেশিন, অমলের ইনকিউবেটর মেশিন, বায়ো গ্যাস প্লান্ট, জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি, এডিপি ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ ২৭টি স্টল। মেলায় আকর্ষণীয় কৃষি উপকরণের মধ্যে রয়েছে, অসময়ের তাল, কাঁঠাল, লেবু, বিশাল আকৃতির বেগুন, বাধাকপি, ওলকপি, জলপান কচু, পালং শাক, দুম্বা, ব্লাক বেঙ্গল ছাগল, মাছ ধরার উপকরণ, বিশাল আকৃতির বাগদা, মনোসেক্স তেলাপিয়া, বারি সরিষা, বারি ভুট্টা, বারি বার্লি, বারি গম, স্ট্রবেরিসহ কয়েক’শ প্রকার কৃষি পণ্য। শ্যামনগরের হায়বাদপুর আইসিএন কৃষি ক্লাব ও কৃষি নারী সংগঠন তাদের স্টলে ২৭৫ প্রজাতির ধান ও ৫৪ প্রজাতির সবজির বীজ প্রদর্শন করে মেলায় দর্শকদের নজর কাড়ে।



error: Content is protected !!