কলারোয়ায় কোটি টাকা নিয়ে আল আমিন ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লি.’র কর্মকর্তা লাপাত্তা


প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০১৩ ||

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: কলারোয়ায় আল আমিন ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি দশ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার এড. বশির আহমেদসহ কয়েকজন গ্রাহক এ জানান, কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ এবং সাতক্ষীরা সদরের খলিলনগর গ্রামের রোকনুজ্জামান নামের দুই যুবক কলারোয়া বাজারের আলী সেটারের দোতালায় জাঁকজমকপূর্ণ অফিস খুলে বসেন। তারা অভিনব কায়দায় ৩ প্রকার বিনিয়োগের কথা প্রচার করে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে। প্রথমে সংগৃহীত আমানত স্থানীয়ভাবে জমি কিনে বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফ্লাট বিক্রি করে মুনাফা দেওয়ার কথা বলা হয়। এমনকি কোনভাবে সংগৃহীত আমানত ঢাকা বা অন্য শাখায় স্থ্ানান্তর করা হবে না বলে গ্রাহকদের নিশ্চয়তা দেয়া হয়। বরং জমি কেনার পরে কেন্দ্রীয় টাকায় ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়। এছাড়া গ্রাহকদের আমানতের জন্য আকর্ষণীয় মুনাফা ঘোষণা করা হয়। আর লোভনীয় মুনফার ঘোষণা দিয়ে আমানত সংগ্রহ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রধান আকর্ষণ ছিল এক লাখে মাসে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা। একই সাথে এফডিআর’র ৫ বছরে জমাকৃত অর্থ দ্বিগুণ করে তা গ্রাহকদের মাঝে বণ্টন করা হবে। এফডিপিএস- মাসিক ১’শ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা জমা এবং ১০ বছর মেয়াদ শেষে জমাকৃত অর্থের দ্বিগুণ ফেরত দানেরও আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া দৈনিক ১০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা সঞ্চয়ী প্রকল্পে গ্রাহকরা লাভবান হবে বলে জানায় আবু সাঈদ ও রোকনুজ্জামান গ্রাহকদের জানায়। এই সঞ্চয়ী প্রকল্পে প্রতি হাজার টাকায় মাসিক ১’শ টাকা মুনাফা। গত বছরের ২০১১ সালের জুন মাস থেকে কলারোয়ায় এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এ ছাড়া রূপা, নাসরিন, নার্গিস ও বিলকিস নামে কয়েকন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে অফিস জমজমাট করে তোলা হয়। কার্যক্রম শুরু হওয়ার ৬ মাস পরে প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড বদল করে ‘আল আমিন ফাইন্যান্স এন্ত ইনভেস্টমেন্ট লি.’ করা হয়। আকর্ষণীয় লাভের আশায় বহু মানুষ শেষ সম্বল বিক্রি করে ভাল জীবন-যাপনের আশায়, কেউবা শেষ জীবনে পাওয়া পেনসনের টাকাগুলো বিনিয়োগ করে আরও একটু ভাল থাকার আশায়, কেউবা খেয়ে না খেয়ে দৈনিক সঞ্চয় গড়ে তোলে। এ ভাবে প্রায় ৫০ জন এফডিআর গ্রাহক, ৪০ জন এফডিপিএস এবং প্রায় ২৫ জন দৈনিক সঞ্চয়ী প্রকল্পে আমানত করে। এভাবে আনুমানিক এক কোটি ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আল আমিন ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এর প্রতারক চক্র। গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে ম্যানেজার এবং ক্যাশিয়ার লাপাত্তা হয় কলারোয়া থেকে। এরপর গ্রাহকদের দৈনন্দিন জবাবদিহিতার মুখে ডিসেম্বর মাসে কর্মকর্তারা লাপাত্তা হয়ে যায়। অফিস হয়ে পড়ে তালাবদ্ধ। আর বিনিয়োগকারীরা দিশাহারা হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশলীকে ম্যানেজ করে প্রতারকরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা প্রতারকদের নাগাল পাচ্ছে না। এদিকে এই প্রতারকরা যশোর জেলার ঝিকরগাছা, বাগআঁচড়া, বাঁকড়া, গোগা, বেনাপোল এলাকায় এখনও তাদের প্রতারণা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আল আমিন ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’র দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিচালক আবু সাঈদের সংগে (০১৭২৮-৪৫৬১৮৩) মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে প্রতারণামূলক কথা বলে তিনি এ সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে সর্বস্ব খোয়ানো গ্রাহকরা প্রতিকার পেতে আইন প্রয়োগকারী উর্দ্ধতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।