মতবিনিময় সভায় জেলাবাসীর প্রতি আলেম-ওলামাদের আহবান : নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তি সৌহার্দ ও পারস্পারিক সম্প্রীতি বজায় রাখুন


প্রকাশিত : মার্চ ১০, ২০১৩ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে শনিবার আলেম-ওলামাদের সাথে প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে সভায় আলেম-ওলামারা নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তি, সৌহার্দ ও পারস্পারিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান জানান। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় জেলার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই শতাধিক ইমাম অংশ নেন।
আলোচনা সভায় ইমামগণ জামায়াত-শিবিরকে ভণ্ড, ধোকাবাজ, মুনাফেক, ষড়যন্ত্রকারী, সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে কিছু প্রচারপত্র বিলি করেন।
প্রচারপত্রে ইসলাম ধর্মের খেদমতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমনের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে বলা হয়, তিনি ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, বিশ্ব ইজতেমার জন্য টংগী তুরাগ তীরে জমি দান, শবে বরাত, শবে ক্বদর ও ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। এছাড়া তিনি মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণ শিক্ষা কার্যক্রম হাতে নেন। তিনি বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান শুরু ও সমাপ্তিতে পবিত্র কুরআন তেলোয়াতের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু আইন করে মদ জুয়া ও হাউজি লটারি খেলা নিষিদ্ধ করেন।
বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের সবাই যাতে ইন্টারনেটে পবিত্র কুরআন পড়তে ও তেলোয়াত শুনতে পারে সে জন্য আল কুরআন ডিজিটাইজেশন করেছেন। বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।
ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা সরকারের না থাকলেও ইসলামের খেদমতে সরকারের এসব সফলতায় একটি কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইসলামের মুনাফেক মওদুদীবাদ ও জামায়াত-শিবির দেশ কে সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার নীল নকসা একেছে।
বক্তারা আরো বলেন, মওদুদীবাদ ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে গোটা দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের চূড়ান্ত শাস্তি ফাসির দাবিতে দেশের ১৬ কোটি মানুষ আজ রাজপথে। কিন্তু মুনাফেকরা দেশের ধর্ম প্রাণ সহজ সরল মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুজি করে ইসলামের লেবাস পরে গুজব, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের লিপ্ত হয়েছে।
সভায় বক্তারা জামায়াত-শিবিরের গুজবে কান না দিয়ে যার যার ধর্ম স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালনের আহবান জানান।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লস্কার তাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, মাও. আমীর হাসান, মাও. আব্দুল্লাহ, মুফতী মাও. হাফিজুর রহমান, মুফতী মাও. আখতারুজ্জামান, হাফেজ মোহাম্মদ রউফুজ্জামান, সৈয়দ নাজমুল হক বকুল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মশিউর রহমান প্রমুখ।