কামালনগরে ৬ তলা ভবনের অংশ বিশেষে ধসের ঘটনায় মালিককে শো’কজ


প্রকাশিত : মার্চ ২০, ২০১৩ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের কামালনগরে নির্মাণাধীন ৬ তলা বাড়ির অংশ বিশেষ ঝড়ে ধসে পড়ার ঘটনায় পৌর কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। পৌর সার্ভেয়ার সরজমিনে ঘুরে এসে সোমবার দুপুরে বাড়িটির নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে মালিককে নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে অনুমোদিত নকসা বর্হিভূত ইমারত নির্মাণ এবং ৩ তলা বাড়ির অনুমোদন নিয়ে কেন ৬ তলা করা হয়েছে? তা স্ব-শরীরে হাজির হয়ে বাড়ির মালিককে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে পৌর বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
সাতক্ষীরা পৌরসভার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, শহরের কামালনগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে রেজাউল ইসলাম বিগত ২০০২ সালে কামালনগর মৌজার ৫০৫ নং খতিয়ানের ১১৫১৩ দাগের উপর ৩.৭৫ শতক জমির উপর বাড়ি নির্মাণের জন্য অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেন। আবেদন অনুযায়ী নকশা দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ তদন্ত পূর্বক বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন। যার মেমো নং ৭৩২৭/০২। এ অনুমোদন নিতে বিধি মোতাবেক ৮২৫ টাকা রাজস্ব জমা দিতে হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, ৩ তলা বাড়ি নির্মাণের জন্য বিগত ২০০২ সালে ৮২৫ টাকা জমা দিয়ে নকশা অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্র“তিতে অনুমোদন নেন। এরপর ওই অনুমোদনেই বাড়িটির ৬ তলা নির্মাণ শেষে ৭ তলার কাজ চলছে। এছাড়াও বাড়ির সামনের অংশে প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে নকশা বর্হিভূতভাবে সামনের অংশে দুটি পিলার বেশি দিয়ে ঝুকিমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। গত রোববার দুপুরে আকর্ষিক ঝড় ও বর্ষা হলে ওই ভবনের ৪ তলা ও ৬ তলার সামনের ও পাশের অংশ বিশেষ ধসে রাস্তা ও একটি লন্ড্রির দোকানের মধ্যে পড়ে। স্থানীয়রা জানিয়েছে, ঝড়ের সময় রাস্তায় বা দোকানে কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনবহুল এলাকায় হতাহত না হলেও এলাকার সাধারণ মানুষ শংকিত হয়ে পড়েছে। যে কোন সময় আবারো ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে ওই ভবনের অংশ বিশেষ।
পৌরসভার কর্তৃপক্ষ জানায়, সাপো/প্রকৌঃ/২০১৩/৫০/১(২) নং স্মারকে মেয়র এম এ জলিল বাড়ির মালিককে নোটিশ দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে ১৯৫২ এর ৩ (খ) ধারা অনুযায়ী অনুমোদনকৃত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করা এবং অবৈধ অংশ কেন ভেঙ্গে ফেলা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
পৌর মেয়র এমএ জলিল বলেন, প্রাথমিকভাবে বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে অনুমোদনের বাইরের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং ভাঙ্গার খরজ বাড়ির মালিককে বহন করতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনবল কম থাকায় অনুমোদন আছে কি না, তা বাড়ি বাড়ি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়। যে বিষয়টি সামনে এসেছে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার যেটি আসবে সেটির বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।