ইছামতি নদীতে নির্বিচারে চিংড়ি পোনা আহরণ চলছে


প্রকাশিত : মার্চ ২৬, ২০১৩ ||

আহাদুজ্জামান আহাদ: কালিগঞ্জ উপজেলার নলতার খানজিয়া সীমান্ত সংলগ্ন ইছামতি নদীতে নির্বিচারে চলছে চিংড়ি পোনা আহরণ। আর এ কাজে ব্যাবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ নেট জাল। এক একটি চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে ধক্ষংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণি। বছরের পর বছর নির্বিচারে পোনা আহরণের ফলে নদীতে হ্রাস পেয়েছে মাছের উপস্থিতি।
বাংলাদেশে ৮০’র দশকে শুরু হয় লবণ পানির চিংড়ি চাষ। শুরুতেই প্রাকৃতিক পোনার উপর ভিত্তি করেই মূলত বাগদা চিংড়ির চাষ গড়ে উঠে। গত ৩ দশকে আন্তজার্তিক বাজারে চিংড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চিংড়ি চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়েছে। ফলে এ এলাকার বিভিন্ন বয়সের বেকার নারী/পুরুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝুঁকে পড়েছে চিংড়ি পোনা সংগ্রহের কাজে। আর এ কাজে তারা বিভিন্ন ধরনের নেট জাল ব্যবহার করে বাগদার পোনা (পিএল) গলদার রেণু আহরণ করছে। পোনা সংগ্রহকারীদের নিকট বাগদা ও গলদার পোনা ব্যতীত অন্যান্য প্রাণির কোন কদর না থাকায় অতীব মূল্যবান প্রাণিগুলো মরে যাচ্ছে। যা জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। সরকার ২০০২ সালে নেট জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও এর ব্যবহার থামেনি।
শুইলপুর গ্রামের আব্দুল খালেক জানান, জন্মের পর থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য ইছামতি নদী থেকে চিংড়ির পোনা আহরণ করে আসছি। অন্য ব্যবসা জানা নেই, তাই নদী থেকে পোনা আহরণ বন্ধ হয়ে গেলে না খেয়ে মরতে হবে। একই গ্রামের আমজাদ আলী জানান, এই মুহূর্তে পোনা আহরণ বন্ধ হয়ে গেলে বেকার হয়ে পড়তে হবে, তাই সরকারিভাবে যদি কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে বেকার সমস্যা সমাধান হবে। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকার সচেতন মহল।