শ্যামনগরে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা জমে উঠেছে


প্রকাশিত : এপ্রিল ১৬, ২০১৩ ||

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল: প্রতিবছর বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে শ্যামনগরের লোকনাট্য চত্বরে বসে বৈশাখী মেলা। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তিন দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৌলতুজ্জামান খাঁনের উদ্যোগে ও অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় মেলা হয়ে উঠেছে শ্যামনগরের মানুষের বৈকালিক বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে। রোববার পহেলা বৈশাখ প্রভাতী সংগীত ও র্যালীর মাধ্যমে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী মেলার কার্যক্রম। স্থানীয় এমপি এইচএম গোলাম রেজা, সাবেক এমপি একে ফজলুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দৌলতুজ্জামান খাঁন, মহসীন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জিএম ওসমান গণি, শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয় র্যালীতে। পরে লোকনাট্য মঞ্চে জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় প্রথম পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সকাল থেকে বৈশাখী গান পরিবেশন করেন শিল্পী গাজী গোলাম মোস্তফা ও এড. আজিবর রহমান। বাংলা লোকনাট্য ইনস্টিটিউট ও শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের সম্মিলিত জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় বৈশাখী প্রভাতী অনুষ্ঠান। এর পর পর্যায়ক্রমে নৃত্য, গান, আবৃত্তি দিয়ে সমগ্র সময় মাতিয়ে রাখা হয়।
দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল ৫টায়। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ হয়।
মেলাতে হস্তশিল্প, কুঠির শিল্প, ফুসকা, চটপটি, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ বেতের পণ্যসহ ত্রিশটির অধিক স্টল বসেছে। সকাল থেকে মেলার মাঠ মুখরিত হয়ে উঠে মানুষের পদ ভারে। প্রতিদিনের পরিকল্পনায় আছে জারী, পল্লীগীতিসহ নানান লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে হাডুডুসহ নানান গ্রামীণ খেলাধূলা। এছাড়া মেলায় নাগর দোলা বেশ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।