ছয় বছরেও নির্মিত হয়নি আশাশুনির মানিকখালী ব্রিজ, দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নের মানুষ


প্রকাশিত : মে ৮, ২০১৩ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: ত্র“টিপূর্ণ নকশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ৩ বছরেও নির্মিত হয়নি আশাশুনি উপজেলা সদরের মানিকখালী ব্রিজ। দুর্নীতির কারণে প্রথম দফা টেন্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফা টেন্ডারের ২ বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি ব্রিজটি নির্মিত হয়নি। এতে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে শুরু হলেও অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় ব্রিজ নির্মাণ কাজ। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ ওই টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহবান করেন। কিন্তু দ্বিতীয় বার টেন্ডার হওয়ার ২ বছর পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজ নির্মাণ কাজ আজও শুরু করেনি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৬ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার ভোটারদের আকৃষ্ট করতে আশাশুনি উপজেলা সদরে মানিকখালী ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। শুরুতে ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনামুল হক এন্টারপ্রাইজ। সড়ক ও জনপদ বিভাগের নকশায় সেতুটির দৈর্ঘ্য ধরা হয় ২৫৮ মিটার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় করে ৫৬টি পাইলিং তৈরী করে। কিন্তু শুরুতেই ধরা পড়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। ফলে কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে ব্রিজ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্ত কবে নাগাদ পুনরায় ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এরপর মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে পুনরায় ১৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে ব্রীজ নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হলে যশোরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পিটিএসএল, এসটিসিজেভি কাজ পায়। তারা ব্রিজ নির্মাণে বালি, পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণও আনে। কিন্তু, নানান জটিলতার অজুহাতে শেষ পর্যন্ত কাজ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, আগের পাইলিং নষ্ট এবং সাইড পরিবর্তন পূর্বক নতুন নকশা তৈরী করে কাজ করতে হবে। নতুন নকশায় সেতুটির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৩০৪ মিটার। নির্মাণ কাজটি একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন সরকারের একাধিক এমপি-মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ। এতো সবের পরও অদ্যাবধি ব্রিজটির নির্মাণ কাজ আর শুরু হয়নি।
এ ব্যাপারে আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, আইলা বিধ্বস্ত খাজরা, প্রতাপনগর, আনুলিয়া ও বড়দল ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মানিকখালী ব্রিজ। কারণ সড়ক পথে সরাসরি বিচ্ছিন্ন এ চারটি ইউনিয়ন। এখানকার মানুষের জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। ফলে চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী-চাকুরিজীবীদের। বেশি দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে আসা মুমূর্ষু রোগীরা। একই সাথে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিড়ম্বনারসহ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম মোস্তাকিম জানান, বর্তমান সরকারের আমলে এ অঞ্চলে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। তবে মানিকখালী ব্রিজটি নির্মিত না হওয়ায় ৪টি ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। এ উপজেলার মানুষের প্রাণের দাবি মানিকখালী ব্রিজটি অচিরেই নির্মাণ করা হোক।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পিটিএসএল, এসটিসিজেভি এর স্বত্বাধিকারী বাবু পাটুয়ারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়ার পর সেখানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। কিšু— পরবর্তীতে ব্রিজটির নকশা পরিবর্তন করায় এ যাবত যে পরিমান টাকার কাজ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে ক্ষতিপূরণ না দেয় তবে প্রয়োজনে তিনি আইনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, বারবার টেন্ডার, ঠিকাদার পরিবর্তন, ডিজাইন পরিবর্তন ও আর্থিক সীমাবদ্ধতাসহ নানা জটিলতার কারণে ব্রিজটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক চেষ্টা করা হচ্ছে, ব্রিজটির কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য।