সাভার ট্র্যাজেডি : কলারোয়ার সাইদুরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন


প্রকাশিত : মে ৯, ২০১৩ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি: ছেলে সাইদুর রহমানের খোঁজে সাভারের রানা প¬াজার পাশে, কখনো বা অধর চন্দ্র মডেল স্কুলে আবার কখনো এনাম হাসপতালে ঘুরে ঘুরে দিন কাটাচ্ছিলেন কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের মাহাবুবর রহমান। স্বামীকে পেতে শ্বশুরের পিছু ছাড়েননি বৃষ্টি। ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার বিকেলে যখন স্কেবেটর মেশিনে সাইদুরের অর্ধগলিত লাশ বেরিয়ে এলো ততক্ষণে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে মাহবুবর রহমান ও বৃষ্টির। প্যান্টের পকেটে থাকা ছেঁড়া ও রক্তে ভেজা পরিচয়পত্র দেখে এক বছর আগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে যোগদান করা সাইদুরকে সনাক্ত করেন তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধর চন্দ্র মডেল স্কুল থেকে লাশ গ্রহণের সময় চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া মাহাবুববর রহমানের দীর্ঘ নিঃশ্বাস ও লাশের ওপর বারবার মুর্ছা যাওয়া স্ত্রী বৃষ্টির আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বুধবার সকালে গ্রামের বাড়িতে সাইদুরের লাশ পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সাইদুরের মা ঝর্ণা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ২৪ এপ্রিল সকাল পৌণে নয়টার দিকে সাভারের রানা প¬াজা ভেঙে পড়ে। এ খবর জানতে পারার পর মোবাইলে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর ছেলের সন্ধানে বাবা ও স্বামীর সন্ধানে স্ত্রী সাভারের বিভিন্ন স্থানে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন। কখনো খাবার জুটেছে আবার কখনো জোটেনি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, যাদের জন্য রানা প¬াজায় এ মৃত্যুর মিছিল আল¬¬াহ যেন তাদের ক্ষমা না করেন। বুধবার জোহরের নামাজের পর জানাযা শেষে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযা নামাজে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশ গ্রহণ করে।