সরুলিয়ায় এলজিএসপি প্রকল্পে অনিয়ম! তদন্তু শুরু


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৩ ||

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের দুই মহিলা সদস্যের বিরুদ্ধে লোকাল গর্ভমেন্ট সাপোর্ট প্রোজেক্টের (এলজিএসপি) প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা কাজ না করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থবছরে এলজিএসপি প্রকল্পে যুগীপুকুরিয়া গ্রামের মোদাচ্ছের মোড়লের বাড়ির সামনে থেকে এরফানের বাড়ির সামনে পর্যন্ত ইটের সলিং করার জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার ১৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া তৈলকুপি গ্রামের রাজুর বাড়ি থেকে সুজাউদ্দীন মিস্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত সংস্কারে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এ প্রকল্পে কোন কাজ না করেই প্রকল্পের সভাপতি আমেনা ও মঞ্জুয়ারা বেগম সমস্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
অভিযোগ, ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা প্রকল্পের সভাপতি আমেনা বেগম, চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান ও সচিব মাহাবুব রহমানের সাথে জোগসাজশে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা কোন কাজ না করে উঠিয়ে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সরুলিয়া ইউপির ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর মঞ্জুয়ারা গত ৫ মে জেলা প্রসাশক বরাবর সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান এলজিএসপি এলআইসি প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকাবাসী ঘটনাটি জানতে পেরে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেলে শুক্রবার ঢাকার এ মতিন এন্ড কোম্পানির অডিটর সজীব তালুকদার, সিনিয়র অডিটর তাপস কুমার মন্ডল ও বাসুদেব বিশ্বাসের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল সরেজমিনে যেয়ে অভিযোগের শতভাগ সত্যতা পান বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অতি-সম্প্রতি এডিপির প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা দিয়ে মোদাচ্ছেরের বাড়ি থেকে প্রায় এরফানের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিংয়ের কাজ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী আতিয়ার রহমান জানান, এসব প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে কোন প্রত্যয়ন দেওয়া হয়নি। তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যরা এ ঘটনায় নির্দোষ দাবি করে সব দায় চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের উপর চাপাতে চাইছেন। তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিব মাহাবুব রহমান তাদের স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতি করে এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তকালে উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান, নাজিমুদ্দীন সানা, আবু বক্কার সিদ্দিকী আঙ্গুর, শেখ সিরাজুল ইসলাম, জামাল উদ্দীন, আমেনা খাতুন ও মঞ্জুয়ারা বেগম।