আশাশুনিতে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন, স্বামী গ্রেপ্তার


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৩ ||

আহসান হাবিব/মনিরুজ্জামান, আশাশুনি: আশাশুনির সবদলপুর গ্রামের গৃহবধূ মেঘনার করুণ মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জুন শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী মিঠুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানায় অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গত ৩ বছর পূর্বে দাকোপ উপজেলার বাজুয়া গ্রামের মৃত কানাই দাসের একমাত্র কন্যা মেঘনা দাসের সঙ্গে আশাশুনি উপজেলার সবদলপুর গ্রামের সুভাস দাসের পুত্র মিঠুন দাসের (১৮) বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেঘনা জানতে পারে মিঠুনের কাকা দীপু দাসের স্ত্রী প্রভাতীর (৩০) সাথে তার পরকীয়া প্রেম আছে।
মেঘনার দূর সম্পর্কের এক বোন রানী জানায়, তাদের দৈহিক সম্পর্কের বিষয়টি ধরা পড়ার পর মিঠুনের সাথে স্ত্রী মেঘনার প্রায়ই ঝগড়া ঝাটি হতো। যার কারণে বিভিন্ন সময়ে খুটিনাটি নিয়ে মেঘনাকে হত্যার চেষ্টা করতো মিঠুন। আনুমানিক ১ বছর পূর্বে এমনই একটি ঘটনা নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা মেঘনাকে তার স্বামী মিঠুন লাথি মেরে খাটের পর থেকে ফেলে দেয় এবং মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। কিন্তু মেঘনা কৌশলে টানা হেচড়া করে ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী ঠাম্মা শ্বাশুড়ির নিকট আশ্রয় নিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে যায়। পরে পার্শ্ববর্তী মাসীর মাধ্যমে নিজ মায়ের বাড়ি বাজুয়ায় চলে যায়। এরই মধ্যে মেঘনার একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। তার বর্তমান বয়স ৬ মাস। তখন মিঠুন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে শালিশী বৈঠকে মেঘনাকে আবার বাপের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে নিয়ে ঘর সংসার শুরু করে। এক দিকে যৌতুকের চাপ, অপর দিকে পরকীয়ার বাঁধা দেওয়ার জের হিসাবে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশে পুকুর ধারে মেঘনাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এলাকার অনেক ব্যক্তিই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেঘনা ও মিঠুনের কলহ হয়েছিল বলে জানান। মেঘনার শিশু সন্তানের অবস্থা দেখে এলাকাবাসী মূর্ছা যায় এবং তাদের আহাজারিতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আশাশুনি থানা অফিসার ইনচার্জ মামুন-অর-রশিদ এবং এসআই মনোজিত নন্দী সহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ জানায়, মেঘনার লাশের সুরত হাল রিপোর্টের সময় দেখাগেছে, তার গলায় ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেঘনার স্বামী মিঠুন দাসকে আটক করে থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। থানা অফিসার ইনচার্জ মামুন অর রশিদ জানান, ময়না তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মামলার গতি বিধি বলা সম্ভব নয়।