কালিগঞ্জ থানার কথিত ক্যাশিয়ারের চাঁদাবাজি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৩ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জ থানার কথিত ক্যাশিয়ার শহিদুল ইসলাম ওরফে পুটের (৫২) সীমাহীন চাঁদাবাজি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার শীতলপুর গ্রামের মৃত জমির উদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবত থানা পুলিশের সাথে চুক্তি করে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইতোপূর্বে বিশেষ কারণে বিগত ওসি সৈয়দ ফরিদ উদ্দীন তাকে থানায় প্রবেশ থেকে বিরত রাখে। তবে সে সময় থানায় ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজ, খোকন ও ইসলাম। ঘুরে ফিরে ওই তিন জন বিগত ওসি সৈয়দ ফরিদ উদ্দীন, আলমগীর হোসেন, একেএম আলী নূর হোসেন ও আলী আহম্মেদ মাসুদের কর্মকালে ক্যাশিয়ার হিসেবে মাশোহারা উত্তোলন করতেন। কিন্তু বর্তমান অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মীর খায়রুল কবির কালিগঞ্জ থানায় যোগদানের পর বিভিন্ন লোকের মারফতে দেনদরবার করে আবারও থানায় ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ শহিদুল ইসলাম পুটে। এরপর থেকে উপজেলার চিহ্নিত মাদক স্পট, জুয়ার আসর, হুন্ডি ব্যবসায়ী, ধুড় পাচারকারী, যাত্রা, সিনেমা, পুতুলনাচসহ বিভিন্ন স্পট থেকে টাকা উত্তোলন করার সুযোগ পান তিনি। তবে এজন্য তাকে পূর্বের তুলনায় অধিক অর্থ ব্যয় করে ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে।
এদিকে থানার ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠেছে শহিদুল ইসলাম পুটে। তিনি বর্তমান ডিএসবি’র কনস্টেবল পদে কর্মরত ইমরান হোসেনকে সাথে নিয়ে উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। মাদক স্পট ও জুয়ার আসর থেকে টাকা উত্তোলনসহ এলাকার পেশাদার চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। এর পাশাপাশি তারা বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করার ভয় দেখিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। থানার অভ্যন্তরে থাকার সুযোগে বিভিন্ন স্পর্শকাতর মামলা ও গোপন বিষয়ে তথ্য পাচার করে বড় অংকের অর্থ বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন আম ব্যবসায়ীকে বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত করে অবৈধ ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়ে সেখান থেকেও বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা দু’জন উপজেলার অনেক বড় বড় আম ব্যবসায়ীর নিকট থেকে আম নিয়ে এসে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার ডিএসবি’র কনস্টেবল ইমরান হোসেন ও শহিদুল ইসলাম পুটে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারুলগাছার ভেজাল ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত আম ব্যবসায়ী শোকর আলী মোড়লের বাড়ি থেকে আম ও নগদ টাকা নিয়ে যান। সাংবাদিকরা বিষয়টি সরাসরি প্রত্যক্ষ করার পর পুটের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে।
এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মীর খায়রুল কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
শহিদুল ইসলাম পুটের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শোকর আলী মোড়লের বাড়ি থেকে আম নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলে, আম কিনে নিয়ে এসেছি। এটা কি অপরাধ? তিনি থানার কোন দায়িত্বে আছেন জানতে চাইলে জবাব দিতে অস্বীকার করে।
ক্যাশিয়ার শহিদুল ইসলাম পুটেকে থানার অভ্যন্তর থেকে অবিলম্বে বের করে দিয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও থানা থেকে ক্যাশিয়ার প্রথা চিরতরে বিলোপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।