কলারোয়ার বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ: সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতায় দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না অধ্যক্ষ


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৩ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির খামখেয়ালীপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না অধ্যক্ষ। শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলার কলাটুপি গ্রামের আব্দুল মমিন মোড়লের ছেলে ফারুক হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ ফারুক হোসেন বলেন, ২০০৩ সালের ২৩ জুলাই বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর তিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্ত গত ২০১১ সালের ২২ মার্চ কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হিসেবে এমএ ফারুক হোসেন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নানাভাবে তাকে হয়রানি করা শুরু করেছেন। সভাপতির খামখেয়ালীপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে তিনি যশোর বোর্ডসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। পরবর্তীতে সে সব অভিযোগ তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সভাপতি কোন রকম বিধি না মেনে গত ২০১১ সালের ২৭ এপ্রিল তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন এবং পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই ২০১২ সালের ৭ জানুয়ারি তাকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করেন। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আরবিটেশন কমিটিতে উত্থাপিত হলে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৪ ডিসেম্বর তাকে চাকুরিতে পুনর্বহল করার নির্দেশ দেয়া হয়। সভাপতির অনেক টালবাহনার পর চলতি বছর ৩১ জানুয়ারি তিনি পুনরায় অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। এরপরও সভাপতি এমএ ফারুক হোসেন তার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আরবিটেশন কমিটির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে সভাপতি উচ্চ আদালতে রিট করলে শুনানিকালে সেটা খারিজ হয়ে যায়। কোনভাবেই আমাকে জব্দ করতে না পেরে সভাপতি সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে গত ১৩ মে ফের অধ্যক্ষের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং আমাকে না জানিয়ে অধ্যক্ষের চেয়ারে অন্য একজনকে বসিয়েছেন। সভাপতির স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দীর্ঘ প্রায় ২০ মাস কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠ দান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বোয়ালিয়া মুক্তিযোদ্ধা কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠ দানসহ কলেজের সার্বিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য পরিচালানা পরিষদের সভাপতির নগ্ন থাবা থেকে প্রতিষ্ঠানটি রক্ষা করতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোবশ্বেরুল হক জ্যোতি, বাকশিস নেতা রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, আবুল খায়ের, ইদ্রিস আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।