বিষে ভরা আমে সয়লাব সাতক্ষীরা, যাচ্ছে ঢাকায়ও


প্রকাশিত : মে ১৮, ২০১৩ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আমরা প্রতিদিন কি খাচ্ছি? বাজার থেকে টাকা দিয়ে নিরব ঘাতক বিষ কিনে পরিবারের সবাই মিলে খাচ্ছি। বৈশাখ শেষে জ্যৈষ্ঠ মাসের পাকা আম আর জ্যৈষ্ঠ মাসের ফলের কথা কম বেশী আমাদের সকলের জানা, কিন্তু চিন্তার বিষয় এখন গাছ থেকে পাড়ার পরে ফল আর ফল থাকে না তা হয়ে যায় নিরব ঘাতক বিষ। বর্তমানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজারসহ বিভিন্ন ছোট বড় বাজার এমনকি আমের বাগানেই আম পাড়ার পরে পাকানোর জন্য ¯েপ্র করা হয় বিষাক্ত দ্রব্য। হরহামেশায় জনসাধারণের সামনেই এ বিষ মেশানো হয় আমে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজমিনে সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজারের একাধিক আমের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, সারা দিন তারা বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আম ক্রয় করে ও নিজেদের কেনা বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে বাজারের আড়তে নিয়ে আসে অথবা কোন গোপনীয় গোডাউনে নিয়ে যায় পরে সন্ধ্যায় সেই সব আমে বিষাক্ত দ্রব্য ¯েপ্র করে বাতাসে শুকিয়ে কার্টুনে ভর্তি করে ট্রাকে তুলে রাজধানী ঢাকায় পাঠায়। এছাড়াও বর্তমানে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারের কয়েক শত অসাধু ব্যাবসায়ী বেশী লাভের আশায় সাতক্ষীরায় অবস্থান করছে আধা পক্ত, কাচা আম কিনে মানবদেহে ক্ষতিকর ঔষধ আমে লাগিয়ে তারা সন্ধ্যার পরে ঢাকায় পাঠায়। এ সব দেখেও সাধারণ মানুষের কিছু করার নেই, যেখানে খোদ পুলিশের নামে উঠছে মোটা অংকের টাকা। সেখানে কোন রকম বাধা দিলে তো আইন উল্টে চড়া হতে পারে এমন দাবি করেন বড় বাজারে অবস্থানরত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। এদিকে আমে বিষ ¯েপ্র করার ঘটনা জানতে পেরে গত কয়েক দিন আগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম সুলতানপুর বড় বাজারে যায়, কিন্তু অভিযানের কথা আগে থেকে জানতে পেরে অসাধু ব্যাবসায়ীরা কেউ কেউ আড়ত বন্ধ করে আবার কেউ কেউ আবার বিষাক্ত ¯েপ্র করা আম অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। অপর দিকে চলতি বছরে অসাধু ব্যাবসায়ীরা বড় বাজারের ভেতরের আড়তে ¯েপ্র মিশ্রিত আম না রেখে নতুন কৌশলে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নিয়েছেন নতুন পদক্ষেপ। ব্যাবসায়ীরা এবার বড়বাজারের আশে পাশে সুলতানপুর বড়বাজারস্থ দিবা নৈশ কলেজের সামনে সারের দোকানের পাশে, মরহুম আ.লীগ নেতা সৈয়দ কামাল বখত সাকী সাহেবের বাড়ির নিচে, মার্কেনটাইল ব্যাংকের নিচে, সুলতানপুর সরদার পাড়া মোড়ে একটি পোল্ট্রি ফার্মের ভেতরেসহ বিভিন্ন নির্জন স্থানে আম সংরক্ষিত রেখে সন্ধ্যায় ¯েপ্র করে ট্রাক ভর্তি করে ঢাকায় পাঠান। বড় বাজারের কাচা বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির ২/১ জন উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের সেল্টারে সাতক্ষীরা ও ঢাকার ব্যাবসায়ীরা এ ধরণের জঘন্য ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে গেলে আম ব্যাবসায়ী কওছার আলী, মজনুসহ আরো অনেকে জানান, লুকিয়ে ¯েপ্র করবো কেন থানা পুলিশকে তো টাকা দিয়েছি। আমাদের আমের ঘর প্রতি ১০ হাজার টাকা নিয়েছে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা, প্রশাসনকে দিয়ে ম্যানেজ করবে বলে। আর আমরা তো একা মারছি না, বাজারের সবাই মারছে।
এ ব্যাপারে সুলতানপুর বড় বাজারের কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী কবিরুল হাসান বাদশা জানান, আমাদের সমিতির পক্ষ থেকে ¯েপ্র না দেওয়ার জন্য প্রতিটি ব্যবসায়ীকে আহবান জানানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের চোঁখ কে ফাকি দিয়ে কেউ যদি আমে বিষাক্ত ¯েপ্র লাগায় তার প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা সমিতি থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে বড় বাজারের কাঁচা বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশোন আলী জানান, আমে ¯েপ্র করার মত কোন ঘটনাই ঘটেনি। এদিকে আমে বিষাক্ত ¯েপ্র ও কার্বাইড দিয়ে আম পাকানোর ব্যাপারে জেলা স্যানেটারি কর্মকর্তা সমালোচিত হয়েছেন, তিনি একদিনও বড় বাজার পরিদর্শনে যান নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে জনসাধারণের মনে প্রশ্ন উঠেছে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? ব্যাপারটি দেখার দায়িত্ববা কার? এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি সাধারণ জনতার। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাতক্ষীরাবাসী।