স্কুল শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ধর্ষণের চেষ্টা : দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ধারণকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ


প্রকাশিত : মে ২১, ২০১৩ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: নবম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। গত ৩ মে দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের খড়িবিলার বনলতা হাউজিং কমপ্লেক্সের পাশে এ ঘটনা ঘটে। দাবিকৃত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র ইন্টারনেট ও বিভিন্ন মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থীকে সোমবারের মধ্যে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়ায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের চালতেতলা এলাকার ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জানায়, শহরের বাকাল কোল্ড স্টেরেজ এলাকার স্কুল শিক্ষক মিজানুর রহমানের ছেলে আরীফ হোসেন কাটিয়া পলিটেকনিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। স্কুল ও কোচিং এ যাওয়া আসার পথে আরিফ তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো।

ওই স্কুল শিক্ষার্থী আরো জানায়, ৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে তার এক সহপাঠীকে নিয়ে বাকালে তাদের আত্মীয় সোহেলের বাড়িতে যান। বাড়িতে না পেয়ে খড়িবিলা বনলতা হাউজিং কমপ্লেক্সের পাশে একটি ক্রিকেট টুর্ণামেণ্ট চলাকালীন দুপুর ১২টার দিকে সোহেলের সঙ্গে তাদের দেখা হয়। এরপর সোহেল খেলার মাঠে চলে যায়। দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খেলার মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফ হোসেন ও ইমরান হোসেনসহ কয়েকজন তার কাছে আসে। তিনজন তার সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলতে থাকলে তাকে ডেকে নিয়ে পাশের একটি বাগানে নিয়ে যায় আরিফ ও ইমরান। এরপর আরিফ তাকে বাগানের মধ্যে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ইমরান আপত্তিকর দৃশ্য আরিফের মোবাইলে ধারণ করে। এ সময় আরিফের বন্ধু সাগরসহ তিনজন ছুঁটে এসে তাকে ভয় দেখায়। একপর্যায়ে তার চিৎকারে সোহেলসহ পার্শ্ববর্তী মাঠের লোকজন ছুঁটে এসে তাকে উদ্ধার করে। বাড়িতে আসার পর ভয়ে সে বাবা ও মার কাছে বিষয়টি গোপন রাখে।

ওই শিক্ষার্থী আরো জানায়, ঘটনার পরদিন সোহেলের মাধ্যমে আরিফ, ইমরান ও সাগর ভিডিও চিত্র বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা চায়। পরে ১০ হাজার টাকায় তারা রাজি হয়। ৬ মে বিকেলে সোহেল ও তাকে বাড়িতে ডেকে সাগরের বাবা ১০ হাজার টাকা না দিলে ফল ভাল হবে না বলে জানিয়ে দেয়। একপর্যায়ে কোচিং বাবদ ৫০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে সে।

এদিকে গত ১৫ মে স্থানীয় দু’কলেজ শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে ওই ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে স্কুলের দু’জন শিক্ষককে অবহিত করে। পরদিন প্রধান শিক্ষক আবু তাহের এক নোটিশের মাধ্যমে তাকে ও তার বাবাকে স্কুলে ডেকে সোমবারের মধ্যে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়ে দেন।

নির্যাতিত ওই স্কুল শিক্ষার্থীর পিতা জানায়, রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে তিনি আরিফ হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে আরিফের বাবা ও মাকে বিষয়টি অবহিত করলে তাদেরকে হেঁকে বের করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করেও আরিফ হোসেন ও তার পিতা বাকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের জানান, মোবাইলের ছবি দেখে মেয়েটির স্বভাব চরিত্র ভাল মনে হয়নি। তাই স্কুলের পরিবেশ ভাল রাখতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে সোমবারের মধ্যে স্কুল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমানুল্লাহ জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।