খেশরায় ২৫টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ শেল্টার নির্মাণের কাজ চলছে: স্থাপিত হচ্ছে তিনটি ডিপ টিউবওয়েল, ২৫টি ল্যাট্রিন


প্রকাশিত : মে ২৩, ২০১৩ ||

আব্দুল জব্বার, তালা: ‘কখনো ভাবিনি বাড়ি ইটের ঘর হবে। বর্ষার সময় সব ডুবে যায়। যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। উঁচু জায়গায় আশ্রয় খুঁজতে হতো। কিন্তু এনজিও ভূমিজ আমার একটি ঘর করে দিচ্ছে।’ এভাবেই  অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামের ঋষি পাড়ার ৭০ বছরের বৃদ্ধা দেবলা দাশ। তিনি জানান, ওই পাড়ায় তার মতো আরও ২৪টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া দেওয়া হচ্ছে তিনটি ডিপ টিউবওয়েল ও ২৫টি ল্যাট্রিন। যারা পেয়েছে তারা মহাখুশি।

তবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ শেল্টার (ঘর) না পেয়ে বন্যার আতংকে দিন পার করছে। এবার বর্ষা মৌসুমেও তাদের পানিতে ডুবতে হবে। ছাড়তে হবে তাদের বাড়ি ঘর।

বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বালিয়া ঋষি পাড়ায় ২৫টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ (ঘর) শেল্টার, ২৫টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া তিনটি ডিপটিউবয়েল দেওয়া হয়েছে। দাতা সংস্থা র‌্যামবোল’র অর্থায়নে ও একশন এইড বাংলাদেশ’র সহযোগিতায় ভূূমিজ ফাউন্ডেশন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পত্রিকায় দরপত্রের মাধ্যমে তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ওই কাজ দেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রতিটি ঘর ৯০ হাজার, ডিপটিউবওয়েল ৭৫ হাজার ও ল্যাট্রিনের জন্য ৮৫০০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারী তিনটি প্রতিষ্ঠান গত ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু করে আগামী ৩ জুনের (৩৫ দিন) মধ্যে ওই কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।

সরেজমিনে বালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পুরোদমে চলছে শেল্টার (ঘর) নির্মাণের কাজ। কোন বাড়ি চলছে ইটের গাঁথনি। কোন বাড়ি শেষ হয়েছে। এছাড়া ২৫টি বাড়ির ল্যাট্রিনের কাজও চলছে পুরোদমে।  ডিবটিউবলের কাজ তিন দিন আগে শেষ হয়েছে। আগামী ১২ দিনের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে জানান ঠিকাদাররা।

এসময় স্থানীয় বাসিন্দা বুলি রানী জানান, ঘর না পেলে এবার বর্ষা মৌসুমে দুঃখের শেষ থাকতো না। এবারও বাড়ি ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে হতো।

আরেকজন ভূক্তভোগী চায়না রানী বলেন, বর্ষার সময় ঘরের বারন্দার উপর হাঁটু সমান পানি থাকে। চলাচল করা যায়না। এই ঘর না হলে এবারও বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিতে হতো। এমন বক্তব্য ওই পাড়ার বর্ণরানী, স্বপ্না সরকার, শেফালী দাশসহ অনেকের।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তন্নী ট্রেডার্স-এর মালিক শেখ আব্দুল জলিল জানান, চলতি মাসের ৩০ মে’র মধ্যে এই কাজ শেষ করা হবে। ইতোমধ্যে ডিপটিউবওয়েলের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে ঘর না পেয়ে আকুতির সাথে অনিমা দাশ বলেন, যারা পেয়েছে তাদের একটা উপায় হয়েছে। তাহলে আমাদের উপায় কি ? ছেলে মেয়ে নিয়ে বর্ষা মৌসুমে এবারও ডুবতে হবে। একটু ঘরের ব্যবস্থা করেন। আমার মতো অনেক পরিবার এখনও বন্যা আতংকে ভূগছে। আপনারা সব করতে পারেন। এমন কথা ঘর না পাওয়া ওই পাড়ার শ্রাবন্তি রানী, শুভা রানীসহ অনেকের।

ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান অচিন্ত সাহা জানান, ভূমিজ ফাউন্ডেশন সব সময় দলিতদের নিয়ে কাজ করে। কিন্তু বালিয়া ঋষি পাড়াটি ছিল অবহেলিত। যে কারণে  পাইলট প্রকল্পের আওতায় ভূমিজ ফাউন্ডেশন ওই পাড়াটি প্রথমে মডেল পাড়া হিসেবে গড়তে চায়। এজন্য প্রথমে ওই কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে একশন এইড প্রকৌশলি সোহরাব হুসাইন সরকার বলেন, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথমে এই ২৫টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলাফল ভাল হলে দাতা সংস্থার সাথে পরামর্শ করা হবে। পরে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মাহাবুবুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণের উদ্যোগটি ভাল। তবে এলাকার মানুষের জন্য এই প্রকল্প আরও বাড়ানো দরকার।