জোয়ারের পানিতে শ্যামনগরের শতাধিক বাড়িঘর ও চিংড়ি ঘের পানিতে নিমজ্জিত


প্রকাশিত : মে ২৭, ২০১৩ ||

সামিউল মনির, সাতক্ষীরা: রোববার দুপুরে নদ-নদীতে জোয়ারের পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শ্যামনগর উপজেলার উপকূলবর্তী এলাকার শতাধিক বাড়িঘর ও চিংড়ি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সময় নেবুবুনিয়া  ও গোলাখালী এলাকায় বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যাওয়া ছাড়াও পশ্চিম বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিসের কয়েকটি টহল অফিসসহ বেশকিছু স্থাপনাও জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়।

ভাঙন কবলিত ও জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে যেকোনে মুহূর্তে গাবুরা এবং বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নসহ উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এদিকে উপর্যুপরী দু’দিন ধরে জোয়ারের পানির ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধিতে উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

রোববার বেলা দুইটার দিকে সরেজমিনে মুন্সিগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছে দেখা যায়, মালঞ্চ নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। পানির চাপে বেলা আড়াইটা নাগাদ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মুন্সিগঞ্জ টহল অফিসে প্রবেশের ইটের সোলিংকৃত রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়।

পানখালী গ্রামের প্রমথ মহালদার জানান, দুপুরে আকস্মিকভাবে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় কলবাড়ী ব্রিজ এলাকায় বসবাসরত শাহজান পাটনীর বসতঘরসহ পানখালী গ্রামের নীলকান্ত বৈরাগী, দেবেন মালো ও দুখে মন্ডলের চিংড়ি ঘেরসহ প্রায় পনেরটি মৎস্য খামার জোয়ারের পানিতে ডুবে একাকার হয়ে যায়।

এছাড়া বেলা আড়াইটার দিকে রমজাননগর ইউনিয়নের গোলাখালী গ্রামের উপকূল রক্ষা বাঁধ উচিয়ে পাশের মাদার নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এসময় পানির চাপে গোলাখালী গ্রামের পাগল গাজী, হরষিদ মন্ডল এবং জামির হোসেনের বসতঘর ধসে পড়ে। বেলা চারটার দিকে পানি নেমে যাওয়ার পর স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ভাঙন কবলিত বাঁধ মেরামত শুরু করে।

এছাড়া দুপুরে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন খ্যাত গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের দৃষ্টিনন্দন এলাকায় বসাবসাতরত বিশটি পরিবারের বসতঘরও ডুবে যায়। এসময় অসহায় পরিবারগুলো পাশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাস্তার উপর এসে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন জানান, খোলপেটুয়া নদীতে গত দু’দিন ধরে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছিল। তিনি আরও জানান, দুপুরের দিকে আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের বাইরে বসবাসরত হাসান গাজী, শাহিনুর খাঁ, আবুল কাশেম, আফছার আলী, হাফিজুর, বিধবা সলেহ বিবি, কুলছুম বেগম, সিরাজুল ইসলাম, মাহফুজ হোসেনসহ বিশটি পরিবারের বসতঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, আইলা’র পর ভাঙন কবলিত বাঁধগুলো উঁচু না করে শুধু পানির প্রবেশ আটকানো হয়েছিল। পানির এই চাপ অব্যাহত থাকলে কিংবা আরও এক থেকে দেড় ফুট পানি বৃদ্ধি পেলে পাউবো’র রাস্তা উচিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। সেক্ষেত্রে গোটা গাবুরা ইউনিয়নের প্রায় আটত্রিশ হাজার মানুষ আবারও পানিতে ভেসে যাবে।

একইভাবে দুপুরের জোয়ারে বুড়িগোয়ালীনি গ্রামের কুদ্দুস শিকদার ও সাত্তার মোল্যাসহ আরও বাঁধের বাইরে বসসবাসকারী আট/নয়টি পরিবারের বসতঘর পানিতে তলিয়ে যায়।

এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দাবি করেছে, নদীতে জোয়ারের চাপ এতোবেশী যে বাঁধ উচিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশের পর্যায়ে চলে আসে। এখনই ভাংন কবলিত বাঁধ মেরামত এবং উঁচু না করলে যেকোন মুহূর্তে ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার হাসান কবির জানান, নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দু’দিন ধরে তাদের স্টেশন অফিস জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বনরক্ষীদের একটি ব্যারাক নদীতে বিলীন হওয়ার কারণে সেখানে অবস্থানরতরা জোয়ারের সময় উদ্বেগের মধ্যে কাটাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার খলিলুর রহমান জানান, দুপুরের জেয়ারের সময় গাবুরা’র নেববুনিয়া এলাকায় ১৫ মিটারের মত বাঁঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিকাল থেকে সেখানে শ্রমিকরা কাজ করবে। জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে যেকোন সময়ে বাঁধ উঁচিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করার সুযোগ রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, বিসয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগেই জানানো হয়েছে। নিদের্শ আসলে বা বরাদ্দ সাপেক্ষ্যে বাঁধ উঁচু করার কাজ করা হবে।