সাতক্ষীরায় গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধি সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ: জামায়াত-শিবিরের কবল থেকে মসজিদগুলো মুক্ত করার আহবান


প্রকাশিত : মে ৩০, ২০১৩ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, সন্ত্রাসী, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ কর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়’ এ শ্লোগান কে ধারণ করে বুধবার বিকালে গণজাগরণ মঞ্চ, সাতক্ষীরার প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ প্রতিকূল আবহাওয়া ও বিরোধীদলের ডাকা হরতালের কারণে বিকেল ৩টায় সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়। কেন্দ্রীয় একডজন নেতৃবৃন্দের মধ্যে তিনজনের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে রাত সাড়ে ৮টায় সম্মেলন শেষ হয়। প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ।

সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট মাহমুদুল হক মুনশী বাধন, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপপাদীত্য বসু, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুনজুর রহমান মিঠু, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কামরুস সালাম, ছাত্র মৈত্রীর অর্থ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ ইমন, জাসদ ছাত্রলীগের আব্দুর রহমান জাহাঙ্গীর, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিসট মোরসালিন মিজান, ইয়াসীন হাসান হিমেল, মিজানুর রহমান ও পিকলু চৌধুরী। সম্মেলনে সাতক্ষীরা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ইনামুল হক বিশ্বাস, আশাশুনি গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, কলারোয়া গণজাগরণ মঞ্চের আহবায়ক সুরাইয়া ইয়াসমীন, পাটকেলঘাটা গণজাগরণ মঞ্চের প্রভাষক শেখ মারুফ হাসান। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দ বলেন, শাহবাগ থেকে সাতক্ষীরা। অনেক পথ। শাহবাগের শ্লোগান সাতক্ষীরায়। সাতক্ষীরা তাকিয়ে আছে শাহবাগের দিকে। দাবি একটাই। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। আর কোন দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই। বক্তারা বলেন, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের সৈনিকরা নাস্তিক নয়। ব্লগাররা নাস্তিক নয়। ধর্মান্ধ জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলাম দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও গুজব সৃষ্টি করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে জামায়াত-শিবির হেফাজতে ও তাদের দোসর বিএনপি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে। বক্তারা আরো বলেন, দেশের মসজিদগুলোতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াত শিবির চক্র ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে মিথ্যাচারের মধ্যদিয়ে বিভ্রান্ত করছে। এই বিভ্রান্তি বন্ধ করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে আরো বেশী করে মসজিদগামী হতে হবে। শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বক্তারা আরো বলেন, কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে হাতে গোনা কয়েকজন শাহবাগে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখান থেকে কেউ একজন ৮ ফেব্র“য়ারি মহাসমাবেশের ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণা কে দিয়েছিল তা অনেকেই জানেন না। কিন্তু ঘোষণা কার্যকর করতে লাখ লাখ মানুষ শাহবাগে ঝাপিয়ে পড়ে। আবার হেফাজতের মহাসমাবেশের দিন শাহবাগে উপস্থিতির সংখ্যা খুবই কম থাকায় সমাবেশ করা হবে কি না এমন প্রশ্নে সংগঠকরা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। কিন্তু যখন হামলা হলো তখন সাধারণ মানুষই যে যার মত ঝাপিয়ে পড়ে হামলাকারীদের রুখার জন্য। দেশের প্রয়োজনে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে সংগঠকরা আরো বলেন, প্রয়োজন হলে মানুষ আবারো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে।

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের সংগঠকরা বলেন, হেফাজত ও জামায়াত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ওরা কোমলমতি অবুঝ শিশুদের মাদরাসা থেকে বের করে রাস্তায় এনে সহিংসতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এইসব শিশুদের সুপথে ফিরিয়ে আনতে ওদেরকে বুঝাতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি যেয়ে কাজ করতে হবে গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থকদের। জামায়াত-শিবির ও হেফাজতের মিথ্যাচার থেকে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা রাজাকার মুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার প্রশ্নে গণজাগরণ মঞ্চ আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে এবং এক্ষেত্রে কোন অপশক্তির কাছে মাথানত করবে না বলে ঘোষণা দেন। সম্মেলন পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক হাফিজুর রহমান মাসুম।

৫ ফেব্র“য়ারি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায়ের পর জন্ম নেয়া শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এবং তার পরবর্তী সাতক্ষীরায় গণজাগরণ মঞ্চ স্থাপনের প্রেক্ষাপট, কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্য, নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন প্রতিনিধি সম্মেলনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

সভাপতি বলেন, গোলাম আযম নাগরিকত্ব পাবার পর সারা দেশের জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের সংগঠিত করে সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সমাবেশ করতে চাইলে সাতক্ষীরার মুক্তিকামী মানুষ সে সমাবেশ রুখে দিয়েছিলো। সেই সাতক্ষীরায় গণজাগরণ মঞ্চের সৈনিক ছাত্রলীগ নেতা প্রভাষক এ এম বি মামুন হোসেন ও যুবলীগ নেতা শাহীনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে জামায়াত-শিবির।  জ্বালিয়ে দিয়েছে ঘরবাড়ি, কেটে দিয়েছে শত শত গাছ। সাতক্ষীরার বিভিন্ন কলেজে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ছাত্র সংগঠনগুলো নিষ্ক্রিয় থাকার কারণেই জামায়াত-শিবির আজ বেপরোয়া। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে হলে ছাত্র সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরে আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ-বিজিবিসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে। সন্ত্রাসী জামায়াত-শিবির রুখতে হলে আইনশৃংখলা বাহিনীর উপর নির্ভর করলে হবে না। দুর্বার ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সাথে নিয়ে জামায়াত-শিবির রুখতে হবে।

সম্মেলনে শাহবাগ জনতার, বুকফাটা চিৎকার, তুই রাজাকার গানে সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যশিল্পী পাপড়ী। এছাড়া আবু আফফান রোজ বাবু শোনান রাজাকার আলবদর নিয়ে একটি প্যারোডি গান।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার, এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, এড. আজাদ হোসেন বেলাল, উপাধ্যক্ষ নিমাই মণ্ডল, এএফএম আইয়ুব আলী, শুধাংশু শেখর সরকার, এড ফাহিমুল হক কিসলু, নিত্যানন্দ সরকার, কাজী সাইদুর রহমান, নাসরিন খান লিপি, শেখ হারুন উর রশিদ, শেখ আব্দুর রশিদ, গণেশচন্দ্র মণ্ডল, রামপ্রসাদ মণ্ডল, আব্দুল জব্বার প্রমুখ।

সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা মুক্ত প্রশ্ন করেন গণজাগরণ মঞ্চের নেতৃবৃন্দের কাছে। নেতৃবৃন্দ প্রশ্নের উত্তর দেন।