জেলায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন, যাচ্ছে বাইরেও


প্রকাশিত : মে ৩০, ২০১৩ ||

ইব্রাহিম খলিল: জেলায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দ্বিগুণ বেশি উৎপাদন হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত কাঁঠাল ঢাকা, রাজশাহী, চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

সাতক্ষীরা শহরের বড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারী ব্যাবসায়ীরা কাঁঠাল কিনে নিয়ে যা”্ছ।ে জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর কাঁঠালের বাম্পার ফলনের কথা স্বীকার করে বলেন, জেলার সাতটি উপজেলায় এবার প্রায় ১৬ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদন হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দৈনিক পত্রদূতকে জানান, চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ৪৯ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার টন, কলারোয়ায় ১৭৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দেড় হাজার টন, তালায় ২০৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৩০০ টন, দেবহাটায় ৫৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫০ টন, কালিগঞ্জে ৫৪০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৪০০ টন, আশাশুনিতে ৪০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১২০ টন ও শ্যামনগরে ৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ টন।

সদর উপজেলার ফিংড়ি গ্রামের মোজাম্মেল হক জানান, তার আট বিঘা জমিতে একটি কাঁঠাল বাগান রয়েছে। তিনি তার বাগানে ৫ থেকে ৬ জাতের কাঁঠাল গাছ লাগিয়েছেন। তার মধ্যে খাজা কাঁঠাল, রস কাঁঠাল, হাজারি, আধা রসের অনন্ত ৬০ থেকে ৭০টি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে। এলাকার পাইকারা আসছেন বাগান কেনার জন্য। গত বছর তিনি ৮০ হাজার টাকায় বাগান বিক্রি করেছিলেন। এবছর আরও বেশি দামে বাগান বিক্রি  করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

ছয়ঘরিয়া গ্রামের আব্দুর রউফ জানান, তার চার বিঘা জমিতে প্রায় ২৫-৩০টি বিভিন্ন জাতের কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এসব গাছের বয়স কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ বছর। এবার এসব গাছে ব্যাপক হারে কাঁঠাল ধরেছে। তিনি বলেন, পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর ৪০-৪৫ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করেন। এলাকার পাইকাররা গাছে মুছি আসার আগে গাছ কিনে রাখেন। পরে কাঁঠাল পাকতে শুরু করলে গাছ থেকে পেড়ে নিয়ে যান ব্যাপারিরা। এবছর তিনি ৬০ হাজার টাকায় গাছ বিক্রি করেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোলায়মান আলী জানান, জেলায় এবার কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন ধরণের কাঁঠাল কিনতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যাবসায়ীরা আসছেন। তিনি আরও বলেন, বাইরে সাতক্ষীরার কাঁঠালের কদর বেশি।