আশাশুনিতে ফেবস্ সোসাইটির শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ


প্রকাশিত : January 2, 2014 ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে ফেবস সোর্সিং লিমিটেড (এফএবিএস) নামক একটি এনজিও’র উদ্যোগে প্রি-প্রাইমারি ও নিরক্ষরদের বয়স্ক স্কুল গঠনের জন্য শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, ফেবস সোর্সিং লিমিটেড (ফেবস সোসাইটি) শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য নগদ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে উভয় সঙ্কটে পড়েছেন সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা। আশাশুনি সদরের জনৈক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১ম ধাপে প্রায় ১শ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শর্তানুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জামানত বাবদ ৩ হাজার ৫শ টাকা ও ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি দেখিয়ে স্কুল খুলতে হবে এবং প্রতি মাসে শিক্ষককে ২ হাজার টাকা বেতন প্রদান করা হবে। আবার ৫ হাজার টাকা জমা দিলে একটি ডিনার সেট ও সাড়ে ৭ হাজার টাকা জমা দিলে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ২৫০ টাকা হারে জমা নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষক ২টি বোনাস পাবেন ও ক্ষুদ্র ঋণের আদায়কৃত কিস্তির কমিশন প্রাপ্ত হবেন। সর্বনিম্ন ১৫ জন ও সর্বোচ্চ ২৮ ছাত্র-ছাত্রী থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের বয়স ৫ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে হতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেক মাসিক ৫০ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে। ৪৫ দিন স্কুল চলার পর ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা ১০ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করার সুবিধা পাবে। সংস্থা থেকে চক, ডাস্টার, বই, স্লেট, খাতা, কলম, বসার চট, ব্লাক বোর্ড প্রভৃতি বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু ফেব্স সোসাইটির আশাশুনিতে কোন কার্যালয় না থাকায়, প্রকল্প পরিচিতি ও তেমন কোন প্রচার না হওয়ায় জাতিসংঘের অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভূগছেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক ও ভর্তিকৃত ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বেতন মাত্র ২ হাজার টাকা হলেও নিরক্ষর মানুষের জন্য কাজ করতে পারব বলে চাকুরিটি নিয়েছি। কিন্তু প্রকল্পটি কতদিন চলবে এবং আদৌ আশাশুনিতে অফিস হবে কি না তা উল্লেখ না থাকায় শুধু ডিনার সেট অথবা সেলাই মেশিন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় কি না এ ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত সুপারভাইজার প্রবীর কুমার ও জনৈক রবিউল ইসলামের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, কলারোয়ার জোনাল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মামুন স্যারের নির্দেশে আমরা শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তি বাবদ শর্তানুযায়ী নগদ টাকা নিচ্ছি। এর বেশি আমরা বিস্তারিত কিছু জানতে পারিনি।
খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, ইতিমধ্যে শিক্ষক নিয়োগে জামানত ও ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিতে রেজিস্ট্রেশন বাবদ প্রায় ১শ স্কুলের জন্য ১০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ফেবস সোসাইটি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।