মণিরামপুরে ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় ২৯টি মামলা দায়ের


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৪ ||

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, অগ্নিকাণ্ড, বোমাবাজি, বুথ ভাঙচুরসহ পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার একাধিক সহিংস ঘটনায় ভোট বিরোধীদের নামে ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মণিরামপুরের ১২২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের বিএনপি ও জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। ভোটবিরোধী চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে প্রকাশ্য সহিংসতা করেছে। এরা মুখোশ পরে বেকি দা, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোটা নিয়ে ১০/১৫ জনের পৃথক পৃথক দল ভোট কেন্দ্র গুলোতে ঢুকে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে ভোটের বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। কোথাও কোথাও সন্ত্রাসীরা ভোটের সামগ্রী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
স্থগিতকৃত ৬০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে নেহালপুর কলেজিয়েট স্কুল, বাজিতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উত্তর মুজগুন্নি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ৩টিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভোটবিরোধীদের হামলার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং অফিসার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কমবেশি শারীরিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। স্থগিতকৃত অধিকাংশ কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের অভিযোগ, তারা হামলার শিকার হওয়ার পর বা হামলার শিকারের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষের নিকট সাহায্য চেয়েও পাননি। ফলে সন্ত্রাসীদের দ্বারা অবরুদ্ধ অবস্থায় থেকে উল্টো তাদের হাত, পা ধরে নিজের প্রাণটা বাঁচিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ফিরে আসেন।
উপজেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২৮টি কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সোমবার মণিরামপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। এসকল মামলায় কোন আসামির নাম উল্লেখ নেই। তবে ভোটের আগের দিন রাতে সমশকাটী গ্রামে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ২০ রাউন্ড গুলি খোয়া যাওয়া, ওসিসহ ৯ জনকে মারপিট করে আহত করার ঘটনায় স্থানীয় চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা জিএম মিজানুর রহমানসহ ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার দুপুরে থানায় মামলা হয়। যার মামলা নং- ০৪(১)১৪। ভোট কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মামলা হওয়া প্রসঙ্গে ওসি (সার্বিক) মীর রিজাউল হোসেন বলেন, উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের নিকট থেকে ২৮টি এজাহার পাওয়া গেছে। এগুলো মামলা হিসাবে রেকর্ড করা হচ্ছে।