মণিরামপুরে নাশকতার প্রস্তুতিকালে বিএনপি-জামায়াতের মুখোশ বাহিনীর পাঁচ সদস্য আটক


প্রকাশিত : January 14, 2014 ||

মণিরামপুর প্রতিনিধি: রোববার রাতে মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র মুখোশ বাহিনীর ৫ সদস্য জনতার হাতে ধরা পড়েছে। এরা কালি মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গ্রাম পাহারার লোকজন তাড়া করে তাদেরকে গণপিটুনি দেয়। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার ৪নং ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ২২ মার্চের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র মুখোশ বাহিনীর কয়েকটি দল ধারাবাহিকভাবে নাশকতা সৃষ্টি করে আসছিল। এই বাহিনীর সদস্যরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সরকার দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থী এ্যাড. খান টিপু সুলতানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হুমায়ুন সুলতান সাদাবের প্রাইভেট কার ও দুইটি মোটর সাইকেল ভাঙচুর করে তাকে হত্যার জন্য হামলা চালায়। এই গ্রামের দুই গৃহবধূকে মুখোশ বাহিনীর সদস্যরা ধর্ষণ করে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। এছাড়া ঢাকুরিয়া বাজারে মুখোশ পরে সশস্ত্র মিছিল করে আসছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে একই বাহিনীর সদস্যরা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। মুখোশ পরে তারা ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সব কয়টি ভোট কেন্দ্রে বোমাবাজি করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ভোট বন্ধ করেছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মুখোশ বাহিনীর কাউকে এই পর্যন্ত আটক করতে পারেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর থেকে ভরসা উঠিয়ে নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিটি গ্রামে রাতে গণপাহারার ব্যবস্থা করেছে।
সূত্রমতে, গণপাহারার এই দল রোববার রাত ৭টার দিকে জানতে পারে চাপাকোনা বটতলা মোড়ের কাছে একটি বাগানে মুখোশ বাহিনীর ৬/৭ জন সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় গোপন বৈঠক করছে।
জনৈক ব্যক্তি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার ওজুহাতে ওই বাহিনীর গোপন বৈঠকের কাছাকাছি অবস্থান করে জানতে পারে বাহিনীর সদস্যরা মন্দিরে হামলা ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ লুটপাট করার শলাপরামর্শ করছে। তাদের বৈঠকের এই খবরা খবর সংগ্রহ করে গণপাহারার সদস্যদের জানিয়ে দিলে ঐক্যবদ্ধ গণপাহারার সদস্যরা মুখোশ বাহিনীকে তাড়াকরে ঘটনাস্থলে ৩ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে। সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া আরো ৩ জন প্রতাপকাটি ও হরিদাসকাটি এলাকার গণপাহারার কর্মীদের হাতে আটক হয়। এদের মধ্যে ব্রাহ্মণপুর গ্রামের নুরো কাজির ছেলে যুবদল কর্মী ইকবাল (২৫) কে ঢাকুরিয়া বাজারের জনৈক ডাক্তার ছাড়িয়ে নেন। ধৃত অপর ৫ জনকে রাত ১০টার দিকে মণিরামপুর থানার সেকেন্ড অফিসার শাহাজান মিয়ার নিকট সোপর্দ করা হয়। এরা হলেন- ব্রাহ্মণপুর গ্রামের কওছার আলীর ছেলে তরিকুল (৩০), আলতাফ হোসেনের ছেলে আকতার (২৪), ওহাব আলীর ছেলে বিল্লাল (২৫), চাপাকোনা গ্রামের মনোরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে সৌরভ কুমার প্রজ্ঞা (৩০) ও যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর গ্রামের মৃত সদর আলীর ছেলে দ্বীন ইসলাম (২৮)।
এ ব্যাপারে মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দীন হাওলাদার গ্রাম পাহারার কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা সকলেই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।