গতানুগতিক প্রচারণা চালানোই খান টিপু সুলতানের পরাজয়ের কারণ


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৮, ২০১৪ ||

মণিরামপুর প্রতিনিধি: শুধুমাত্র ভোটে জেতার জন্য বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকে কাছে টানার নীতি গ্রহণ না করায় পরাজয় হয়েছে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এ্যাড. খান টিপু সুলতানের। এমনটিই মনে করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।
জানাযায়, সারা দেশের ন্যায় যশোর-৫ আসনেও ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দিন বিএনপি, জামায়াত-শিবিরসহ ১৮ দলীয় জোটের কোন নেতা-কর্মী ভোট দিতে কেন্দ্রে যাননি। তারা প্রকাশ্য ভোট বিরোধী ভূমিকা নিয়ে তাদের ভোটারদের ভোট কেন্দ্র থেকে দূরে রেখে ১২২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রিত ৬২টি ভোট কেন্দ্রে নাশকতা চালিয়ে ভোট স্থগিত করে দেয়। ১৮ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই আসনের বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জীবন মরণের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করে। ওই দিনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত ৬২টি ভোট কেন্দ্রে ৪৮,৩৬২ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন। এই নির্বাচনে নৌকা মার্কা ৩০,৫৩১ ও কলস মার্কা ১৮,৩৩১ ভোট পায়। এক্ষেত্রে কলস মার্কা থেকে ১২,২০০ ভোটে নৌকা মার্কা এগিয়ে থাকে।
জানাগেছে, স্থগিতকৃত ৬০ কেন্দ্রে ১১ দিন পর ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের ঘোষণা দেয়া হলে নৌকা মার্কার প্রার্থী গতানুগতিক প্রচারণা চালান। অন্যদিকে পিছিয়ে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্য্য চাঁদ ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে জয়লাভ করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে ও সরাসরি ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাব দেওয়া হয়, ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা যদি ভোট কেন্দ্রে এসে কলস মার্কায় ভোট দেয় এবং এই ভোটের মাধ্যমে কলসের বিজয় হয় তাহলে ১৮ দলীয় জোটের পলাতক নেতা-কর্মীরা নিরাপদে নির্বিঘেœ এলাকায় বিচরণ করে সমঅধিকার ভোগ করতে পারবে।
১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে, তারা শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ মোতাবেক পলাতক জীবন থেকে প্রকাশ্য জীবনে ফিরে আসার জন্য এবং তাদের নামে রুজুকৃত মামলা মোকর্দ্দমা নিষ্পত্তির আসায় তারা হুমড়ি খেয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কলস মার্কায় ভোট প্রদান করেন।
কেন্দ্র ওয়ারী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ভোট প্রদানের ফলে প্রতিটি কেন্দ্রে আনুপাতিক হারে কলস মার্কা ৩০০ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছে।