যারা সাতক্ষীরায় আসেনি তারা বুঝবে না সাতক্ষীরায় কি হয়েছে: অধ্যাপক মুনতাসির মামুন


প্রকাশিত : January 26, 2014 ||

ডেস্ক রিপোর্ট: ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেছেন, ৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী খুঁজে খুঁজে হত্যা করার আগে জিজ্ঞাসা করেছিল তোম হিন্দু হ্যায় না মুসলিম? এবারের জামায়াত বিএনপির সন্ত্রাসীরা হত্যা ও লুটপাট করার আগে জিজ্ঞাসা করে তোম হিন্দু হ্যায় না আওয়ামী লীগ হ্যায়? জামায়াত-শিবিরের বর্বরতা ও সন্ত্রাসীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে মুনতাসির মামুন বলেন, যারা সাতক্ষীরায় আসেন নি, যারা শুধু পত্রিকার প্রতিবেদন পড়েছেন তারা বুঝবেন না সাতক্ষীরায় কি হয়েছে? তারা এত নির্মমভাবে খুন করেছে যে তাদের হাত থেকে ৮ বছরের শিশু, মুক্তিযোদ্ধা, মানবাধিকার কর্মীরাও বাঁচতে পারেনি। শনিবার বিকালে দেবহাটা উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের হামলায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেয়া প্রেস ব্রিফিং এ আতঙ্ক ও উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, হামলার এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখে মনে হয়েছে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া কঠিন। এলাকায় ৫জনের নাম প্রকাশ পেয়েছে যারা এই সকল হামলার সাথে জড়িত। এদের মধ্যে একজন আফগান ফেরত জঙ্গী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা এলাকায় থাকলেও এদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফরের সময় তার সফর সঙ্গী ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির খুলনার সভাপতি ডা. বাহারুল আলম, সদস্য দীনবন্ধু বর্ধন, অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সুভাস সরকার, মুক্তিযোদ্ধা হাসনে জাহিদ জজ, হাফিজুর রহমান মাসুম, শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ দেবহাটা উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মুজিবুর রহমান, সুভাষঘোষ ও নিহত আবু রায়হান, অয়জুদ্দিন আজুর বাড়িতে যান।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বলেন, হত্যা ও নির্যাতনের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে কোন কেন্দ্রীয় নেতা সাতক্ষীরায় আসেননি। ভবিষ্যতে যে কঠিন দিন আসছে তার জন্য ১৪ দল ও আওয়ামী লীগকে নতুন করে সিন্ধান্ত নিতে হবে। তাদেরকে রাজনীতির ধারা পাল্টাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত রাজনীতি সমঝোতার রাজনীতি। জামায়াতীদের আত্মীয়দের আওয়ামী লীগ রক্ষা করলেও জামায়াত তাদের আওয়ামী লীগার আত্মীয়দের রক্ষা করেনি। তাদের উপর হামলা ও হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী সাতক্ষীরা সফরে আসার পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগণের মধ্যে সাহস ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর পুনর্বাসন কাজ ক্ষতিগ্রস্তদের মনে সাহস যুগিয়েছে। ১৪ দলকে রাজনৈতিক ধারা বদলাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমঝোতার রাজনীতি ছেড়ে এখন প্রতিরোধের রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। এলাকার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বর্তমান পুলিশ সুপারের কার্যক্রমকে এলাকাবাসী প্রশংসা করেছে উল্লেখ করে বলেন, এলাকায় এখনো অনেক পুলিশ কর্মকর্তা জামায়াতীদের সঙ্গে আতাতের কারণে সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। এসকল কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।