অবরোধ-হরতালের প্রভাবে ভরা মৌসুমেও পর্যটক নেই সুন্দরবনে


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৯, ২০১৪ ||

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সুন্দরবনে পর্যটন শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পর্যটনের ভরা মৌসুমেও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের লীলাভূমি সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমন হতাশজনক। এমন অবস্থা চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে এ খাতে নিয়োজিতদের প্রায় ১০ কোটি টাকা লোকসান হবে। সরকার হারাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব।
জানা গেছে, জুলাই মাস থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়। তবে অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটকদের আগমন ঘটে সব থেকে বেশী। প্রতি বছর এ সময় হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। কিন্তু জানুয়ারি মাস শেষ হতে চললেও সাড়া পড়েনি পর্যটক আগমনে। ভয়ংকর সুন্দর জোয়ার-ভাটার ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বনের সুন্দরী গাছ, বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবী চিত্রা হরিণ আর নানারূপের সুন্দরবনে পর্যটকদের দেখা নেই।
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও টানা অবরোধ-হরতালের কারণে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ীদের বড় ধরণের লোকসান গুণতে হবে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। খুলনায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩০টির অধিক পর্যটন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আছে। পর্যটক না আসায় প্রতি মাসে তাদের লক্ষাধিক টাকা লোকসান হচ্ছে। চলতি মৌসুমের এ সময় থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন না ঘটলেও পর্যটক ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা লোনসান গুণতে হবে।
বনবিভাগের মতে, একজন বিদেশী পর্যটক সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা ভ্রমণ করলে প্রতিদিনের জন্য তাকে কর দিতে হয় পনের’শ টকা, আর অভয়ারণ্যের বাইরে ভ্রমণ করার জন্য কর দিতে হয় ৭শ টাকা। দেশী পর্যটকের ক্ষেত্রে এ করের হার অভয়ারণ্যে ১৫০ টাকা ও অভয়ারণ্যের বাইরে ৭০ টাকা।
সুন্দরবন বনবিভাগের উর্দ্ধতন কর্তকর্তা জানান, পর্যটন মৌসুমের শুরুতে হরতাল, অবরোধের কারণে মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করেছে। এর ফলে সুন্দরবনে পর্যটকের আগমনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সুন্দরবন পর্যটক ব্যবসায়ীরা যেমন লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন, তেমনি সুন্দরবন বনবিভাগেরও আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।