গাবুরায় বিরোধপূর্ণ চিংড়ি ঘের দখলের চেষ্টাকালে আটক ১৪, পাঁচটি বোমাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০১৪ ||

গাবুরা প্রতিনিধি: বিরোধপূর্ণ চিংড়ি ঘের দখলের প্রস্তুতিকালে কোস্টগার্ড ১৪ দুর্বৃত্তকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার আইলা কবলিত গাবুরা ইউনিয়নের গাগরামারি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি লোহার পাইপ, পাঁচটি হাত বোমাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলো, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের ইশার আলী মিস্ত্রীর ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান (৪০), কালিগঞ্জ উপজেলার কাজলা গ্রামের আনছার সরদারের ছেলে মুর্শিদ হোসেন (৪২), একই গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছেলে ইসরাইল হোসেন (২৯), একই উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোজাফফর রহমান (৩৮), ভাঙানমারি গ্রামের নেছার গাজীর ছেলে বাবর আলী গাজী (৫৫), কাশিবাটি গ্রামের মোর্শেদ আলীর ছেলে আরছ আলী (২৫), নলতা গ্রামের তৌহিদ সরদারের ছেলে মঈনুদ্দিন সরদার (৩৬), দেবহাটা উপজেলার পলগাদা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩২), আশাশুনি উপজেলার বসুখালি গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৮), একই গ্রামের আকবর গাজীর ছেলে আব্দুস সালাম (৩০), আকরাম হোসেনের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৪), আহম্মদ ফকিরের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৩৮), সাতক্ষীরা শহরের কুকরালি গ্রামের শহীদ হাওলাদারের ছেলে মোমিন হাওলাদার (৩৯) ও তার ছেলে আবু মুছা (২০)।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাগরামারি গ্রামের শহর আলী ও সাহেব আলী জানান, পারশেমারি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদসহ কয়েকজন নিজেদের জমিসহ তাদের গ্রামের বাক্কার খাঁ, সাত্তার খাঁ, আসাদুল্লাহ আল গালিবসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ৩০০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিংড়ি ঘের করে আসছিল। ইজারার টাকা ঠিকমত না পাওয়ায় ২০১১ সালে জমির মালিকরা ২৫০বিঘা জমি নিজেরা চাষ করার উদ্যোগ নিলে ইজারা গ্রহীতাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ বাঁধে। এ নিয়ে জমির মালিকপক্ষ ও ইজারা গ্রহীতাদের সঙ্গে কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
তারা আরো জানান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদ এ ঘেরের অবস্থান নিয়ে মীমাংসার দায়িত্ব দিলে তিনি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজকুমার বিশ্বাসকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী মৎস্য কর্মকর্তা বিরোধপূর্ণ দু’পক্ষের সকলকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় তার অফিসে শুনানির জন্য দিন ধার্য করে নোটিশ জারি করেন। একইভাবে জমির মালিক ও নতুন ইজারা গ্রহীতারা শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দিলে বুধবার সন্ধ্যায় থানায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসাবসি করেন। কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
গ্রামবাসী জানান, ২০-২৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গাগরামারি গ্রামের বিরোধপূর্ণ চিংড়ি ঘের দখলে নেওয়ার জন্য ওই গ্রামের বাক্কার খাঁ ও সাত্তার খাঁ’র বাড়িতে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে অবস্থান নেয়। তারা মুখে কাপড় বেঁধে প্রকাশ্য দিবালোকে আব্দুল মজিদের পক্ষের লোকজনদের ঘেরে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিতে থাকে। প্রতি রাতে মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার জোড়সিং আঙটিহারা কোস্টগার্ড ফাঁড়ির কর্মকর্তা শাজাহান আলী জানান, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের গাগরামারি গ্রামে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল সশস্ত্র জড়ো হয়েছে মর্মে তিনি জানতে পারেন। এরই ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে বাক্কার খাঁ ও সাত্তার খাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। আটক করা হয় ১৪ জন সন্ত্রাসীকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় তিনটি লোহার পাইপ, পাঁচটি হাতবোমা, চারটি রামদা, দু’টি ছুরি, দু’টি বল্লম ও কিছু বোমা তৈরির সরঞ্জাম।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় অসনের সদস্য এসএম জগলুল হায়দার জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। তবে সংসদ অধিবেশনের জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় কোন মন্তব্য করা যাবে না।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছগির মিঞা জানান, গাবুরায় ১৪ জন দুর্বৃত্ত আটক হওয়ার ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।