অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না জামায়াত-শিবিরের হামলায় জখম প্রণবের


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০১৪ ||

ডেস্ক রিপোর্ট: দেবহাটা উপজেলার আজিজপুর গ্রামের প্রণব বিশ্বাস একজন রেফ্রিজারেটর মিস্ত্রী। কাজ করেন পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের সেলিমের দোকানে। জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হচ্ছে জানতে পেরে গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যা না হতেই বাড়ি ফিরে যান তিনি।
কিন্তু ফাসিঁর দিন রাত ১০টার পর এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে কয়েকজন যুবক ঘর থেকে বাইরে আসার জন্য বলে। দেরী করলে ঘরে আগুন দেওয়ার ঘোষণা দেয় তারা। একপর্যায়ে ভয়ে ভয়ে বেরিয়ে আসতেই তার মুখ বেঁধে নিয়ে যায় কয়েকজন জামায়াত-শিবিরের লোকজন। কিছুদূর নিয়ে যাওয়ার পর তার মাথা, পিঠ, বুক ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সখিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয়রা। এক্সরে করার পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের অর্থপেডিকস সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম তার (প্রণব) কোমরের হাড় ফেটে গেছে বলে জানান। এরপর থেকে চলছে তার দীর্ঘ চিকিৎসা। খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকাও বেশি।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চেক আপ করাতে এসে প্রণব আরো জানান, বাবা গোবিন্দ বিশ্বাসের স্বল্প জমি রয়েছে। তিন ভাই ও বোন তারা। বোনকে সম্প্রতি বিয়ে দিয়েছেন। তাতে কিছু টাকা ঋণী হয়েছেন। বড় ভাই মোটর ম্যাকানিক ও ছোট ভাই নবম শ্রেণিতে পড়ে। সংসারের খরচ বহন করার পর তার এখন আর ঔষধ কেনার টাকা যোগাড় করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ফলে পঙ্গুত্ব নিয়ে কোমরে বেল্ট লাগিয়ে যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সমর্থক প্রণব বিশ্বাস আক্ষেপের সঙ্গে বলে, আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়ার কারণে জীবনে এত বড় কষ্টকে মেনে নিতে হবে তা ভাবতে পারেনি। প্রতিবেশী নিমাই বিশ্বাস হামলার ভয়েই স্বপরিবারে জীবন নিয়ে পালিয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রণব বলেন, এরপরও বেঁচে থাকাটাই বড় পাওনা। তারমত যেন আর কেউ এ বর্বরোচিত হামলার শিকার না হয়।
এ ব্যাপারে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রণব আঘাতের ফলে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছে। প্রণবের উপর হামলার ঘটনায় সে নিজেই বাদী হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে থানায় মামলা করেছে। অপরাধীরা পলাতক রয়েছে।