চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: আশাশুনিতে চেয়ারম্যান পদে মোস্তাকিম ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মজিদা খানমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে আ.লীগ

শেখ তানজির আহমেদ: আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোস্তাকিমকে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। একই সাথে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভানেত্রী মজিদা খানমকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সভায় উপজেলার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামতকে মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহিদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক আবু আহমেদ, প্রচার সম্পাদক আজিবার রহমান, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ।
সভায় আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের ২৮১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৮৪ জন সরাসরি ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত করেন। এতে এবিএম মোস্তাকিম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার জন্য ১৮৪ জনের মনোনয়ন পান।
অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভানেত্রী মজিদা খানমকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে, এ পদে কোন ভোটাভুটি হয়নি। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে এখনো কাউকে মনোনীত ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র জানায়, আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মোট ১০ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের তিন নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সরদার হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম এবং আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসাম পিন্টু।
এদিকে সভার একটি সূত্র জানিয়েছে- প্রার্থী মনোনয়ন সভায় সমর্থন না পেয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন আশাশুনি সদর ইউপি চেয়ারম্যান এড. শহিদুল ইসলাম পিন্টু ও তার সহযোগী আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নিলকন্ঠ সৌম। তবে, সরদার হাফিজুর রহমান আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোস্তাকিমকে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রে আশাশুনি উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য আগামীকাল ২ ফেব্র“য়ারি সকাল ১০টায় এক সভা আহবান করেছেন। ওইপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, একই উদ্দেশ্যে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় আশাশুনি মহাবিদ্যালয়ে সভা আহবান করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে একটি প্রার্থীর পক্ষ হাজির না থাকায় ২ ফেব্র“য়ারি ফের সভা আহবান করা হয়েছে।

ফেব্র“য়ারি এলো, এলেন না ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ

শেখ জিল্লু<=> মাতৃভাষার অধিকার অর্জনের গৌরবোজ্জ্বল মাস ফেব্র“য়ারির আজ প্রথম দিন। বছর ঘুরে আবার এলো আমাদের ভাষার মাস ফেব্র“য়ারি। কিন্তু এলেন না সেই ভাষা সৈনিক। যিনি আমাদের চেতনায় দেদীপ্যমান হয়ে রয়েছেন সুদীর্ঘকাল ধরে। তাঁকে ছাড়াই এবার আমরা পালন করবো মহান একুশে ফেব্র“য়ারি, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস। স্বশরীরে আর কোনোদিন উপস্থিত থাকবেন না তিনি একুশের কোনো অনুষ্ঠানে। শুধু থাকবেন চেতনায় ও স্মৃতিতে অম্লান হয়ে। তিনি আর কেউ নন, সদ্য প্রয়াত ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ। মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের এই মাসে প্রয়াত এই ভাষা সৈনিকের অভাব ভীষণভাবে বোধ করছেন এ জনপদের ভাষাপ্রেমি প্রতিটি মানুষ। আর শোনা যাবে না তাঁর চেতনাদৃপ্ত বক্তব্য ও অনুপ্রেরণার মহান বাণী। তিনি ছিলেন আমাদের সবার শিক্ষাগুরু। তিনি যৌবনের সোনালি সময়ে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শুধু সোচ্চার ছিলেন না, নেতৃত্ব দিয়েছেন একেবারে সামনে থেকে। বায়ান্ন’র মহান ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তিনি আজও আমাদের চেতনায় সমুজ্জ্বল।
শেখ আমানুল্ল¬াহকে এদেশের মানুষ এক নামে জানেন একজন বিদগ্ধ শিক্ষক নেতা হিসেবে। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সারাটা জীবন তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি যে একজন ভাষা সৈনিক, তা অনেকটা রয়ে গেছে ইতিহাসের আড়ালে। জানা যায়, শেখ আমানুল্ল¬াহ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম এক যোদ্ধা ছিলেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই ভাষা সৈনিকের বায়ান্ন’র সেই সংগ্রামমুখর দিনগুলোর সাহস ও বীরত্বের কথা অনেকেই জানেন না। প্রচার বিমুখ এই ভাষা যোদ্ধাকে আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিকথা জানানোর জন্যই। জানা গেছে, ১৯২৯ সালের ৫ জুলাই কলারোয়ার ঝাঁপাঘাট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শেখ আমানুল্ল¬াহ।
২০০৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে শেখ আমানুল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালে যশোর এমএম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। সে সময়ের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আলমগীর সিদ্দিকী, আফসার আহম্মেদ সিদ্দিকী, রনজিৎ কুমার, হামিদা বানু, শেখ আমানুল্ল¬াহসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ। তিনি জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ এমএম কলেজ থেকে একটি মিছিল এসে জমায়েত হয় তদানিন্তন ট্রেডিং ব্যাংক ময়দানে। সেখানে উপস্থিত বক্তারা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় শপথ ব্যক্ত করেন। ওই একই বছরের ১৪ মার্চ কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে স্কুল-কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর সাথে যোগ দেন সাধারণ জনতা। যশোর কালেক্টরেট ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল গণসমাবেশ। সমাবেশ পণ্ড করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে আলমগীর সিদ্দিকী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন অনেক নেতা-কর্মী। সারা দেশের মধ্যে সে সময়ে যশোরেই প্রথম ভাষা আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
৪৮ থেকে ৫২’র একুশে ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ভাষার দাবিতে সংঘটিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবগুলো আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ আমানুল¬াহ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ভাষার আন্দোলনে অবদান রাখা এই মানুষটির প্রকৃত মর্যাদা তাঁর জীবদ্দশায় সেভাবে হয়তো মেলেনি। নতুন প্রজন্ম জানে না ভাষার জন্য লড়াকু এই মানুষটির সংগ্রামের কাহিনী। প্রতি বছর একুশ’র বিভিন্ন আলোচনা সভায় শেখ আমানুল্ল¬াহ বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরতেন তাঁর জীবনের অনেক পাওয়া না পাওয়ার কথা। আর কোনোদিন এ প্রজন্ম শুনতে পাবে না তাঁর বাণী। ৫ মাস আগে তিনি ঘাতক ব্যাধির কাছে হার মেনে চিরতরে চলে যান একেবারে না ফেরার দেশে। গত বছরের ৩১ আগস্ট (২০১৩) বেলা ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্ল¬াহ।
শেখ আমানুল্লাহ’র বিশ্বাস করতেন, বাঙালি জাতির যা কিছু অর্জন, তার মূলে রয়েছে একুশের চেতনা। ভাষা আন্দোলনই বাঙালির সব আন্দোলন-সংগ্রাম ও অর্জনের পটভূমি। মাতৃভায়ায় কথা বলার অধিকার হলো একুশের শ্রেষ্ঠ অর্জন। একুশের পথ বেয়েই এসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ পেয়েছে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি মানচিত্র আর সবুজের বুকে রক্তখচিত জাতীয় পতাকা। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারায় তিনি গর্ব বোধ করতেন। কেননা, এই আন্দোলনই দিয়েছে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। বিশ্বের ১৮৮টি দেশে একযোগে পালিত হয় এ দিবসটি। তাই এ গৌরব বাংলাদেশের। এ গৌরব ভাষা শহিদদের। একুশের কয়েকটি অনুষ্ঠানে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে আজও পাইনি উল্লেখ করার মত কোনো স্বীকৃতি। এরপরও কেউ ভাষা সৈনিক বললে বুকটা এক অন্য ধরনের গর্বে ভরে যায়।
শেখ আমানুল্লাহ’র প্রত্যাশা, তৃতীয় শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত বাংলা পাঠ্য বইয়ের একটি প্রবন্ধ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভূক্ত থাকা দরকার। তিনি মনে করতেন, তাহলে একুশের চেতনা ধারণ করেই একজন শিক্ষার্থী বেড়ে উঠতে পারবে। কলারোয়ার বেসরকারি কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে শহিদ মিনার গড়ে না উঠায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করতেন সব সময়। বিশেষ করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপনের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করতেন। ভাষা সৈনিক প্রয়াত শেখ আমানুল্লাহ’র সৃষ্টিশীল কর্মময় জীবনাদর্শে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দেশপ্রেম-ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে- এমনটি প্রত্যাশা ভাষাপ্রেমিদের। তাঁর নামে কলারোয়ায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘শেখ আমানুল্ল¬াহ ডিগ্রী কলেজ’ আজ দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া মানুষের শ্রদ্ধায় ও উপলব্ধিতে প্রয়াত শেখ আমানুল্লাহ’র অবস্থান ছিলো, আছে, থাকবে এক অনন্য উচ্চতায়।

জেলার প্রত্যেক উপজেলায় মিল্ক ভিটার চিলিং সেন্টার স্থাপনের দাবি খামার মালিকদের

শহীদুল ইসলাম: দুগ্ধ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা সাতক্ষীরায় সরকারিভাবে দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র না থাকায় খামারীরা পড়েছেন বিপাকে। জেলায় ৭টি উপজেলার একটিমাত্র দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র শহরতলীর বিনেরপোতায় অবস্থিত। ফলে জেলার কলারোয়া, তালা, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার খামারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে মিল্ক ভিটার একটিমাত্র চিলিং সেন্টার (দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র) রয়েছে সাতক্ষীরায়। ফলে দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামার মালিকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা কোম্পানির কাছে। খামারীরা লোকসানের মুখে না পড়লেও লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে মিল্ক ভিটার চিলিং সেন্টার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন খামার মালিকরা।
শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সাথে মতবিনিময়কালে বক্তারা এ দাবি জানান।
সাতক্ষীরা জেলা দুগ্ধ খামার মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শংকর ঘোষ বলেন, সাতক্ষীরায় সাড়ে তিন হাজার খামার রয়েছে। জেলায় গাভীর সংখ্যা ৪ লক্ষ ২৮ হাজার। জেলায় এক লক্ষ ২০ হাজার মানুষ দুগ্ধ উৎপাদনের সাথে জড়িত। জেলায় ২০ লক্ষ মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দৈনিক ৮০ থেকে ৮৫ হাজার লিটার দুধ জেলার বাইরে পাঠানো হয়। সাতক্ষীরার সরকারি ও বেসরকারিভাবে ২৬টি চিলিং সেন্টার রয়েছে। এরমধ্যে মিল্ক ভিটার একটি, ব্যাকের আড়ংয়ের ১৭টি এবং প্রাণ কোম্পানির ৮টি।
তিনি আরো বলেন, আড়ং প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার, প্রাণ কোম্পানি ১৫ হাজার লিটার এবং মিল্ক ভিটা ২৫ হাজার লিটার দুধ ক্রয় করে। বাকী দুধ জেলার বিভিন্ন বাজারের হোটেলে-রেস্তোরায় সরবরাহ করা হয়।
শংকর ঘোষ বলেন, দুগ্ধ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা খ্যাতি লাভ করেছে। জেলার এক লক্ষ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে জৈব সার সরবরাহ করেন খামার মালিকরা। এছাড়া বছরে প্রায় ৪৫ কোটি টাকার কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক ওষুধ লাগে। খামার মালিকদের সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ৪৫কোটি টাকার বিষ ক্রয় থেকে কৃষকরা রক্ষা পাবে।
একই কথা বলেন, জেলা দুগ্ধ খামার মালিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি শেখ আমিনুল ইসলাম ও রাম প্রসাদ মণ্ডল (বাবু)।
এদিকে শুক্রবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সাথে মতবিনিময় করে দুগ্ধ খামার মালিকরা তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সাতক্ষীরার প্রত্যেক উপজেলায় কমপক্ষে একটি করে মিল্ক ভিটার চিলিং সেন্টার স্থাপনের দাবি জানান।
সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি দুগ্ধ খামার মালিকদের সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, সাতক্ষীরা কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে দেশের অন্য জেলার সাথে প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে আছে। কিন্তু সাতক্ষীরায় শিল্প ও কারখানা না থাকায় এখানকার কৃষক ও খামার মালিকরা মুনাফা থেকে বঞ্চিত। একাত্তরের পর ৪০ বছর সাতক্ষীরা শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। ফলে এ জেলায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন শুরু হয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার স্বপ্ন নিয়ে সাতক্ষীরাবাসী ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে প্রাণ ভরে ভোট দিয়ে আবারো ক্ষমতায় বসিয়েছে। সাতক্ষীরাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাংসদ মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নৈরাজ্য-নাশকতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবেই একটি সুন্দর-নান্দনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ জন্য উন্নয়ন ও শান্তিকামী সকল মানুষকে সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। আবারো ঘুরে দাঁড়াতে হবে।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ও দুগ্ধ খামার মালিক অধ্যাপক আনিসুর রহিম, মনিরুল ইসলাম মিনি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তৃপ্তি মোহন মল্লিক, খামার মালিক মহানন্দ দাশ, শেখ আলমগীর হোসেন সেলিম, মুজিবর রহমান প্রমুখ।

বিএনপিপন্থি পেশাজীবীদের সাথে কলারোয়া উপজেলা নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

কলারোয়া প্রতিনিধি: নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সংখ্যালঘু নির্যাতন, সহিংসতা, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘণ ও বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাবলী তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির সাথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বাসভবনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন নাগরিক তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএনপি-জামায়াতপন্থি অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, এড. এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, এড. এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিরাজউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, সঞ্জীব চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি প্রাক্তন অধ্যক্ষ রইছ উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব মোল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শ্যামনগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম

শ্যামনগর অফিস: শ্যামনগরে সরস্বতী পূজার চাঁদা না দেওয়ায় মহাদেব (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে চাঁদাবাজরা। আহত মহাদেবকে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সরস্বতী পূজা উপলক্ষে নকিপুর গ্রামের অরুন পালের ছেলে কৃষ্ণ পাল (২১), ভবেন চক্রবর্তীর ছেলে সমেন (২২), বিমল পালের ছেলে অরুপ পাল, অসীম দের ছেলে কৌশিক দে, রমেশ কুন্ডুর ছেলে পথিকসহ অন্যান্যরা শুক্রবার দুপুরে শ্যামনগর বাজারের মা বাণিজ্য বিতানে (মুদি দোকান) যেয়ে দোকান মালিক দেবুরঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে মহাদেবের নিকট ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় মহাদেব ৫শ টাকা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। বিকাল ৪টায় মহাদেব বাড়ি যাওয়ার পথে হরিতলা নামক স্থানে পৌঁছালে হুমকিদাতারা তার উপর হামলা করে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় স্থানীয়রা মহাদেবকে উদ্ধার করে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করে।
স্থানীয় শিক্ষক গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ওই ছেলেরা আমার কাছেও ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে, না দিলে এ গ্রামে বসবাস করা যাবে না বলেও হুমকি দেয়।

খুলনায় হরিজন পল্লীতে অগ্নিকাণ্ড

ন্যাশনাল ডেস্ক: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় ময়লাপোতা হরিজন পল্লীতে আগুন ধরেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সাঈদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে হরিজন পল্লীর ২৫/৩০টি ঘর পুড়ে গেছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খুলনার আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস অফিসের মোবিলাইজিং অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ৭টি পানির গাড়ি এবং আলো দেয়ার জন্য একটি লাইট ইউনিট কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের লিডার আব্বাস আলী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

সনাকের যৌথসভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), স্বজন, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্র“পের যৌথ সভা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের অদূরে আব্বাস মিয়ার বাগান বাড়িতে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সনাক সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সনাক সহ-সভাপতি হেনরী সরদার, মোমেনা খানম, সনাক সদস্য এ কে এম শহিদুল্ল্যাহ, ডা. সুশান্ত ঘোষ, পবিত্র মোহন দাস, পল্টু বাসার তৈয়ব হাসান বাবু, অলিউর রহমান, টিআইবি’র সাতক্ষীরা এরিয়া ম্যানেজার আশিক বিল্লাহ, স্বজন সমন্বয়ক মাসুদ হোসনে, ইয়েস দলনেতা সুশান্ত সরকার, সদস্য আব্দুস সামাদ, মঈনুদ্দীন আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, পিযুষ কান্তি ঘোষ প্রমুখ।
সভায় সনাক সাতক্ষীরা’র বার্ষিক প্রকাশনা ‘প্রাণ সায়র’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সভায় সনাক, স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস ও টিআইবি সাতক্ষীরা অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপান্তর’র সাধারণ সভা

শুক্রবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপান্তর-এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার উদ্বোধনী পর্বে অতিথিবৃন্দ সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি এ দেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো প্রশংসা করার মত ভূমিকা পালন করেছে।
সংস্থার চেয়ারপার্সন তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ আব্দুল হামিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট নাট্যজন সুকান্ত সরকার, রূপান্তর-এর সাংগঠনিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কর্মরত প্রতিষ্ঠান ভেরুলাম এ্যাসোসিয়েটস-এর কনসালটেন্ট নাজমুল হুদা। স্বাগত বক্তৃতা করেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ। আলোচনায় অংশ নেন রূপান্তর’র প্রবীণ কর্মী ডা. খন্দকার জহুরুল ইসলাম। রূপান্তর’র নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে সংস্থার কো-চেয়ারপার্সন রেখা সাহাসহ নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং রূপান্তর-এর সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় বলেন, তার কর্ম এলাকার অনেক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভীড়ে রূপান্তর অনেকটা আলাদা ধরনের। অনেক সংগঠন যেখানে অর্থ আয়ের নিত্য নতুন পথ খোঁজায় ব্যস্ত থাকে তখন রূপান্তর এবং তার কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যায় সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য। এটা রূপান্তরকে এ এলাকার এনজিও’র মধ্যে অনন্য করে তুলেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কলারোয়ায় ওসি শাহ্ দারার বিদায় সংবর্ধনা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ শাহ দারা খান (পিপিএম) কে শুক্রবার বিকাল ৪টায় বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।
থানার অফিসার রুমে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এসআই সাজেদুল ইসলাম, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এসআই সাফুর আহম্মেদ, এসআই হারাধন কুন্ডু, এএসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আহম্মাদ আলী, এএসআই ইমরান হোসেন, এএসআই হাসানুর রহমান, এএসআই শহিদুল ইসলাম, এএসআই মামুনুর রহমান প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন থানার বকশী শহিদুল ইসলাম, কম্পিউটার অপারেটর ইকবাল হোসেনসহ থানা পুলিশের সকল সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সরসকাটি ক্যাম্পের আইসি সাফুর আহম্মেদ।

কলারোয়ায় ব্যবসায়ী জহুরুলের মায়ের দোয়া অনুষ্ঠান

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া বাজারের ব্যবসায়ী জাবিদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জহুরুল ইসলামের মাতার মৃত্যুতে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা মরহুমার বাসভবন উপজেলা মাহমুদপুর গ্রামে এ দোয়া অনুষ্ঠা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে খতিব মাওলানা হোসেন আলির সভাপতিত্বে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা গোলাম রসুল শাহী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ কালাম, মাওলানা ওমর আলি, বাকী বিল্যাহ শাহী, লিয়াকত আীল, আব্দুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, মাওলানা তৌহিদুর রহমান, আমিরুল ইসলাম, আছের আলি, প্রভাষক রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক শেখ জিয়া, মনিরুল ইসলাম মনিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য, গত ২০ জানয়ারি জহুরুলের মাতা আফেদা খাতুন (৭০) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।

আশাশুনিতে মাদক ব্যবসায়ী সুমন ৫৫ পুরিয়া হেরোইনসহ গ্রেপ্তার

আহসান হাবিব, আশাশুনি: আশাশুনিতে মাদক ব্যবসায়ী সুমন আবারও ৫৫ পুরিয়া হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, শুক্রবার দুপুরে আশাশুনি সদরের মানিকখালী গ্রামের মাস্টার বাবর আলী সরদারের ছেলে সুমন (২৭) তার বাড়ির এলাকায় হেরোইন বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি থানার এসআই হাফিজুর রহমান ও এএসআই আব্দুস সামাদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মানিকখালী জনৈক সিদ্দিকের বাড়ির সামনে রাস্তা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে ৫৫ পুরিয়া অর্থাৎ ৭ গ্রাম হিরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। যার আনুমানিক মূল্য ২৫/৩০ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯(১) টেবিল ১(ক) ধারায় ১৩(০১)১৪নং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আশাশুনিতে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে চাউল বিতরণ

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির ১১টি ইউনিয়নের ৩ হাজার ২শ ১৫টি অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে ভিজিডি’র চাউল বিতরণ করা হয়েছে।
গত ১৬ জানুয়ারি থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত এই চাউল বিতরণ করা হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় উপজেলার শোভনালীতে ৩শ ৪৩ জন, বুধহাটায় ৩শ ২০ জন, কুল্যায় ২শ ৮৫ জন, দরগাহপুরে ২শ ১৫ জন, বড়দলে ৩শ ৪৮ জন, আশাশুনি সদরে ২শ ৮৭ জন, শ্রীউলায় ৩শ ০৫ জন, খাজরায় ৩শ ২৯ জন, আনুলিয়ায় ২শ ৮৩ জন, প্রতাপনগরে ৩শ ৩৫ জন ও কাদাকাটি ইউনিয়নে ১শ ৬৫ জনকে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়। এসময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যবৃন্দ ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

যারা দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করছে তারা জাতির শত্র“: হারুনুর রশীদ

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ’র সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ বলেছেন, ইমানকে সুদৃঢ় রাখতে হলে নামাজ আদায় করা যেমন ফরজ, তেমনি যেখানে নামাজ আদায় করা হয়, সে স্থানটিও হওয়া উচিৎ পুত ও পবিত্র এবং শান্তিপূর্ণ। কেউ কেউ ওই মসজিদে বসে দুনিয়ীবি কথা ও সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে থাকে। যারা দেশ ও জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করছে, তারা কোন অবস্থাতেই জাতির মঙ্গল কামনা করতে পারে না। তিনি আরো বলেন, দেশ ও জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন। তিনি ইসলামের প্রসারতার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথম ইসলামিক ফাউন্ডশন স্থাপনসহ অসংখ্য মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন। আজ তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসজিদ মন্দির গীর্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়ন, লাইব্রেরি নির্মাণ ও বিভিন্ন বই সরবরাহ করেছেন।
শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে নতুন বাজার জামে মসজিদের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি এস এম সাহিদুল আলমের সভাপতিত্বে ও মসজিদের মুসল্লি মফিদুল ইসলাম টুটুলের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মসজিদের সাধারণ সম্পাদক কাজী বেলায়েত হোসেন, এমএম হায়দার আলী, এনামুল ইসলাম ভূঁইয়া কচি, আব্দুস সালাম শিকদার, সাদিকুর রহমান মোল্লা, গোলাম কিবরিয়া রতন, এস এম নিজামুল হক, শামীম চেীধুরী, ফজলুল কবির ভিকু, সেলিম খান, ফাইজুল ইসলাম পলাশ, আলহাজ্ব আব্দুল কাদের, হাফেজ আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন, মসজিদের ইমাম আলতাফ হোসেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ফিংড়িতে শীতবস্ত্র বিতরণ

ফিংড়ি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুক্রবার বিকাল ৪টায় একুশেনিউজবিডি২৪ডটকম’র উদ্যোগে ১০০টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শেখ নাজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশসুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক, গাজী টিভির জেলা প্রতিনিধি অসিম চক্রবর্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের সরদার, দৈনিক জন্মভূমি’র জেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক শেখ হেদায়েতুল ইসলাম, সাংবাদিক আবু ছালেক, আগ্নেস গমেজ প্রমুখ।

খুলনায় খানজাহান আলী থানা ছাত্র মৈত্রীর সম্মেলন

বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী খানজাহান আলী থানা কমিটির সম্মেলন গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ইস্টার্ন জুট মিলস স্টাফ ক্লাব মিলনায়তনে ছাত্রনেতা আহাদুল ইসলাম পাপ্পুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা সভাপতি ছাত্রনেতা তাইজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শ্রমিকনেতা মোজাম্মেল হক। সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ছাত্রনেতা বাপ্পাদিত্য বসু। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি আঃ ছাত্তার মোল্লা, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহামুদ রানা তরুণ, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আমিনুল ইসলাম। এছাড়া বক্তৃতা করেন, ছাত্রনেতা আঃ মোতালেব, জুয়েল, মনির হোসেন, রিয়াদ হাসান তপু, অরূপ নাগ, মানিক, সজল প্রমুখ।
সম্মেলনে সর্ব সম্মতিক্রমে ছাত্রনেতা ইজাজ সরদারকে সভাপতি, আকাশকে সাধারণ সম্পাদক ও জাকারিয়াকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর খানজাহান আলী থানা কমিটি গঠন করা হয়। অপরদিকে সম্মেলন শেষে একই স্থানে ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু খুলনা জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি