হাওয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৪ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাওয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষাক গোলাম সরোয়ার ও বিগত স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি’র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ৮ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন এলকাবাসী। জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছাদুজ্জামানকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হাওয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষাক গোলাম সরোয়ার ও বিগত স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনারুল ইসলাম নিজেদের মধ্যে সখ্যতা বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছে। ২০১১ সালের ২৮ ফেব্র“য়ারি স্কুল চত্বরে থাকা ৫টি মেহগনি গাছ ও ১টি বকুল গাছ কোন নিয়ম না মেনে গোপনে বিক্রয় করে ৮৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কাওনডাঙ্গা গ্রামের রেফাজউদ্দীনের কাছ থেকে ১১ হাজার ১শ টাকায় একটি জাম গাছ বিক্রয় করে জোর পূর্বক আদায় করে। এছাড়া দীর্ঘ ১০ বছর স্কুল প্রাঙ্গণে থাকা একটি পুকুর কাওনডাঙ্গা গ্রামের আকবর ঢালীর ছেলে বাবলু ঢালীর নিকট লিজ দিয়ে বছরে ১ হাজার ৩শ টাকা করে মোট ১৩ হাজার আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে উপবৃত্তি দেয়ার নাম করে জনপ্রতি ২০ টাকা হারে আদায় করে ৬৪ হাজার ৮শ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ২৭ মে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপুল ভোটে খোরশেদ আলম রিপনের প্যানেল নির্বাচিত হয়। তবে, প্রধান শিক্ষক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করে বিগত কমিটি দিয়ে স্কুলে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষাক গোলাম সরোয়ার গাছ কর্তনে কারো অনুমতি নেয়া হয়নি উল্লেখ করে বলেন, গাছ বিক্রির টাকা স্কুলের বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া বাকি টাকা জমা আছে।
তবে, এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার অবহিত নয় বলে জানান।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছাদুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসকের একটি নির্দেশ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করতে সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নিদের্শ দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি প্রমাণ হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।