মণিরামপুরে গণধর্ষণের ঘটনায় আটক ৩, দু’টি মোবাইল উদ্ধার


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৪ ||

মণিরামপুর প্রতিনিধি: মণিরামপুরে মা ও মেয়েকে গণধর্ষণ এবং ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ ৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের নিকট মনোহরপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ৮ ডিসেম্বর রাতে মা ও মেয়েকে গণধর্ষণ করে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ১০/১২ জন মুখোশধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী এই ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে বাড়ির গৃহকর্তা বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় দু’টি মামলা করেন। যার মামলা নং -১৩(১২)১৩ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আইনের ৯(৩) ও মামলা নং-১৪(১২)১৩ ধারা ৩৯৫,৩৯৭ দন্ডবিধি।
সূত্র মতে, উভয় মামলায় এজাহার নামীয় আসামি না থাকায় এবং শুধুমাত্র ১০/১২ জন অজ্ঞাত আসামি হওয়ায় মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অবশেষে ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন হাওলাদার গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সংগে সরাসরি জড়িত ৩ জনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে মা ও মেয়ের ব্যবহৃত ডাকাতি হওয়া দু’টি মোবাইল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন ।
আটককৃতরা হলো যশোর কোতয়ালী থানার কৃষ্ণবাটি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে শরিফুল (২৫), বিরামপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে আব্দুস সালাম বিষু (২২) ও মণিরামপুর থানার পাড়দিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আকবর (৩০)। শনিবার রাতে পুলিশ তাদের আটক করলে তারা মা ও মেয়েকে ধর্ষণসহ ডাকাতি করার কথা স্বীকার করে।
পুলিশকে তারা জানায়, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন্ এলাকার পেশাদার ১২ জন ডাকাত এই ঘটনায় অংশগ্রহণ করে। ৭ ডিসেম্বর রাতে তারা সকলে পাড়দিয়া গ্রামের ডাকাত আকবরের বাড়িতে একত্রিত হয়। সেখানে রাতের খাবার খেয়ে তারা মনোহরপুর গ্রামের ওই বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়। এ সময় বাড়িতে চাহিদা মত সোনাদানা ও টাকা পয়সা না পাওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ।
এ ব্যাপারে ওসি (তদন্ত) জানান, ধৃতদের সকলে ঘটনার সংগে জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে। এদের মধ্যে আব্দুস সালাম বিষু রোববার বিকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও অপকর্মের কথা প্রকাশ করেছে।