সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবর্ধনার জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ: আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৪ ||

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা রেল লাইন ও স্ন্দুরবনে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন, মৎস্য প্রোসেসিং কেন্দ্র এবং উন্নতমানের ডেইরী ফার্ম স্থাপনসহ এ অঞ্চলের সকল প্রকার উন্নয়নের জন্য সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদেরকে আরও সোচ্চার হতে হবে। আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাই বসে সাতক্ষীরার সমস্যা চিহ্নিত করে এক সাথে কাজ করতে চাই। মৎস্য ঘেরে পাইপ দিয়ে পানি ওঠানো বন্ধ করাসহ এগুলো নিয়ন্ত্রনের মধ্যে এনে পরিকল্পিতভাবে পরিবেশবান্ধব চিংড়ির চাষ করতে হবে। প্রয়োজনে এলাকার মানুষের মতামত নিয়ে একটি সুপরিকল্পিত মৎস্য নীতিমালা তৈরির চেষ্টা করব।
গতকাল রাত ৮টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব কর্তৃক দেওয়া এক সংবর্ধনার জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এসব কথা বলেন। প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক আবু আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে সংবর্ধণা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়র শেখ মুজিবর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক এমপি এম মুনছুর আহমেদ, জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ।
সভায় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি সাতক্ষীরার জামাই, আবার সাতক্ষীরাবাসীর বিয়াই। সাতক্ষীরার মানুষের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। আমি এই এলাকার মানুষ হিসেবে এলাকার সুখ-দুঃখের কথা জানি। আগামীতে সাতক্ষীরা উন্নয়নে সকল প্রকার পদক্ষেপ আমি নেব।
তিনি সাতক্ষীরার মৎস্য চাষের সুফল ও কুফল সম্পর্কে অবহিত আছেন উল্লেখ করে বলেন, আমি চিংড়ি ও ডেয়ারী ফার্মের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের মতামত নিয়ে এ বিষয়ে একটি সুপরিকল্পিত নীতিমালা তৈরীর পদক্ষেপ নেব। এখানে মৎস্য চাষীদের মধ্যে একটি বদ্ধ ধারণা আছে যে, হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের না হলে সমাজে নাম ছড়ায় না, কিন্তু আমি মনে করি এক একর জমি নিয়েও উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। এ ব্যাপারে আমাদের ভাবতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরার সন্ত্রাস ও নাশকতার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, এখানে নতুন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার যোগ দেওয়ার পর পরিবর্তন এসেছে, সাতক্ষীরা কিছুটা হলেও শান্ত হয়েছে। তিনি বিরোধী দলের বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা যখন পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করে তখন কিন্তু বিচারের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা যদি পালিয়ে যেতে চায় তখন তার পায়ে গুলি করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু সংখ্যাক বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকার কর্মী এসব নিয়ে অনেক সময় নেতিবাচক বক্তব্য বিবৃতি দেন। তিনি ইরাক, পাকিস্তান ও আফগানিস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেসব দেশে অনেক কিছুই হচ্ছে যা আমাদের সকলেরই জানা কিন্তু সেসব দেশে এত বেশি হৈ চৈ হয়না।
প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র বিএনপিসহ ১৯ দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্বাচন বর্জন করা তাদের ঠিক হয়নি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশ সাংবিধানিক সংকটে পড়ত। তারা অংশ গ্রহণ না করায় বসে থাকারও সুযোগ ছিলনা। তিনি বলেন, নির্বাচন হয়ে গেল, ক্যাবিনেট হল, আস্তে আস্তে সব কিছু স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ আজ একটি মডেল দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী দৈনিক পত্রদূত’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স ম আলাউদ্দিন এবং দৈনিক কাফেলা’র সম্পাদক আব্দুল মোতালেবকে স্মরণ করেন। তিনি স ম আলাউদ্দিনের মৃত্যুকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, সাতক্ষীরা সাংবাদিক যাতে নির্বিঘেœ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন সে ব্যাপারে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি তার ৩৯ বছরের শিক্ষাকতা পেশার কথা উল্লেখ করে বলেন, অনেকে ভেবেছিলেন আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারি কিন্তু আমাকে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে এদেশের গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে সেসব দায়িত্ব পালন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী সাতক্ষীরায় রেল লাইন, ভোমরা স্থলবন্দর, পর্যটন কেন্দ্র, মৎস প্রোসেসিং কেন্দ্র, ডেইরী ফার্ম ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ সকল প্রকার উন্নয়ণ মুলক কর্মকান্ডের জন্য উদ্যোগ নেবেন বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সংবর্ধণা সভায় সংবর্ধিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া ও ক্রেষ্ট উপহার দেওয়া হয়।