একুশের প্রথম শহীদ মিনার


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৪ ||

পত্রদূত ডেস্ক: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারি আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-জনতা যখন ঢাকার রাজপথে আন্দোলনে-মিছিলে উত্তাল, তখন সরকারের পুলিশ বাহিনী নির্বিচার গুলি চালায় আন্দোলনকারীদের ওপর। এতে শহীদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার প্রমুখ। বর্তমান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কাছে যেখানটায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতির মিনার শহীদ মিনার, সেখানকারই মাটি সেদিন ভাষা শহীদদের পবিত্র রক্তে লাল হয়েছিল। এই নির্মম ঘটনায় সারা দেশের মানুষ হতবাক হয়ে পড়ে। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা, শিক্ষক, অভিভাবক, রাজনীতিবিদ সবাই। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার লক্ষ্যে ২২ ফেব্র“য়ারি মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা হত্যাকাণ্ডের স্থানে একটি শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন ২৩ ফেব্র“য়ারি বিকেলে কারফিউ জারি থাকা অবস্থায়ই শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ চলে সারারাত এবং পরদিন সকালের মধ্যেই মিনার নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এটিই ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত একুশের প্রথম শহীদ মিনার।
পুরনো ঢাকার পঞ্চায়েত প্রধান পিয়ারু সরদার শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ইট-বালু-সিমেন্ট রডের সব খরচ বহন করেন। ঐতিহাসিক এই শহীদ মিনারের ডিজাইন করেন ডা. সাঈদ হায়দার। সাড়ে ১০ ফুট উঁচু এবং ৬ ফুট চাওড়া একটি ভিত্তির ওপর ছোট আকারের শহীদ মিনারটি নির্মিত হয় বলে ভাষা সৈনিক আহমদ রফিকের একটি নিবন্ধ থেকে জানা যায়। এটি দেখতে ছিল অনেকটা সাদামাটা—বর্তমান শহীদ মিনারের সাথে যার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই শহীদ মিনারটিই ছিল ভাষা শহীদদের স্মরণে বাঙালির হূদয়ভরা ভালোবাসার প্রথম ঐতিহাসিক নিদর্শন। একরাশ জমাটবাঁধা অশ্রু উপহার। বাঙালির শক্তি আর সাহসের অক্ষয় স্মারকচিহ্ন। সেই শহীদ মিনারের গায়ে একটি কাগজ সেঁটে দেয়া হয়েছিল, যাতে লেখা ছিল- “শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ”। ভাষা-শহীদ শফিউরের বাবাকে দিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে মিনারটি উদ্বোধন করানো হয়। এরপর ২৬ ফেব্র“য়ারি সকালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন। ঐদিনই পুলিশ ও সৈন্যরা মিনারটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাঙালির হূদয় থেকে সেই ভালোবাসার নিদর্শন কি সেদিন মুছে ফেলা গিয়েছিল? যায়নি। তাইতো পরবর্তীতে নতুনভাবে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। সেই মিনার বারবার আমাদের যুুগিয়েছে সাহস এবং শক্তি। আর ভাষা শহীদদের সেদিনের সেই আত্মত্যাগের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে এসেছিল বাঙালির মহান স্বাধীনতা।