এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ৯ ফেব্র“য়ারি : জেলার ৩৮টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ২১৬৬৯ শিক্ষার্থী


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৪ ||

আব্দুস সামাদ: আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২০১৪ সালের এসএসসি, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল পরীক্ষা। ইতোমধ্যে পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকল ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে গ্রহণের লক্ষ্যে পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি ও প্রয়োজনীয় পুলিশ ফোর্স মোতায়েনসহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
একই সাথে শহরের কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা শুরুর আগে এবং শেষ হওয়ার পরে যানজট কমানো, পরীক্ষা চলাকলীন কেন্দ্রের আশপাশের ফটোস্ট্যাট মেশিন বন্ধ রাখা এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জানাযায়, ৯ ফেব্রুয়ারি রোববার বাংলা (আবশ্যিক) ১মপত্র, সহজ বাংলা ১মপত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ১মপত্র, ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাংলা (আবশ্যিক) ২য়পত্র, সহজ বাংলা ২য়পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ২য়পত্র, ১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ইংরেজি (আবশ্যিক) ১মপত্র, ১৬ ফেব্রুয়ারি রোববার ইংরেজি (আবশ্যিক) ২য়পত্র,
২৩ ফেব্রুয়ারি রোববার গণিত (আবশ্যিক), ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জীব বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) ও অর্থনীতি, ২ মার্চ রোববার রসায়ন (তত্ত্বীয়), পৌরনীতি ও ব্যবসায় উদ্যোগ, ৪ মার্চ মঙ্গলবার পদার্থ বিজ্ঞান (তত্ত্বীয়), ইতিহাস ও ব্যবসায় পরিচিতি, ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সাধারণ বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান, ৯ মার্চ রোববার উচ্চতর গণিত (তত্ত্বীয়), ১১ মার্চ মঙ্গলবার ভূগোল ও বাণিজ্যিক ভূগোল, ১৩ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, গার্হস্থ্য অর্থনীতি (তত্ত্বীয়), কষি শিক্ষা (তত্ত্বীয়) সংগীত (তত্ত্বীয়) এবং একই দিন বিকালে আরবি, সংস্কৃতি, কর্মমুখী শিক্ষা (তত্ত্বীয়), কম্পিউটার শিক্ষা (তত্ত্বীয়), শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া (তত্ত্বীয়), বেসিক ট্রেড (তত্ত্বীয়), চারু ও কারুকলা (তত্ত্বীয়) অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া ১৬ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ব্যবহরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র আরো জানায়, উপজেলা নির্বাচনের কারণে এবার এসএসসির ধর্ম ও হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার এসএসসির ধর্ম পরীক্ষা (ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান) নির্ধারিত ছিল। আর ভোট গ্রহণের পরদিন ২০ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ছিল হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সূচি পরিবর্তন করে ১৮ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা ১৮ মার্চ ও ২০ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা ২০ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৩৮টি কেন্দ্রে ২৯টি ভেন্যুতে ২১ হাজার ৬শ ৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ২১ টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ৫৩ জন এসএসসি, ৭টি কেন্দ্র ১ হাজার ২শ ৫৭ জন এসএসসি (ভোকেশনাল), ১০টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৩শ ৫৯ জন দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবে।
সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় ৪টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসিতে ২ কেন্দ্রের ২টি ভেন্যুতে ২ হাজার ৪শ ৯০ জন, ভোকেশনালে ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ৪শ ১১ জন এবং দাখিলের ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ১ হাজার ১শ ৯০ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে ।
তালা উপজেলায় ৭টি কেন্দ্রে ৫টি ভেন্যুতে ৩ হাজার ২শ ৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি ৪টি কেন্দ্রে ৪টি ভেন্যুতে ২ হাজার ৪শ ৪৯ জন, ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ১শ ৪৩ জন, দাখিল ২টি কেন্দ্রে ৬শ ৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
কালিগঞ্জ উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রের ৪টি ভেন্যুতে ২ হাজার ৯শ ৫০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি ৩টি কেন্দ্রে ৩টি ভেন্যুতে ২ হাজার ১শ ৪৬ জন, ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ১শ ৮০ জন, দাখিল ২টি কেন্দ্রের ২টি ভেন্যুতে ৬শ ২৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
কলারোয়া উপজেলায় ৬টি কেন্দ্রের ৬টি ভেন্যুতে ৩ হাজার ২শ ৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি ৪টি কেন্দ্রের ৪টি ভেন্যুতে ২ হাজার ৪শ ১৬ জন, ভোকেশনালের ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ২শ ২৬ জন, দাখিল ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ৬শ ৩৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
আশাশুনি উপজেলায় ৭টি কেন্দ্রের ৫টি ভেন্যুতে ৩ হাজার ৪শ ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি ৪টি কেন্দ্রের ৪টি ভেন্যুতে ২ হাজার ৪শ ৭০ জন, ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ১৭ জন, দাখিল ২টি কেন্দ্রে ৯শ ২৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
দেবহাটা উপজেলায় ৪টি কেন্দ্রের ২টি ভেন্যুতে ১ হাজার ৪শ ৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি ২টি কেন্দ্রের ২টি ভেন্যুতে ১ হাজার ৪৬ জন, ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রে ১শ ৩৫ জন, দাখিল ১টি কেন্দ্রে ২শ ৫৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
শ্যামনগর উপজেলায় ৪টি কেন্দ্রের ৪টি ভেন্যুতে ৩ হাজার ২শ ৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে এসএসসি ২টি কেন্দ্রের ২টি ভেন্যুতে ২ হাজার ৩৬ জন, ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ১শ ৪৫ জন, দাখিল ১টি কেন্দ্রের ১টি ভেন্যুতে ১ হাজার ২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেবে।
জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলাগুলোতে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় নকল করার সুযোগ কম। তারপরও এসব বিষয়ে সজাগ থাকতে কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতি উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্যদের সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদারকি কমিটি করা হয়েছে। যারা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।