সুন্দরবনে রবিউল ও রহমান বাহিনীর ২ বনদস্যু জেলেদের হাতে আটক


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৪ ||

আক্তার হোসেন, রমজাননগর (শ্যামনগর): সুন্দরবনের বনজীবিদের হাতে বনদস্যু রবিউল বাহিনীর মনিরুল ও কালাম নামে দুই বনদস্যু আটক হয়েছে। মনিরুল কালিঞ্চি গ্রামের মোহাম্মাদ গাজীর পুত্র ও কালাম গাবুরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী গ্রামের কাসেম গাজীর পুত্র। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ আকবর আলী তার আওতাধীন সুন্দরবনে কাজে রত জেলেদের খাদ্য নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। রায়মঙ্গল সীমান্ত নদীর কচুখালীর খালে পৌছালে রবিউল বাহিনী তার ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। ইউপি সদস্য আকবর রবিউল বাহিনীর নৌকা লক্ষ্য করে ট্রলার চালিয়ে বনদস্যুর ব্যবহৃত নৌকা ডুবিয়ে দেয় এবং আকবরের সাথে থাকা জেলেরা দুই বনদস্যুরা ধরতে সক্ষম হয় এবং বাহিনীর প্রধান রবিউল ও তার উপর পাঁচ সদস্য নদীতে ডুব দিয়ে উপরে উঠে গহীন বনে প্রবেশ করে। তাদের একটি অস্ত্র পানিতে ডুবে যায় এবং একটি দা উদ্ধার করে। আটককৃত বনদস্যুদের আকবর মেম্বার কৈখালী কোষ্ট গার্ড অফিসে হস্তান্তর করেন। তবে অনেকের অভিযোগ বনদস্যু আটককারী আকবরও একই কাজের সাথে জড়িত।
আটককৃত বনদস্যুরা কোষ্টগার্ড, সাংবাদিক জেলে বাওয়ালি সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতির গন্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে জানান, তাদের অস্ত্র, গুলি, খাদ্য ও যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করে মীরগাং গ্রামের ভাদ্র শেখের পুত্র সেলিম শেখ ওরফে কেলো এবং তাদের সাথে কাজ করে বনদস্যু দলের প্রধান কালিঞ্চি গেড পাড়ার দাউদ গাজীর পুত্র রবিউল, একই গ্রামের আফসার এর পুত্র পিয়ার, হান্নানের পুত্র হযরত বরকনদাস, তারা সরদারের পুত্র বাবু, মান্নান বরকনদাসের পুত্র মিজান বরকনদাস, মতিয়ার সরদারের পুত্র রহমান, মীরগাং গ্রামের মোহর আলীর পুত্র নজরুল। তারা আরও স্বীকার করে তাদের নিকট তিনটি অস্ত্র আছে। কোষ্টগার্ড বিষয়টি শ্যামনগর থানায় জানালে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সগির মির্জা কোষ্টগার্ড অফিসে উপস্থিত হয়ে বনদস্যুদের নিয়ে যান। তবে বনদস্যুদের ভিতর থেকে রহমান ঘটনাস্থলে মারা যায় বলে অনেক জেলে জানায়। অত্র অঞ্চলের বনজীবিরা জানান, কালিঞ্চি গ্রামের আলী তরফদারের দুই পুত্র আফসার তরফদার, আনার তরফদার, আকবর তরফদারের পুত্র আব্দুল্ল্যাহ প্রতিনিয়ত বনদস্যুদের সাথে জড়িত এবং তারা সকলে বনদস্যুদের অস্ত্র ও তথ্য আদান প্রদান করে। অত্র অঞ্চলের গরীব, অসহায় জেলেবাওয়ালিদের প্রাণের দাবি যাতে এ সমস্ত বনদস্যুদের সনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হয় তার জন্য এমপিসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তাক্ষেপ কামনা করছেন।