জেলা জামায়াত ও বিএনপির ১৬ নেতার নামে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে মামলা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৪ ||

এম জিললুর রহমান: দুই জন বর্তমান ও একজন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৬ জনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ এনে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। গত ৪ ফেব্র“য়ারী আলোচিত মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরআগে সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালিন এসআই আসাদুল ইসলাম বিগত ১৩ সালের ২৭ নভেম্বর মামলাটি রেকর্ড করার জন্য জেলা পুলিশের মাধ্যমে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে মামলাটি রেকর্ডে স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির অনুমতি প্রাপ্তি সাপেক্ষে গত ৪ ফেব্র“য়ারী মামলাটি সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এনামুল হক বিশ্বাস রেকর্ড করেছেন। মামলা নং ১৪। আলোচিত মামলাটির তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এসআই আবুল কাশেমকে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, গত বছরের ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই আসাদুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স শহর উপকণ্ঠের বাকাল আলিপুর এলাকায় মোবাইল ডিউটিতে কর্মরত ছিলেন। এসময় গোপন সংবাদে জানতে পারেন যে আলিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এর বাড়িতে জ্ঞাত সকল আসামীসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনে মিলে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশের প্রচলিত আইন কানুন উপেক্ষা করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যকলাপ বন্ধ করে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করানোর মহা পরিকল্পনা করছেন। সাধারণ মানুষের জীবন যাপনে বিঘœসৃষ্টি করতে রাস্তার পাশে থাকা গাছ কেটে ব্যারিকেড দিয়ে রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত হয়ে পড়েন। এসব ঘটনার পরিকল্পনাকারি আলিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এর বাড়িতে বসে ষড়যন্ত্র চলাকালিন সময়ে এসআই আসাদুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স উক্ত স্থানে হানা দিয়ে আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করেন। এসময় আরও কয়েকজন পালিয়ে যান।
আলোচিত এমামলায় আসামী করা হয়েছে আলিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইফতেখার আলী, সদরের ফিংড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, শহরের পলশপোল এলাকার নজিবুর রহমানের ছেলে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল হুদা, সদরের আগরদাড়ি গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে জেলা নায়েবে আমীর মাও. রফিকুল ইসলাম, পলাশপোলের মৃত আহসান উল্যার ছেলে আলতাফ হোসেন, সদরের ৩ নং বৈকারি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ হাসান, আলিপুরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে পৌর বিএনপির সভাপাতি হাবিবুর রহমান হবি, সাবেক এমপি খলিলনগরের মাও. আব্দুল খালেক মণ্ডলের ছেলে বুলবুল, শহরের রাধানগর এলাকার রয়েল মোক্তারের ছেলে এখলেছার আলী বাচ্চু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আর্জেদ আলী, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি এ্যাড. আজিজুর রহমান, জেলা জামায়াত সদস্য এ্যাড. মুকুল, পৌর আমীর ওবায়দুল্যাহ মাস্টার, শহর উপকণ্ঠের মিলবাজার এলাকার জামসেদ আলী, কামালনগর মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক দৈনিক সংগ্রামের সাংবাদিক আবু সাঈদ বিশ্বাস ও জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য জহিরুল ইসলাম ওরফে টেক্কা খান। এছাড়াও এমামলায় অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা সকলেই রাস্ট্রোবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দঃবিধির ১২০ এর খ ও ১২৪ এর ক পেনালকোড ধারা মোতাবেক সরকারের বিরুদ্ধে অপরাধ জনক ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে এমামলার ১ নং আসামী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ ও সাংবাদিক আবু সাঈদ বিশ্বাস কারাগারে। ইতোমধ্যে কারাগারে থাকা আব্দুর রউফ ও আবু সাঈদকে এমামলায় শোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে বলে তদন্তকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বাকিরা সকলেই সটকে পড়েছে।
এব্যাপারে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক বিশ্বাস জানান, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে এজাহার প্রস্তুত পূর্বক পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। উক্ত মন্ত্রণালয় মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে মামলা রেকর্ড করার জন্য পুলিশ বিভাগকে ফের জানানোর পর মামলাটি নথিভূক্ত করা হয়। তিনি আরও বলেন, আলোচিত মামলার পরবর্তী সকল কার্যক্রম পুলিশের হাত দিয়েই সম্পন্ন হবে। গত বছরের ২৮ ফেব্র“য়ারী থেকে এ পর্যন্ত রাস্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে এটিই প্রথম মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।