কেশবপুর উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ অব্যাহত


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৪ ||

কেশবপুর প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র সমর্থন পেতে আবু বক্কর আবু ও বদরুজ্জামান মিন্টু তৃণমূল বিএনপির নেতা-কর্মীদের সমর্থন আদায়ে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন।
কেশবপুরের ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিএনপি নেতা-কর্মী সূত্রে জানাগেছে, কেশবপুর বিএনপি’র ঘাঁটি হওয়া সত্ত্বেও গতবার জনপ্রিয় নেতাকে মনোনয়ন না দেয়ায় এ উপজেলা পরিষদটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবারও যদি প্রার্থী চাপিয়ে দেয়া হয়, তবে বিএনপি’র সাধারণ ভোটাররা আবারও মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।
জানা গেছে, এ উপজেলায় বিএনপি’র সমর্থন পেতে মনোনয়ন দৌঁড়ে রয়েছেন, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি, সাবেক কেশবপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি ও কেশবপুর ৩নং মজিদপুর ইউনিয়ন থেকে বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু বকর আবু এবং বর্তমান কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এড. বদরুজ্জামান মিন্টু। গতবারও আবু বকর আবু প্রার্থী হওয়ার জন্য বিএনপি’র সমর্থন চেয়েছিলেন এবং তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতিতে ভোটের দাবি করেছিলেন। কিন্তু ভোটাভুটি না করে সাবেক মন্ত্রী বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামের ভাগ্নে এড. বদরুজ্জামান মিন্টুকে প্রার্থী করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএম আমির হোসেনের নিকট প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
তৃণমূল নেতাদের দাবি, গতবার বর্ধিত সভা ডেকে ভোটের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করলে সাধারণ নেতাকর্মী ও ভোটারদের মনে ক্ষোভ জমা হতো না। সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজয় সুনিশ্চিত হতো। এবারও যদি উপর থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেয়া হয়, তবে নেতা-কর্মী সমর্থক সাধারণ ভোটারদের ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হবে না। ফলে, উপজেলাটি আবারও আওয়ামী লীগের দখলে চলে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশি আবু বকর আবু সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭৯ সালে বিএনপি’র জন্মলগ্ন থেকে কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। দীর্ঘ ১৭ বছর সততার সাথে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছি। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। পৈতৃক জমি বিক্রি করে দল চালিয়েছি। বিএনপি’র দুঃসময়ে দলকে সংগঠিত করেছি। ৩নং মজিদপুরবাসী বার বার আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। গতবার ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ৬হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে কেশবপুর উপজেলা বিএনপি’র ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়। আশা করছি, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ বর্ধিত সভা ডেকে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে মতামত নিয়ে এবার প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
এদিকে গতবার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এড. বদরুজ্জামান মিন্টু এবারও দলীয় সমর্থন পাবেন বলে আশা করছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, গতবার সামান্য ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকট পরাজিত হয়েছিলাম। তাছাড়া জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। যে কারণে হারতে হয়েছিল। ১৯৯০ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের পর কেশবপুর বিএনপিকে শক্তিশালী করেছি। ২০০১ সালে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করি। সে থেকে দায়িত্ব পালন করছি। সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ভাগ্নে পরিচয় থেকে আমার বড় পরিচয় কেশবপুর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আমাকে আবারও প্রার্থী দেখতে চান। তৃণমূলে ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত হলে নেতা-কর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়। যে কারণে জেলা কমিটি আবারও আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে আশা করছি।
বিএনপি’র তৃণমূল নেতা-কর্মীরা জানান, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে দলছুট, সুযোগ সন্ধানী, সুবিধাবাদী নেতাদের চাপিয়ে দেয়ার কারণেই কেশবপুর উপজেলা পরিষদ বিএনপি’র হাতছাড়া হয়েছে। এবার তৃণমূল নেতাদের উপস্থিতিতে ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।