কলারোয়ায় প্রতারণায় অভিযোগে দুই এনজিও কর্মকর্তা আটক


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৪ ||

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় এনজিও’র নামে প্রতারণা করে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে পালানোর সময় এলাকাবাসী স্বামী-স্ত্রীসহ ২ জনকে আটক করেছে। প্রতারণা করা এনজিও সংস্থা দুটি হলো ফেবস সোসাইটি ও বাংলাদেশ গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি গ্রামের মামুন তার স্ত্রী শামিমা খাতুনকে নিয়ে উপজেলা পৌর সদরের মির্জাপুরস্থ সরসকাটি রোডের মডার্ণ ক্লিনিকের ৩য় তলায় একটি এনজিও খুলে বসেন। গত ৪-৫ মাস ধরে স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় লোভনীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে আসছে সংস্থা দুটি। এর মধ্যে গত ৮ ডিসেম্বর এনজিও পরিচালক মামুন একটি দৈনিকে প্রাথমিক শিক্ষক ও সুপারভাইজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, প্রথমে একজন শিক্ষক নিয়োগ পেতে হলে তাকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা নগদ ও সেই এলাকার ১৫টি শিশুর কাছ থেকে ২ বছরের পড়ানো বাবদ ২শ’ ৫০ টাকা নিয়ে সর্বমোট ৭ হাজার ৫শ টাকা অফিসে জমা দিতে হবে। এ থেকে ওই শিক্ষক অবসর টাইমে মাত্র ১ ঘণ্টার জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা বেতন পাবেন। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে কলারোয়া উপজেলা থেকে ৬শ’ শিক্ষক প্রার্থী ও ১৫ জন সুপাভাইজার প্রার্থী ৭৮ লাখ টাকা সংস্থায় প্রদান করেন। প্রথমে ৭-৮ জন শিক্ষককে ১ মাসের বেতন প্রদান করেন মামুন। এরপর মামুন প্রতারণার জাল বিস্তার করেন সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। সেসব স্থান থেকে তিনি কয়েক লাখ টাকা একই কায়দায় হাতিয়ে নেন বলে জানা যায়। বেতনের টাকা চাইলে মামুন শিক্ষকদের জানান, ঢাকা থেকে বেতন করিয়ে আনতে হবে সময় লাগবে। এভাবে শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে দিনের পর দিন হয়রানি করা হয়। বৃহস্পতিবার মামুন ও তার স্ত্রী শামিমা খাতুন গোপনে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় সকাল ১১ টায় এলাকাবাসী কলারোয়া সীমান্তের ঁেকড়াগাছি গ্রামের মধ্যে থেকে তাদের দুজনকে আটক করে। পরে তাদের স্থানীয় কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়। সেখান থেকে চেয়ারম্যান ভুট্টো লাল গাইন থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইন চার্জ মুন্সী মোফাজ্জেল হোসেন কনক রাতে সাংবাদিকদের জানান, তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।