আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গা-ঝাড়া দিয়েছেন প্রার্থীরা : যিনি নিরাপত্তা দিতে পারবেন তাকেই প্রাণ ভরে ভোট দেবেন ভোটাররা


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৪ ||

শহীদুল ইসলাম: আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীরা গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। নির্বাচনী ময়দানে ভোটারদের সাথে নিয়ে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উৎসাহ উদ্দীপনার আমেজ। কোমর বেঁধে ভোটের মাঠে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন কর্মীরা। উৎসবমূখর হয়ে উঠছে আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আগামী ১৯ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
আশাশুনি নির্বাচন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, আশাশুনি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৮৪টি ভোট কেন্দ্রের এবং ৪৪৪টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ উপজেলায় মোট এক লক্ষ ৯২ হাজার ২৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৫০ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ৯৬ হাজার ৮২৫ জন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কোন ভোট কেন্দ্রের তালিকা তার কাছে নেই।
নির্বাচন অফিসার শফিকুল ইসলাম আরো জানান, ১৯ ফেব্র“য়ারি বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান(পুরুষ) পদে ৬ জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থীরা হলেন- এবিএম মোস্তাকিম (চিংড়ি), নূ আ ম মোর্তজা (দোয়াত কলম), এসএম রফিকুল ইসলাম (ঘোড়া), মাস্টার হাফিজুর রহমান (আনারস) এবং স ম সালাহ উদ্দিন (মটর সাইকেল)। ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন- জাহিদুল ইসলাম তোতা (উড়োজাহাজ) জুলফিকার আলী জুলি (বই),এড. শহিদুল ইসলাম বাচ্চু (চশমা), হিরোলাল বিশ্বাস (তালা), মাহফিজুল ইসলাম (টিউবওয়েল) এবং মতিয়ার রহমান (টিয়াপাখি)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন। তারা হলেন, জাহানারা কুদ্দুস (কলস), সাহেলা পারভীন (বল), মাজিদা খানম (হাঁস) এবং পারভীন নাছিমা আক্তার শিল্পী (পদ্মফুল)।
আশাশুনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ের আশায় প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন এবং ভোটারদের সুখ-দুঃখের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ভোটার যাতে স্বত:স্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন সে কথাও শোনাচ্ছেন। শোনাচ্ছেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা। সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে সেগুলো সমাধানের উপায় নিয়েও বক্তব্য রাখছেন প্রার্থীরা। জয়ের ব্যাপারে প্রত্যেক প্রার্থীই আশাবাদী।
এদিকে কেমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান আশাশুনিবাসী? এ প্রশ্নের জবাবে ভোটাররা জানিয়েছেন, তাদের আশা আকাক্সক্ষার কথা। ভোটাররা বলেছেন, গত বছর ২৮ ফেব্র“য়ারি থেকে এ পর্যন্ত আশাশুনিবাসী চরম নৈরাজ্য ও নাশকতার মুখে জিম্মি হয়ে পড়ে। আশাশুনির প্রতাপনগর, খাজরা, আনুলিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য-নাশকতার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেনি। সেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ এখন আর নেই। যে নেতা জনগণের নিরাপত্তা দিতে পারবে তাকেই নির্বাচিত করবেন তারা। এছাড়া উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা ও ভোটারদের মাথায় রয়েছে। আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর ব্রিজ, মানিকখালি ব্রিজ নির্মাণের দাবিও তাদের। যে নেতা তাদের দাবি পূরণ করতে যোগ্যতার পরিচয় দিবেন জনগণ তাকেই প্রাণ ভরে ভোট দিবে বলে জানান ভোটাররা। সে বিবেচনায় কে হাসবেন বিজয়ের হাসি তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ১৯ ফেব্র“য়ারী নির্বাচনে ভোট গণনা পর্যন্ত।