পাউবো কর্মকর্তাকে মারপিট করলেন বিএনপি নেতা চিশতি, বিক্ষোভ মিছিল, লাইসেন্স বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তাকে মারপিটের অভিযোগে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ঠিকাদার তাজকিন আহম্মেদ চিশতিকে অভিযুক্ত করে আশাশুনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড আশাশুনির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী চাকলাদার গত ১৬ ফেব্র“য়ারি আশাশুনি থানায় ডায়েরিটি করেন। যার নং- ৬৩৮।
সূত্র জানায়, গত রোববার জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ডান পাড়ে কোলা নামক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের মেরামত কাজ পান ঠিকাদার তাজকিন আহম্মেদ চিশতি। চিশতি গ্রামের দিকে ভেড়িবাধের গোড়া থেকে স্ক্যাভেটেড মেশিন দ্বারা মাটি কাটার কারণে গ্রামের স্বার্থে স্থানীয় লোকজন তা বন্ধ করে দেয়। বন্ধ করার পর ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে ঠিকাদার ও জেলা বিএনপি নেতা তাজকিন আহম্মেদ চিশতির সাথে পাউবো’র কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী চাকলাদার ঘটনাস্থলে যান। কাজ সংক্রান্ত ব্যাপারে এলাকাবাসীর প্রস্তাবে ওই প্রকৌশলী সন্তোষজনক জবাব প্রদান করলে ঠিকাদার চিশতি কাজের বিষয়ে মাটি সংগ্রহের জন্য পাউবোর কর্মকর্তার উপর হঠাৎ চড়াও হন এবং অশ্ল¬ীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে পাউবো কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলীকে মারপিট করেন তিনি। এতে তার চশমা ভেঙে যায়। এসময় খুন জখম হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান করে ওই বিএনপি নেতা। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় পাউবো কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী চাকলাদার বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এদিকে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্র“য়ারি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অপরদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওয়াজেদ আলী চাকলাদারকে কাজ তদারকির সময়ে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে ঠিকাদার তাজকিন আহমেদ চিশতির লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাতক্ষীরা পওর বিভাগ-১ ও ২ এর কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ২ ঘণ্টা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করে সোমবার দুপুর ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ঠিকাদার তাজকিন আহমেদ চিশতির লাইসেন্স বাতিলের দাবিতে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করে।

উপদল নেতা প্রশিক্ষণ কোর্সের মহা তাবুজলসা

৪২তম জেলা ও ১৩তম সদর উপজেলা স্কাউটস এর উপদলনেতা প্রশিক্ষণ কোর্সের মহা তাবুজলসা সোমবার সন্ধ্যায় জেলা স্কাউটস ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তাবু জলসায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্কাউটসের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আছাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা স্কাউটসের কমিশনার মুহা. আশরাফ উদ্দীন ও জেলা স্কাউটসের সম্পাদক আবুল বাশার পল্টু।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কোর্স লিডার জহরুল ইসলাম, প্রশিক্ষক এমএ মাজেদ (এএলটি), প্রশিক্ষক কাজী আফজাল বারী, হাফিজুর রহমান, রায় দুলাল চন্দ্র, এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, মনোরঞ্জন মন্ডল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ইউএনও আছাদুজ্জামান বলেন, স্কাউটসের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের আদর্শ অনুসরণ করে স্কাউটদের অগ্রসর হতে হবে। চরিত্র গঠন ও যোগ্য নেতৃত্বের জন্য স্কাউটদের গুরুত্ব অপরসীম। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

প্রাথমিক বৃত্তিতে কালিগঞ্জে শীর্ষে নলতা কেবিএ প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুল

নিয়াজ কওছার তুহিন: প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফলে নলতা শরীফের ঐতিহ্যবাহী কে বি আহ্ছানউল্লা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুল অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও কালিগঞ্জ উপজেলার শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে। ২০১৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা অনুযায়ী এ বিদ্যালয় থেকে ২১ জন ট্যালেন্টপুল ও ৪জন সাধারণ গ্রেডসহ মোট ২৫ পরীক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে।
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্তরা হলো- আজমাইন ফায়েক, তাহির আবিদ, আবু ফয়সাল, আহ্ছান রাজীব প্রান্ত, আরাফাত হোসেন, রেদওয়ান হোসেন, শাহারিয়ার আহ্ছান জোহা, আবীর সরকার, সাকিব হোসেন, আব্দুর রব রাজু, সাবরিনা মমতাজ, নিশাত তাসনিম, সানজিদা সুলতানা, মালাইকা মাহজাবীন, আজিজুন নাহার, শামীমা সুলতানা, সাদিয়া ওহাব, ঐশী ঘোষ, অন্তরা ঘোষ, আমরিন ইসলাম ও সুমাইয়া ইসলাম। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি প্রাপ্তরা হলো- তাছনিম জাহিন ও সুরাইয়া ইয়াসমিন, ফারুক হোসেন, শেখ আরাফাত ইসলাম। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৩জন পরীক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল শতভাগ পাশের পাশাপাশি অ+ ৬৪জন, অ ৮ জন ও অ- গ্রেড পায় ১ জন পরীক্ষার্থী। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজসমূহে ৭ম শ্রেণি ভর্তি পরীক্ষা ২০১৪এর লিখিত পরীক্ষায় নলতা শরীফের কে বি আহ্ছানউল্লা প্রি-ক্যাডেট এন্ড হাইস্কুলের সাদেক আহ্ছান, নাজমুস সা’দাত সৈকত, নাহিদ নিয়াজ শোভন ও মোখলেছুর রহমান উত্তীর্ণ হয়েছে। এদিকে ৫ম শ্রেণি সমাপনীর বৃত্তিতে নলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৩জন পরীক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে, ছনকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৩জন ট্যালেন্টপুল ও ৪জন সাধারণ গ্রেডসহ মোট ৭জন, বাগবসন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে ১জন, দুদলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১জন, কালিগঞ্জ সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে ২ জন ও সাধারণ গ্রেডে ২ জনসহ মোট ৪জন, উত্তর কালিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১ ট্যালেন্টপুলে ও ৩ জন সাধারণ গ্রেডসহ মোট ৪ জন, পীরগাজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ গ্রেডে ৪জন বৃত্তি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

তালায় বাজেট প্রস্তুতি সভা

তালা সদর মডেল ইউপি’র উদ্যোগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনঅংশগ্রহণে এলজিএসপি-২ প্রকল্পের আওতায় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি সভা সোমবার বিকাল ৫টায় ৬নং ওয়ার্ডের আগোলঝাড়া-ভায়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তালা সদর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নজরুল ইসলাম।
সভায় প্রকল্প গ্রহণ, ট্যাক্স আদায়, কমিউনিটি ক্লিনিকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ইঁদুর নিধন, বাল্যবিবাহ রোধ, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা প্রভৃতি বিষয়ে অবহিতকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা হয়।
সভায় মেম্বর আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. পরিতোষ রায়, সাংবাদিক আব্দুল আলীম ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক’র কর্মকর্তা অসীম কুমার ঘোষ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

কেশবপুর উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির একক প্রার্থী ঘোষণা

কেশবপুর ব্যুরো: কেশবপুর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যড. বদরুজ্জামান মিন্টুকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ জানান, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যড. বদরুজ্জামান মিন্টু ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর আবু উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। গত শনিবার যশোর জেলা কমিটি উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দকে যশোরে ডাকেন এবং নেতৃবৃন্দের কথা শোনেন। নেতৃবৃন্দের মতামত বিশ্লেষণ শেষে সোমবার জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ আসন্ন কেশবপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এ্যড. বদরুজ্জামান মিন্টুকে বিএনপির দলীয় একক প্রার্থী ঘোষণা করেন।

পাটকেলঘাটা আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সোমবার বিকাল ৩টায় পাটকেলঘাটা আমিরুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্মিতব্য নতুন ভবনের কাজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান।
কাজ পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয়ের হলরুমে তিনি শিক্ষক-কর্মচারিদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষককের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আদর্শ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলবেন। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে। আপনাদের মাধ্যমেই ছাত্র-ছাত্রীদের আগামী দিনের সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলুর রহমান সহ শিক্ষক-কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আশাশুনি থানায় নতুন ওসি’র যোগদান

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি থানা নবাগত অফিসার ইনচার্জ হিসাবে মুহাঃ আহসান হাবিব পিপিএম যোগদান করেছেন। তিনি রোববার আশাশুনি থানায় যোগদান করেন এবং ইতিপূর্বে তিনি চুয়াডাংগা থানায় কর্মরত ছিলেন। যোগদানের পর নবাগত ওসি আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা এবং আশাশুনির সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

খুলনায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ

পত্রদূত ডেস্ক: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৪ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ২১ ফেব্র“য়ারি দিবসের শুরুতে (০০.০১টায়) শহীদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে (সূর্যাস্তের সাথে সাথে নামাতে হবে)। ঐদিন সকাল ৯টায় নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বাদ জুমা বা সুবিধামত সময়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। মসজিদ সমূহে বাদ জোহর শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও দেশের কল্যাণ, শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং খুলনা কালেক্টরেট জামে মসজিদে এ সময়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সুবিধামত সময়ে মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপসনালয়ে অনুরূপ প্রার্থনা করা হবে।ঐদিন বিকেল চারটায় ভাষা আন্দোলনে অমর শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে বয়রাস্থ বিভাগীয় গণ-গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অমর একুশের বইমেলা মঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।শহীদ হাদিস পার্কে এবং খুলনা মিনাবাজারের সামনে ঐদিন সন্ধ্যায় খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সুবিধামত সময়ে সিনেমা হল সমূহে ¯¬¬াইড প্রদর্শন করা হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে।জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুবিধামত সময়ে (২০ ফেব্র“য়ারির পূর্বে) খুলনা জিলা স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘ শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনে খুলনার অবদান’ এর তাৎপর্য তুলে ধরে যথাক্রমে ৩টি বিভাগে অনুর্ধ্ব ৩০০ শব্দ এবং ৫০০ শব্দের রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।স্কুল কলেজে বই পাঠ, স্বরচিত ছড়া ও কবিতা প্রতিযোগিতা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একুশে সংক্রান্ত প্রবন্ধ (সুবিধামত সময়ে) প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সুবিধামত তারিখ ও সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নিজস্ব কার্যালয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় শিশু একাডেমীর উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

পুলিশ সুপারের জিপের সাথে ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশ সুপারের সরকারি জীপের সাথে ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবনের সম্মুখে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে, এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার পরপরই ট্রাকসহ ওই চালককে আটক করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে ট্রাক চালক নসির উদ্দীন রোববার সকাল ৮টার দিকে খুলনা থেকে মালবাহী ট্রাক (যশোর ট-১১-১৩০৪) নিয়ে সাতক্ষীরা অভিমুখে আসছিল। ট্রাকটি পুলিশ সুপারের বাসার সামনে আসা মাত্রই সরকারি জিপটি গাড়ি থেকে রাস্তায় উঠার সময় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওই জিপে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্যাহ ও যশোর খ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তফা কামালসহ দেহরক্ষীরা ছিলেন। ঘটনার পরপরই দেহরক্ষীরা ট্রাকসহ চালক নাসির উদ্দীনকে আটক করে। পরে সদর থানার এসআই ইয়াছিন আলী ট্রাকসহ চালককে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জিপ চালক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে দণ্ড বিধির ২৭৯/৩৩৭/৪২৭ ধারা মোতাবেক দুই লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি দেখিয়ে রোববার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চালক নাসির উদ্দীনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন : কেশবপুরে আ.লীগ মনোনীত প্রার্র্থীদের মনোনয়নপত্র ক্রয়

কেশবপুর ব্যুরো: কেশবপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এইচএম আমির হোসেন সোমবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এইচএম আমির হোসেনের পক্ষে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা।
এসময় আওয়ামী লীগ মনোনীত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা সাদেকের মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন তার স্বামী হাসান সাদেক।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাচনে ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ

কলারোয়া প্রতিনিধি: আগামী ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য কলারোয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সোমবার পর্যন্ত ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীরা হলেন- চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আহমেদ স্বপন এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ওমর আলি। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ঈমান আলি শেখ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

আশাশুনিতে দুই প্রার্থী বহিষ্কার ও ভোট থেকে সরে দাড়ানোয় মোস্তাকিম সুবিধাজনক স্থানে

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচন থেকে বিবৃতি দিয়ে সরে দাঁড়ানো এবং আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করায় দু’দলের ২ শতাধিক নেতাকর্মী আ’লীগের একক প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় আ’লীগের একক প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের নির্বাচনী অফিসে এক মতবিনিময় সভা আ’লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ঢালী সামছুল আলমের উপস্থাপনায় এসময় চেয়ারম্যান প্রার্থী এবিএম মোস্তাকিমের সাথে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। যোগদানকৃত ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক পরিদর্শক ইয়াহিয়া ইকবাল, ইউনিয়ন জাপা’র সভাপতি আবুল বাশার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে দেড়শতাধিক নেতাকর্মী ও আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সরদার হাফিজুর রহমানের সমর্থিত সদর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহেল বাকী বাচ্চু সহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে যোগদান করেন। এসময় আ’লীগ ও তার অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কাল রাত পোহালেই আশাশুনিতে ভোট: প্রচারণা শেষ হলেও প্রার্থীরা মাঠ দখলে বিভিন্ন কৌশলে ব্যস্ত

আহসান হাবিব, আশাশুনি: আশাশুনিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামীকাল ১৯ ফেব্র“য়ারি বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও ১ জনের প্রত্যাহার করায় মূল প্রার্থী থাকছে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী মাঠ দখলে সর্বশেষ কৌশল অবলম্বন করেই চলেছে। গত সোমবার দিবাগত রাত্র ১২.০১ মিনিট থেকে প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেলেও প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের প্রার্থী বিজয়ের জন্য কৌশলগত কার্যক্রমের গতিশীলতা বেড়েই চলেছে। গত দু’দিনের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যাওয়া ব্যানার, পোষ্টার, লিফলেট পুনঃস্থাপন, হাতে হাতে বিতরণের কাজ পুরোদমে চলছে। যানবাহনে শোভা পাচ্ছে ছোট ছোট ফেষ্টুন ও প্লাকার্ড। উপজেলার সকল গ্রাম, পাড়া, মহল্লা এবং হাট বাজারের চা স্টলগুলোর পাশাপাশি নির্বাচনী অফিসগুলো প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ও প্রশংসায় পঞ্চমুখর হয়ে উঠেছে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েও ভোট প্রার্থনা এবং বিগত দিনের কর্মকান্ড তুলে ধরে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আত্মীয়তার পরিচয়ে আবার সমর্থক-কর্মীরা নানান কল্প ও মিষ্ট কথার ফুলঝুরিও বিলি করতে কার্পন্য করছেন না। অপর দিকে চতুর ভোটাররা হোটেল, রেস্তোরা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাস টার্মিনাল, খেয়াঘাটসহ ক্ষেত খামারে চুলচিরা বিশ্লেষণ করছেন প্রার্থীদের নিয়ে। এবারের নির্বাচনে মুলতঃ আওয়ামী লীগ ও ১৯ দলীয় জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা থাকলেও আ’লীগের দু’জন, জামায়াতের ১ জন ও বিএনপি’র ১ জন করে পৃথক প্রার্থী থাকায় ভোটারদের মধ্যে ছিল দোদূল্যমনতা। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের জেলা নেতৃবৃন্দ বিদ্রোহী প্রার্থী হাফিজুর রহমানকে বহিস্কারের ঘোষণা দেওয়ায় ভোটাররা ভিন্ন মতামতের চিন্তা ভাবনা করছেন। এদিকে জাপা প্রার্থী এড. স,ম সালাহউদ্দীন (মোটর সাইকেল প্রতিক) নির্বাচন থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে নিজেকে এযাত্রাই পা গুটিয়ে নিয়েছেন। বিএনপির একটি অংশ এখনো দলীয় প্রার্থী বা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি বা মুখ খোলেনি। ফলে এতদিন মুখ বন্ধ করে রাখা ভোটারদের বেশীর ভাগ নিজেদের অবস্থান ইতিমধ্যে চুড়ান্ত করতে শুরু করেছে। দিন দিন বিএনপি ও জামায়াত দু’প্রার্থীর ভোট কেটে ছেটে একটি অংশ ভারী হচ্ছে, আরেকটি অংশ ভিতরে ভিতরে আ’লীগ প্রার্থীর থলিতে পড়ছে। কিন্তু আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করায় তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা গোপনে আ’লীগ সমর্থিত একক প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে বিরোধী পক্ষে ভোট প্রদান করার পরামর্শ দেওয়ার কথা প্রচার হচ্ছে। তবে এবারের ভোটের ফলাফল যে হাড্ডা-হাড্ডি পর্যায়ে যেতে পারে এবং লড়াইটা দ্বিমুখী হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল ধারণা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের একক প্রার্থী প্রভাষক হিরুলাল বিশ্বাস, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান জি,এম মতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক জূলফিকার আলী জুলি, জামায়াতের উপজেলা সম্পাদক এড. শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, সাংবাদিক শেখ জাহিদুল ইসলাম তোতা ও শিক্ষক মাহফিজুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখানে জামায়াত ও আ’লীগ প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও জামায়াত, বিএনপি ও আ’লীগ প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন নাসিমা আক্তার, বিএনপি নেত্রী শিক্ষিকা জাহানারা কুদ্দুস, আ’লীগ সমর্থিত মজিদা খানম ও শায়লা পারভীন মাঠে থাকলেও দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভানা বিরাজ করছে। কারণ আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে অনেকেই গতবারের মত মাঠে দেখা পাননি বা হদিস মিলছে না। তারপরও আ’লীগ সমর্থিত মজিদা খানম ও বিএনপি সমর্থিত জাহানারা কুদ্দুস’র মধ্যে লড়াই হওয়ার বিষয় সচেতন মহল মনে করছে।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৮৪ টি ভোট কন্দ্রের ৪৪৪ টি বুথে এবার ভোট গ্রহণ করা হবে। ১লক্ষ ৯২ হাজার ২৭৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৬ হাজার ৮২৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৯২ হাজার ৪৫০জন।
১৯৮২ সালে উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন হওয়ার পর প্রথম স,ম সালাহউদ্দীন (জাতীয়পার্টি), ১৯৯০ সালে ২য় বার অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোশারফ হোসেন (জামায়াত) নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করে। ১৯৯৬ সালে আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে উপজেলা পদ্ধতি চালু করে কিন্তু ঐ সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯ বছর পর ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি ৩য় বারের মত উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত নির্বাচনে জয়লাভ করেন আ’লীগের এবিএম মোস্তাকিম। ভোট পান ৮৭ হাজার, অপর দিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ডাঃ মোখলেছুর রহমান ৪০ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন। মূলতঃ আশাশুনি উপজেলা পরিষদের আসনটি আ’লীগের আসনই বলা যায় এবং বর্তমানে আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় ভোটাররা যদি একটু উন্নয়ন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তবে আ’লীগ প্রার্থীই জয়লাভ করবে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

শেখ তানজির আহমেদ/আহাদুজ্জামান আহাদ: কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত সভায় ওই ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রাশসক (সার্বিক) ও উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাসীন আলীর সভাপতিত্বে জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেনসহ মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ও কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ওয়াহেদুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদ মেহেদী, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মোফাখখারুল ইসলাম নিলু এবং আব্দুল খালেক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নব পারভীন।
অতিরিক্ত জেলা প্রাশসক (সার্বিক) ও উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাসীন আলী পত্রদূতকে এ সব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঋণ খেলাপি, সব সার্টিফিকেট দাখিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঘোষিত দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ ওয়াদেুজ্জামান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইদ মেহেদীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ঘোষিত দলীয় প্রার্থী জোহরা কান্টু মনোনয়নপত্রই দাখিল করেননি।
৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী রইলেন জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মোজাহার হোসেন কান্টু, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার ও জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান।
ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রইলেন- আব্দুল হামিদ সরদার, জামায়াত নেতা আব্দুর রউফ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রিয়াজউদ্দিন, লতিফুর রহমান খান ও বিএনপি নেতা শরিফুল আজাদ।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রইলেন- আওয়ামী লীগের জেবুন্নাহার, আওয়ামী লীগের শাহিদা সুলতানা, বিএনপির ডলি ইসলাম ও আওয়ামী লীগের রোজিনা পারভীন।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ ওয়াহেদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি আজ আপীল করবেন বলে জানিয়েছেন।

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: কলারোয়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগে সরগরম গ্রামীণ জনপদ

কলারোয়া প্রতিনিধি: আগামী ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য কলারোয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করেছেন গণসংযোগ ও মতবিনিময়।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ৪ প্রার্থী উপজেলাব্যাপী ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিএনপি ও জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোনো গণসংযোগ এখনো দৃষ্টিগোচর হয়নি। আওয়ামী লীগের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ফিরোজ আহমেদ স্বপন চেয়ারম্যান পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আরাফাত হোসেন গণসংযোগ চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া দেয়াড়ার প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলামের সহধর্মিনী মিসেস সেলিনা আনোয়ার ময়না মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নসহ অসমাপ্ত নানা কাজ সম্পন্ন করা বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। গ্রামীণ জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে জনসাধারণের সাথে তাঁরা কুশল বিনিময় করছেন। তাঁরা শরিক হচ্ছেন এলাকার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে।
সোমবার সন্ধ্যায় কলারোয়ার সীমান্তবর্তী চন্দনপুর বালিকা বিদ্যালয় ময়দানে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় করার আহবান জানান। তিনি দলীয়ভাবে নির্ধারিত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য সকলকে একযোগে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শওকত আলি খাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যাপক এমএ ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হামিদ সরদার, লাঙ্গলঝাড়া ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএ কালাম, আ.লীগ নেতা এ্যাড আলি আহম্মদ, প্রভাষক আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক রুস্তম আলি, উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক হাসান মাসুদ পলাশ, বাবু সিদ্ধেশ্বর চক্রবর্তী, সেলিম রেজা, হারেস মো. পরশ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলাম।
অপরদিকে রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গণসংযোগ করেন সম্ভাব্য ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু। রাতে তিনি চন্দনপুরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। তিনি সকলকে দলীয় সংহতি বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান। এবারের উপজেলা নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ৪ প্রার্থী সক্রিয় থাকলেও মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। তেমন দৃশ্যমান হয়নি বিএনপি ও জামায়াতের কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী গণ সংযোগ। এছাড়া উপজেলা জাসদ’র সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণ করতে অনেকটা নীরবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদপত্রের মাধ্যমেও তিনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানান, জেলা জাসদ’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক। তিনি স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চান বলে জানান। সবমিলিয়ে নির্বাচনী গরম হাওয়া লাগতে শুরু করেছে উপজেলার গ্রামীণ জনপদে। প্রতিদিনই নির্বাচনী উষ্ণতায় সরগরম হচ্ছে পল্লীর নিভৃত হাট-বাজার।