শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৪ দিনব্যাপী একুশে বই মেলা উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান একুশে ফেব্র“য়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ৪ দিনব্যাপী বই মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহাসিন আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান। বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে বই মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) লস্কার তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র এম এ জলিল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ রাশিদুল হোসেনসহ সাতক্ষীরা কালেক্টরেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং মেলায় আগত দর্শক শ্রোতাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা মানুষের অমূল্য সম্পদ। আর শিক্ষা লাভের জন্য আমাদের বেশি বেশি বই পড়তে হবে। বই মানুষের জ্ঞানকে সমাদৃত করে। এজন্য আমাদের উচিত মানুষকে বই উপহার দিয়ে তাদেরকে জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করা। তাহলে আমরা একটি শিক্ষিত জাতি গড়তে সক্ষম হবো।

আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে শাহ আলম সভাপতি ও আব্দুস সাত্তার সম্পাদক নির্বাচিত

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এড. এম শাহ আলম ২৬৯ ভোট পেয়ে সভাপতি ও এড. শেখ আব্দুস সাত্তার ২২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা হতে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হয়। রাত পৌনে ১২টায় ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. এসএম হায়দার।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে এড. এম শাহ আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী এড. আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১৫৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে এড. শেখ আব্দুস সাত্তারের প্রতিদ্বন্দ্বী এড. ওসমান গনি ১৯৩ ও এসএম আব্দুল বারী ১৭ ভোট পেয়েছেন।
এছাড়া সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন এড. এটিএম বাসারাতুল্লাহ আওরঙ্গী বাবলা। তিনি পেয়েছেন ১৪৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এড. দাশ কার্ত্তিক চন্দ্র ১৩০, এড. মহিতুল ইসলাম ৭৮ এবং এড. শেখ মিজানুর রহমান ৪৯ ভোট পেয়েছেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে এড. মোস্তফা জামান ২৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এড. সৈয়দ জিয়াউর রহমান ১২৭ ভোট পেয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে এড. জালালউদ্দীন ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এড. শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শাহনওয়াজ ১৬২ ভোট পেয়েছেন। সহ-সম্পাদক (লাইব্রেরি) পদে এড. আসাফউদ্দৌলা সুমন ২২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এড. আজিবর রহমান পেয়েছেন ১৭৭ ভোট। সহ-সম্পাদক (ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) পদে এড. জেডএম আব্দুল্লাহ মামুন ২৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী এড. সালাউদ্দীন (২) পেয়েছেন ১৬২ ভোট।
এছাড়া নির্বাহী সদস্যের তিনটি পদে এড. জাহাঙ্গীর আলম ২৬৭, এড. মিজানুর রহমান বাপ্পী ২৭৩ ও এড. আ ক ম শামসুদ্দোহা খোকন ২৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এড. সাধক কুমার ঘোষ পেয়েছেন ২২২ ভোট।
এদিকে, মহিলা সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এড. সালমা আক্তার বানু সালমা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে ৪৪৭ জন ভোটারের মধ্যে ৪৩২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ফলাফল ঘোষণাকালে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য এড. আক্তারুজ্জামান, এড. আনিছুর কাদির ময়না, এড. শাহনওয়াজ পারভীন মিলি ও এড. আব্দুস সবুর।

আপিল নিষ্পত্তি: কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ জন

শেখ তানজির আহমেদ/আহাদুজ্জামান আহাদ: কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ৬ জনের মধ্যে ৪ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে ২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১ জন প্রার্থিতা ফিরে পান।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি সভায় উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাসীন আলী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যুক্তিতর্ক শেষে ৪ জনের বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ দেন। একই সাথে দু’জনের মনোনয়নপত্র স্থায়ীভাবে অবৈধ ঘোষণা করেন।
সভায় জেলা নির্বাচন অফিসার আবুল হোসেনসহ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আপিল করে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ও কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ ওয়াহেদুজ্জামান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মোফাখখারুল ইসলাম নিলু এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়নব পারভীন।
তবে, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদ মেহেদী এবং আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র স্থায়ীভাবে অবৈধ বলে আদেশ দেয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিসান আবুল হোসেন এ সব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোয় ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে আদেশ দেয়া হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ঋণ খেলাপি ও সার্টিফিকেট দাখিল না করায় ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল।
এছাড়া কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মোজাহার হোসেন কান্টু, বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার ও জামায়াত নেতা আজিজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে আব্দুল হামিদ সরদার, জামায়াত নেতা আব্দুর রউফ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ রিয়াজউদ্দিন, লতিফুর রহমান খান ও বিএনপি নেতা শরিফুল আজাদ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের জেবুন্নাহার, আওয়ামী লীগের শাহিদা সুলতানা, বিএনপির ডলি ইসলাম ও আওয়ামী লীগের রোজিনা পারভীনের মনোনয়নপত্র আগেই বৈধ বলে ঘোষিত হয়।

৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : তালায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণায় গড়িমসি, দূরত্ব বাড়ছে!

মজিবুর রহমান, পাটকেলঘাটা: তালা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে দিন-রাত ছুটছেন ভোটার সমর্থক ও কর্মীদের কাছে। ইতোমধ্যে বিএনপি-জামায়াত দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটার-কর্মী, সমর্থকদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশগ্রহণ না করলেও উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। ফলে নির্বাচনী মাঠ হয়ে উঠেছে সরগরম। নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে লবিং-গ্রুপিং। ইতোমধ্যে অনেকেই হাইকমান্ডের কাছে জোর লবিং ও তদবির অব্যাহত রেখেছেন। একই পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সমর্থন অতীব জরুরী হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দিনরাত কাউন্সিলর ও সমর্থকদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সভাপতি-সম্পাদকদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেড়েছে। ইউনিয়নের একাধিক কাউন্সিলর জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সময় ক্ষেপণ করায় কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। সেক্ষেত্রে সুবিধাটা বিরোধীশিবিরে যাবে বলে অনেকের ধারণা। একক প্রার্থী ঘোষণায় ব্যর্থ হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে বলে কাউন্সিলরদের ধারণা।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র গণসংযোগ করছেন। এছাড়া খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রনব ঘোষ বাবলুও প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইখতিয়ার হোসেন, তালা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মীর জাকির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী হোসনেয়ারা বেগম, জেবুন্নেছা বেগম ও মোস্তারী সুলতানা পুতুল গণসংযোগ করছেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের নাম চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত উপজেলা শাখার সাবেক আমীর ডা. মাহমুদুল হককে চেয়ারম্যান, অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলীকে ভাইস চেয়ারম্যান ও আফরোজাকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করবে।
সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, বিএনপি’র একক প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও জামায়াতের সাথে সমোঝাতার চেষ্টা চলছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাধিক প্রার্থী থাকলে তৃণমূল পর্যায়ের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকদের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।

মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: মহাজোট ও ১৯ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহাজোট ও ১৯ দলীয় জোটের একাধিক চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করার পরও জামায়াত দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে ইতোমধ্যে ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের ২ জন প্রার্থী বর্তমানে মাঠে থাকলেও দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর ১ জন প্রার্থী মাঠে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদের নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দলীয় প্রার্থী হওয়ার গ্র“পিং লবিং চালানোর পাশাপাশি ভোট চাওয়া শুরু করেছেন। আগামী ২৪ ফেব্র“য়ারি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের আগে এই ২ জনের মধ্যে যে কেউ মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে ঘোষিত হবেন। এজন্য ইতোমধ্যে উভয় প্রার্থীর পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় কাউন্সিলরদের তোয়াজ খাতির শুরু হয়েছে। এছাড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা একের পর এক বৈঠক করে তৃণমূল পর্যায়ের মতামত নেওয়ার আগেই উভয়প্রার্থীর মধ্যে যে কোন ১ জনকে মনোনিত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা যায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ২২ ফেব্র“য়ারির মধ্যে শীর্ষ নেতা নেতৃবৃন্দের চেষ্টা সফল না হলে ২৪ ফেব্র“য়ারির আগেই তৃনমূল পর্যায়ের ৪৫০ জন দলীয় কাউন্সিলরের মতামত গ্রহণ করে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ ও মহিলা পদেও একক প্রার্থী একই পদ্ধতিতে দেওয়া হবে। এই পদে বর্তমানে পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে প্রভাষক মিকাইল হোসেন ও গোপাল মল্লিক এবং ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা পদে নাজমা খানম ও রীতা পাড়ে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জানাগেছে, ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী হওয়ার জন্য জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুছা, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ্যামকুড় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মশিউর রহমান, থানা যুবদল’র সাধারণ সম্পাদক সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক ও জামায়াত দলীয় জেলা নেতা এ্যাড. গাজী এনামুল হক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই জোটের প্রধান দল বিএনপি ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের মতামত গ্রহণ করে বিএনপির ৩ প্রার্থীর মধ্যে এসএম মশিউর রহমানকে দলীয় ও ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। ঘোষিত প্রার্থীকে ইতোমধ্যে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিস্তার ফারুক সমর্থন দিয়েছেন। তিনি তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন বলে মত প্রকাশ করেছেন। মো. মুছা এখনো স্পষ্ট করে কোন ঘোষণা দেননি। এ রিপোর্ট লেখার সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘোষিত প্রার্থী মশিউর রহমান তার নির্বাচনী নেতা-কর্মীদের নিয়ে মুছার বাসায় বৈঠক করছিলেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নির্বাচন করার জন্য তার রাজনৈতিক গুরু হিসাবে পরিচিত মো. মুছার সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ সময় মুছা মুঠোফোনে জানান, দলীয় ঘোষিত প্রার্থীর সঙ্গে তার আলোচনা চলছে। তাকে সমর্থন করার ব্যাপারে তার মৌন সমর্থন রয়েছে।
এদিকে ১৯ দলীয় জোটের দ্বিতীয় শক্তির দল জামায়াত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের ২টি পদে তথা ৩ পদে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এই দলের চেয়ারম্যান পদে এ্যাড. গাজী এনামুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ প্রভাষক ফজলুল হক, প্রভাষক সেলিম জাহাঙ্গীর ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে থানা মহিলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক গুলবদন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না বলে জানা গেছে। তবে ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ পদে যে কোন ১ জনের মনোনয়নপত্র ২৪ ফেব্র“য়ারি প্রত্যাহার হবে বলে জানা গেছে। এই দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাড. গাজী এনামুল হক মুঠোফোনে জানান, জামায়াতের দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এককভাবে সকল পদে এই উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

আজ অমর একুশে

পত্রদূত রিপোর্ট: আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্র“য়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারিÑ ভোলেনি বাঙালি জাতি। একুশে ফেব্র“য়ারি জাতির জীবনে চিরভাস্বর একটি দিন। অকুতোভয় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মত মৃত্যুঞ্জয়ী ভাষাসৈনিকের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি আজ। প্রতিটি বাঙালির বুকে বেজে উঠবে সেই চিরঅম্লান কবিতা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি’। রাত বারোটা এক মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর থেকেই শোকের ও শ্রদ্ধার প্রতীক সাদাকালো পোশাকে, খালি পায়ে, শিশিরসিক্ত পথ মাড়িয়ে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই শামিল হতে শুরু করেছেন শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।
মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে বুকের রক্ত ঢেলে বাঙালি জাতি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের যে নিদর্শন স্থাপন করেছিলÑ সেই দিনটি আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে। বিশ্বের সকল জাতিসত্তার ভাষা রক্ষার দিন হিসেবে জাতিসংঘ বেছে নেয় ১৯৫২ সালের বাঙালি জাতির ভাষার লড়াইয়ের দিন সেই ২১ ফেব্র“য়ারিকে।
মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই ১৯৪৭ সালে। ১৯৪৭ সালের ১৭ মে হায়দরাবাদে এক উর্দু সম্মেলনে মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা হবে উর্দু’। তার সঙ্গে গলা মেলান আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন। প্রতিবাদে ২৯ জুলাই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ‘আজাদ’ পত্রিকায় বলেন, ‘বাংলাই হওয়া উচিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, তবে দুইটি রাষ্ট্রভাষা করা গেলে উর্দুর কথা বিবেচনা করা যায়।’ শুরু হয় ভাষার জন্য আন্দোলন। মূলতঃ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এই আন্দোলন রূপ পায় অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ সংগ্রাম পরিষদ সারা পূর্ববঙ্গে ধর্মঘট আহ্বান করে। ১৯ মার্চ কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। এ বছরই ২১ মার্চ তিনি রেসকোর্স ময়দানে দেয়া বক্তৃতায় বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোন ভাষা নয়।’ ২৩ মার্চ জিন্নাহর বক্তৃতার সমালোচনা করে এ কে ফজলুল হকের বিবৃতি প্রচারিত হয়। ২৪ মার্চ কার্জন হলে জিন্নাহ ভাষা সম্পর্কে তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলে ‘নো’, ‘নো’ বলে প্রতিবাদ করে ওঠেন ছাত্ররা। দিন দিন তীব্রতর হতে থাকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন।
১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে পূর্ববঙ্গের প্রধানমন্ত্রী নূরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। পাকিস্তানকে আমরা ইসলামী রাষ্ট্ররূপে গঠন করতে যাচ্ছি।’ কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রদেশের ভাষা কী হবে তা প্রদেশবাসীই স্থির করবেন, কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। একাধিক রাষ্ট্রভাষা থাকলে কোন রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।’ খাজা নাজিমুদ্দিনের এই মন্তব্যটুকুই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের দাবানল সৃষ্টির পক্ষে যথেষ্ট ছিল। এর প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠিত হয়। ৪ঠা ফেব্র“য়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা শহরের সকল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা উর্দুকে পাকিস্তানে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করা এবং আরবি হরফে বাংলা ভাষার প্রচলনের চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করে। আর ২১ ফেব্র“য়ারিতে প্রদেশব্যাপী ধর্মঘট করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ২০ ফেব্র“য়ারি সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। এতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য পিছিয়ে গেলেও ছাত্রদের দৃঢ়তায় একুশে ফেব্র“য়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয়। ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পুলিশ ছাত্রদের মিছিলে গুলি চালায়। এতে নিহত হন রফিক, সালাম, জব্বার, সফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। এর পরে সারা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে ভাষা আন্দোলন।

বিনম্র শ্রদ্ধায় একুশের প্রথম প্রহর উদযাপিত

শহীদুল ইসলাম: বর্ণে বর্ণে বর্ণমালা। বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে যে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো, সেই রাজপথে বর্ণমালার ছড়াছড়ি। শিল্পীর রং তুলির আঁচড়ে নিখুঁত আল্পনা। মনের মাধুরিতে রাজপথ হয়েছে শিল্পীর ছবি আঁকার ক্যানভাস। সাতক্ষীরার সর্বত্র মহান একুশের চেতনাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে রাজপথ থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত বর্ণে বর্ণে বর্ণমালায় সাজানো হয়। একুশ আমার অহংকার। একুশ আমার গর্ব। একুশের চেতনা, হারিয়ে যেতে দেব না। সালাম, রফিক, জব্বার ভাই, আমরা তোমাদের ভুলি নাই………। এভাবে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত সাতক্ষীরার রাজপথ থেকে শহীদ মিনার। মনের সব আবেগ উজাড় করে দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষ। ফুলে ফুলে ভরে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহীদ মিনারের বেদি। মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানমালা। ২০ ফেব্র“য়ারি বিকেলে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় বই মেলা। সুর-ছন্দ-নৃত্য ও আবৃত্তির আবেশে শিল্পীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মহান ভাষা সৈনিকদের। অন্যায়-অপশক্তির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার আহ্বান জানান বক্তারা। একুশের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালনের মধ্য দিয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্র্যমুক্ত সুখি-সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা। স্বাধীনতা বিরোধী ও অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা। প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা ‘বাংলা’কে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিয়ে প্রমিত উচ্চারণ ও বানানরীতি অনুসরণ করার আহ্বান ছিলো অন্যতম। নৈরাজ্য-নাশকতার বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষ আবদ্ধ হন ঐক্যের বন্ধনে। সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শ্লোগান, জেগে ওঠার আহ্বান আর বদলে যাওয়ার জয়গানে মুখরিত হয়ে ওঠে শহীদ মিনার চত্বর।
রাত ১২টা। লোকে লোকারণ্য শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। লক্ষ প্রাণের মিলনমেলা। মিছিলে মিছিলে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত শহীদ মিনার চত্বর। রাত ১২টা ১ মিনিট। নিস্তব্দ, নির্বাক সবাই। পিনপতন নীরবতা। সে নীরবতা ভেঙ্গে সবাই এক সুরে গাইলেন সেই চিরচেনা অবিনাশী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? ছেলে হারা শত মায়ের অশ্র“ গড়া এ ফেব্র“য়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?……….।’ শোকাবহ পরিবেশে সুরের মূর্ছনা থামতেই শহীদ মিনার বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের প্রথম প্রহর উদযাপন করা হয়। শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরার নবনির্মিত শহীদ মিনারের রূপকার ও সাতক্ষীরার সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক ড. মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, সাতক্ষীরা পৌরসভা, ৭১’ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, দৈনিক পত্রদূত, দৈনিক কালের চিত্র, দৈনিক কাফেলা, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক সমকাল, বার্তা সংস্থা এফএনএস, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিস, জেলা বিএনপি, জেলা জাতীয় পার্টি, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টি, জেলা জাসদ, জেলা বাসদ, জেলা শ্রমিকলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, প্রজন্মলীগ, সৈনিকলীগ, মহিলা লীগ, জেলা যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, জেলা ছাত্রমৈত্রী, জেলা জাতীয় ছাত্রসমাজ, শহীদ আলাউদ্দিন পরিবার, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ, সাতক্ষীরা কর্মাস কলেজ, সুন্দরবন সায়েন্স এন্ড বিজনেজ কলেজ, পিএন স্কুল এন্ড কলেজ, পলাশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মর্নিং সান প্রি-ক্যাডেট স্কুল, সাতক্ষীরা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, এলজিইডি, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন, সাতক্ষীরা রিপোর্টাস ক্লাব, সাতক্ষীরা উদীচী শিল্পগোষ্ঠী, লিনেট ফাইন আর্টস, বর্ণমালা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, গণশিল্পী সংস্থা, চেম্বার অব কমার্স, সদর উপজেলা পরিষদ, সাতক্ষীরা সদর থানা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি ব্যাংক, সনাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জেলা মন্দির সমিতি, মহিলা পরিষদ, যুবমৈত্রী, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ট্রাক ট্যাংলরি শ্রমিক ইউনিয়ন, সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, আজাদী সংঘ, রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলনী পরিষদসহ অর্ধ শতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
একুশের প্রথম প্রহরে সাতক্ষীরায় নবনির্মিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে কলকাতা থেকে আসেন বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক কৃষ্ণা ঘোষ, রুবি গান্ধী, অরবিন্দ ঘোষ, সুখেন্দ্র চৌধুরীসহ কয়েকজন বরেণ্য অতিথি।
পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তারা মনের আবেগ উজাড় করে প্রকাশ করেন তাদের অভিব্যক্তি।
এতে বাংলাদেশের প্রতি এবং বাংলাভাষার প্রতি তাদের গভীর মমত্ববোধের পরিচয় ফুটে ওঠে।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনসুর আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, পৌর মেয়র এমএ জলিল, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এনামুল হক বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, মুক্তিযোদ্ধা আবু নাছিম ময়না প্রমুখ।

সিটি কলেজে মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত না করায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সিটি কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও ২১ শে ফেব্র“য়ারি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত না করায় অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে খোলা মাঠে অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আছাদুজ্জামানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানের আহবায়ক করা হয়েছে কলেজের শিক্ষক আব্দুল কাদের মৃধাকে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্যাম্পাসে কলেজ প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অবহিত না করে এবং কলেজ শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানের সম্পৃক্ত না করায় তারা অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু আহমেদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। সকালে কলেজের কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি বলেন, আমি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান করার কথা বলেছি। অনুষ্ঠানে কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু এ বিষয়ে সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য যারা কাজ করছিল সকালে তাদের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তারপরও ঘোষণা অনুসারে খোলা মাঠে অনুষ্ঠান করা হবে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ছাত্রমৈত্রীর আলোচনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় পুরাতন আইনজীবী ভবনে বিশ্বজিত বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি। তিনি বলেন, ছাত্র মৈত্রী ছাত্র সমাজের কাছে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন। মেহনতী মানুষের সন্তানদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। মহান ভাষা আন্দোলনে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত করার আহবান নিয়ে ১৯৫২ সালে গড়ে উঠে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন। তারই ধারাবাহিকতায় এবং উত্তরাধিকার বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী’র কর্মীরা গড়ে তুলেছে নিজেদেরকে এবং জনমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এড. ফাহিমুল হক কিসলু, অধ্যাপক সাগীর হোসেন, এড. আল মাহমুদ পলাশ, স্বপন কুমার শীল, অধ্যাপক পাল সুভাশীষ, সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, মফিজুল হক জাহাঙ্গীর, অম্বিক মন্ডল, দিপংকর মন্ডল, জগদীশ সরকার, নয়ন মন্ডল, তাহমিদ হাসান, দিপক বিশ্বাস প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দেবাশীষ মন্ডল।

সদর এমপির দিবা-নৈশ কলেজ পরিদর্শন

সাতক্ষীরা সদর আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহম্মেদ রবি বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজ পরিদর্শন করেছেন। এ সময় কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ, উপাধ্যক্ষ ময়নুল হাসানসহ কলেজ শিক্ষকবৃন্দ এমপি মহোদয়কে অভ্যর্থনা জানান।
পরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় কলেজ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাক আহম্মেদ রবি এমপি।
আরও বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ ময়নুল হাসান, প্রভাষক আনিসুর রহিম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়র কবির আহম্মেদ, তৌহিদুর রহমান ডাবলু, মোকসুমুল হাকিম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মাগুরায় গলদা চাষীদের প্রশিক্ষণ

খলিষখালী প্রতিনিধি: বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তালার মাগুরাস্থ সাস কার্যালয়ে গলদা চাষের উপর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শাখা ব্যবস্থাপক ফরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন তালা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও সংস্থার আইজিএ কর্মকর্তা বদরুল আলম। প্রশিক্ষণে প্রকল্পের উপকারভোগী তালা, মাগুরা ও খলিষখালী ইউনিয়নের ১৫ জন মহিলা গলদা চাষী অংশ নেন। গলদা চাষীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মিহির কান্তি ঘোষ, জাহাঙ্গীর আলম, প্রকল্প সন্ময়কারী একেএম গোলাম ফারুক ও মৃনাল কান্তি সরকার।

খলিষখালীতে জামায়াত কর্মীর কারাদণ্ড

শাহিন আলম, খলিষখালী: নাশকতা সৃষ্টির দায়ে জামায়াত কর্মী আব্দুর রাজ্জাক (৪৫) কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিকুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এ সাজা দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আব্দুর রাজ্জাক তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার গাজীর ছেলে ও কাশীয়াডাঙ্গা মাদ্রাসার সুপার।
পাটকেলঘাটা থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করছেন।

গাছা হাইস্কুলের সভাপতি সুশান্ত মন্ডলকে অভিনন্দন

খলিষখালী প্রতিনিধি: তালার গাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে সুশান্ত মন্ডল সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সত্যরঞ্জন সরকার, অন্নদা মন্ডল, রঞ্জন কুমার, রথিন্দ্রনাথ মন্ডল, গুরুপদ মন্ডল, মোমল কান্তি মন্ডল, গোপাল মন্ডল, গনেষ চন্দ্র বাছাড়, রাখাল চন্দ্র বাছাড়, চন্দনা বাছাড়, রবিন্দ্রনাথ মন্ডল, পঙ্কজ রায়, দেবাশিষ বাছাড়, ভুপতি সরকার, রঞ্জিত রায়, ভদ্রকান্ত রায়, অশোক মেম্বর প্রমুখ।

তালায় ছাত্রলীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আব্দুল জব্বার, তালা: নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে তালায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
তালা উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকালে তালা উপশহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। দলীয় শত শত নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রটি তালা উপশহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে স্থানীয় তালা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এক আলোচনা সভা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমান’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় (তালা-কলারোয়া) সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। সভায় প্রধান ও বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, যথাক্রমে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হুসেইন সুজন ও সাধারণ সম্পাদক এহসান হাবিব অয়ন। তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএম ফজলুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল শুভ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার ফিরোজ আহম্মেদ, তালা উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, আ.লীগ নেতা পিএম গোলাম মোস্তফা, প্রণব ঘোষ বাবলু, সাতক্ষীরা জেলা কৃষকলীগ’র সভাপতি বিশ্বজিত সাধু, তালা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার জাকির হোসেন, উপজেলা শ্রমিকলীগ’র সভাপতি সূর্য্যকান্ত পাল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবল হোসেন, মহিলালীগ’র নেত্রী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তারী সুলতানা পুতুল, জেবুন্নেছা বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ, সোহাগ, শেখ সাদী, গোবিন্দ সেন, তুহীন, সাজ্জাত ও আসাদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতৃবৃন্দ একটি কেক কেটে একে-অপরের মুখে তুলে দেন। সভায় বিভিন্ন সংগঠন থেকে রাশেদ, ইন্দ্রজিৎ, আরিজুল. রিপন, শামীম, মাসুম, আরিফ, প্রবীর, হালিম ও আব্দুর রহমান’র সমন্বয়ে ছাত্রনেতারা ছাত্রলীগে যোগদান করেন।

তালায় এসিড সারভাইভরদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

বৃহস্পতিবার স্বদেশ ও একশন এইডের সহযোগিতায় এবং সেতু বন্ধন গড়ি নেটওয়ার্কে আয়োজনে তালা উপজেলার ২০ জন এসিড সারভাইভরদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। সেতু বন্ধন নেটওয়ার্কের পক্ষে আহবায়ক পূর্ণিমা মন্ডল এবং স্বদেশ’র পক্ষে শীতবস্ত্র বিতরণে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার হিসাব রক্ষক আব্দুল আলিম। প্রেস বিজ্ঞপ্তি