জেনে শুনে আইন অমান্য করে বাল্যবিয়ে দেয়ার অপরাধে জরিমানা ১ হাজার টাকা!


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩, ২০১৭ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: জেনে শুনে বুঝে আইন অমান্য করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন কালিগঞ্জের মৌতলা কাছারিপাড়ার মীর জাকির হোসেন। অন্তত: এইচএসসি পাশ করার পর তাকে বিয়ে দেয়ার জন্য পিতা-মাতার পা ধরে আকুতি জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি।

 

বরং শারীরিক ও মানসিক ভাবে নিগ্রহ করার পর নাশকতা মামলার আসামি ও মাদকাসক্ত এক ছেলের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেয়া হয় ওই কলেজ ছাত্রীর।
এলাকাবাসী জানান, মীর জাকির হোসেন গত ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে মৌতলা শিমু-রেজা এমপি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়ে লিমা আক্তারের (১৭) সাথে উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের ইটভাটা মালিক বাবলু হোসেনের মাদকাসক্ত ছেলে বাদশা হোসেনের (২৮) বিয়ের সময় ধার্য করেন। প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে এসএসসি’র সার্টিফিকেট অনুযায়ী ওই ছাত্রীর বয়স ১৭ বছর হওয়া সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে বিয়ে বন্ধ না করে চলে আসেন। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানকেও জানানো হয়। কিন্তু কোটিপতি ভাটা মালিকের ছেলের সাথে নির্দ্ধারণ হওয়া বাল্য বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নানা নাটকিয়তার পর সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি করে বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়। চাঞ্চল্যকর এই বাল্য বিয়ের বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে গাত্রদাহ শুরু হয় মেয়ের পিতা মীর জাকির হোসেনের। তিনি সাংবাদিকদের ‘সাইজ’ করার জন্য লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে বলে আস্ফালন করেন। বাল্যবিয়ে বন্ধে পদক্ষেপ না নেয়ার বিষয়টি পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি বাল্যবিয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সংবাদকর্মীদের জানান। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দশ দিন পর গত ২ জানুয়ারী সোমবার অপ্রাপ্ত মেয়েকে বিয়ে দেয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান মেয়ের পিতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ১ হাজার টাকা জরিমানা করে দায় থেকে অব্যাহতি দেন। তবে পাত্রপক্ষকে কোনরূপ শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানা গেছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেয়ার অপরাধে লিমা আক্তারের পিতাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান, ঠান্ডা মাথায় সরকারি আইন অমান্য করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেয়া হলো। আবার পাত্রপক্ষও আইন অমান্য করতে পিছপা হয়নি। এমনিতেই কিছু জনপ্রতিনিধি ভোট আর স্বজনপ্রীতির কারণে বাল্যবিয়ে বন্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে বরং সহায়তা করছে। অপরদিকে প্রশাসনকে জানালেও যথাসময়ে পদক্ষেপ না নেয়ায় একের পর বাল্যবিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, আইন অনুযায়ী বাল্যবিয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিয়ের পর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে শাস্তি প্রদানের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাল্যবিয়ের পরবর্তী সময়ে শাস্তি প্রয়োগের নজির খুব কম। সেই কারণে অপ্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে বাল্যবিয়ে হচ্ছে। আলোচিত লিমা আক্তারের বিয়ের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে মেয়ের পিতার নিকট থেকে এক হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এখন অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর এক হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে রেহাই পাওয়ার যে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হলো তাতে বাল্যবিয়ে দেয়ার ভয়-ভীতি থেকে অভিভাবকরা বের হয়ে মহা উল্লাসে এরকম বিয়ে দেয়া অব্যাহত রাখবেন এলাকার সচেতন মহলের মাঝে এমন আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।